ভিসা জটিলতায় হাজারো সৌদি প্রবাসী, প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ ও সমাধান

আওয়ার বাংলাদেশ ২৪
প্রকাশিত অক্টোবর ২, ২০২০
ভিসা জটিলতায় হাজারো সৌদি প্রবাসী, প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ ও সমাধান

মাওলানা তৈয়ব উল্লাহ নাসিম

মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের এই কদিনের ব্রিফিং ইত্যাদি দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এই দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত যারা আছেন তারা প্রবাসীদের কফিল বা স্পন্সর এবং পারমিট প্রক্রিয়ার বাস্তবতা সম্পর্কে কোন ধারণা রাখেন না। যে প্রক্রিয়ার কথা তারা বলছে, তাতে করোনায় আটকা পড়া ৫০% এর অধিক লোক হয়তো আর সৌদি আরব প্রবেশ করতে পারবে না।

আমাদের দেশের সরকারের কোনো একটি পুরো বিভাগ স্বপ্রণোদিত হয়ে আন্তরিকতার সাথে নিজেদের দায়িত্বগুলো ঠিকভাবে আঞ্জাম দেন বলে মনে হয় না। ব্যক্তিগতভাবে কেউ কেউ হয়তো নিজের সর্বোচ্চটা দিতে চেষ্টা করেন, কিন্তু একা একা পেরে ওঠেন না। পরিকল্পনা করে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগে কারো কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয় না। কাজটা একদম নাকের ডগায় যখন চলে আসে, তখন তারা একটু নড়চড় হয়ে বসেন আর দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। এতে করে কাঙ্খিত ফলাফল কখনো পাওয়া যায় না। ক্ষতিগ্রস্ত হয় অসহায় অভিভাবকহীন ভুক্তভোগীরা।

করোনা পরিস্থিতি যখন উন্নতির দিকে যাচ্ছিলো, তখন থেকেই প্রবাসীদের ভিসা সংক্রান্ত ব্যাপার গুলো নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে, এগুলো নিয়ে ভাবার দরকার ছিল। কিন্তু তার কিছুই হয়নি, যা বোঝা যাচ্ছে ফ্লাইট সংক্রান্ত এখনকার মিটিংগুলো থেকে এবং সৌদিয়া এয়ারলাইনস ও বাংলাদেশ বিমানের নিজেদের মধ্যে অনুমতি এবং পাল্টা অনুমতির অবস্থা দেখে।

অন্যান্য দেশ যেখানে নিজেদের লোকগুলো কিভাবে দ্রুত সৌদি আরবে প্রবেশ করানো যায় সে সুযোগ খুঁজছিলো, সেখানে বাংলাদেশ সুযোগ পেয়েও বিমানকে কিভাবে সুযোগ করে দেয়া যায় না যায় এগুলো নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থেকেছে!

প্রবাসীদের কফিল স্পন্সর পারমিট এগুলো কাগজে-কলমে একরকম আর বাস্তবতা ভিন্ন রকম।
সাধারণত অনেক প্রবাসী যা ৫০% অধিক হবে, তারা একযুগ প্রবাসে কাটিয়েও নিজেদের স্পন্সর বা কফিলকে এখনো দু চোখে দেখেনি কিংবা চেনে না। বিভিন্ন অফিসের মাধ্যমে অথবা কারো ভায়া হয়ে তাদের কাগজপত্রগুলো নবায়ন ইত্যাদি করিয়ে থাকেন। বর্তমান জটিলতায় যেহেতু কফিলই ভিসা সংক্রান্ত ঝামেলায় প্রধান ভরসা, সে ক্ষেত্রে তারা ফেঁসে যাচ্ছে।

মাধ্যম হয়ে কাজ করা অফিস গুলো ভালো রকমের পয়সা নেয় এসব কাজের জন্য।
অফিসের মাধ্যমে কফিলের সাথে কেউ কেউ যোগাযোগ করতে পারলেও অনেক কফিল বর্তমান অবস্থায় সৌদি আরবের আইন কানুনের কঠোরতা ইত্যাদি দেখে হয়তো তার লোক না আসলেই সে খুশি, এজন্য ভিসার সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবে না। এক্ষেত্রে একমাত্র সমাধান হল সরকারি পর্যায়ে সৌদি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করে অটো ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে পারা। অথচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কি সাবলীলভাবেই না ব্রিফিংয়ে বলে দিচ্ছেন, স্পন্সরের যদি লোকের প্রয়োজন না থাকে, সে যদি আগ্রহ না দেখায়, তাহলে আর সেখানে কি করার আছে! রাষ্ট্রের যেখানে অভিভাবক হওয়ার কথা ছিল, সেখানে দেখা যাচ্ছে তার উল্টো।

 

লেখক:  মাওলানা তৈয়ব উল্লাহ নাসিম
উপদেষ্টা, আওয়ার বাংলাদেশ টুয়েন্টিফোর ডটকম।    

Sharing is caring!