উদারতা ও মধ্যপন্থা: [মাওলানা গোলাম সারোয়ার সিরাজী]   

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০
উদারতা ও মধ্যপন্থা: [মাওলানা গোলাম সারোয়ার সিরাজী]   

ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় একটি দল । একটু উদার হতে পারলে , কাজের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করলে সম্ভাবনার দার দ্রুত উন্মোচিত হবে ইনশাআল্লাহ । কথার উদার নয়, মনের উদারতার কথা বলছি । সকল কর্মী সমর্থককে উদারভাবে সকলকে গ্রহণ করার জজবা তৈরি করতে হবে । এ ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি । শত সত্য কথা । দাওয়াত – তাবলীগ বাংলাদেশের শিকড়ে গাঁথা একটি দীনি সংগঠন । তাদের রাজনৈতিক অভিলাষ নাই । তাদের ভোট নিতে হলে তাদের সাথে মিশে থাকতে হবে । সকল কর্মী সমর্থককে তাবলীগের সাথীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ এবং তাবলীগের পাঁচ কাজের সাথে শরীক হতে হবে । মুহতারাম আমির, নায়েবে আমিরের মাহফিলগুলোতে তাবলীগের প্রসংশা করে বয়ান থাকতে হবে । মুহতারাম আমির, নায়েবে আমির যদি এক বছরে দুইশত মাহফিলে তাবলীগের প্রসংশা করে দুই মিনিট করে বক্তৃতা করেন, এক বছরে কমপক্ষে দশ লাখ ভোট বেড়ে যাবে । জানিনা, উপদেষ্টা মহোদয় গণ কী কাজটা করেন? কেনো মুহতারাম আমির, নায়েবে আমিরকে পরামর্শ দেননা ।

কাওমী উলামাদের সাথে সখ্যতার ঘাটতি আছে ইসলামী আন্দোলনের । উলামা মাশায়েখ আইয়েম্মা কমিটি সে ঘাটতি পুরন করতে পারেনি । প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা, সক্রিয় মাঠ কর্মীসুচি আর জাতীয় প্রোগ্রামের অভাবে । উলামা মাশায়েখ আইয়েম্মা কমিটি কবে সক্রিয় হবে । সভাপতি মহাসচিব বাহির থেকে নেওয়া যায়না? যারা ঢাকার কোনো মাদরাসার প্রখ্যাত মুহাদ্দিস । দেশের কমপক্ষে ৫০ভাগ আলেম কে ইসলামী আন্দোলন মুখি করা না গেলে সফলতা সুদূরপরাহত । মুহতারাম আমির, নায়েবে আমির চাইলে সম্ভব ।

সকল পীর – মাশায়েখ, দরকার- খানকা লাগবে ইসলামী আন্দোলনের । ইত্তেহাদ মায়াল ইখতেলাফ কী বাস্তবায়ন করা যায়না? ভারত পাকিস্তানে তো সম্ভব হলো । বাংলাদেশে পারবে ইসলামী আন্দোলন, যদি রাজনৈতিক সফলতা চায় । কোনো পীর খানকার বিরুদ্ধে বলার দরকার নাই । উদারতার চাদরে সবাইকে ঢেকে নিতে হবে ।

ইখতেলাফি মাসয়ালা বলার জন্য একটি জাতীয় ইফতা বোর্ড দরকার । আহলে হাদীসসহ সমসাময়িক সকল সমস্যার বিষয়ে যা বলার তারা বলবে । আমির, নায়েবে আমির না বললে কোন সমস্যা নাই । বলকে বলাতে সমস্যা হচ্ছে । দ্বিতীয় সারির আলেমদের একটা জমাত তৈরী করা দরকার । পলাপাইনের বিতর্কিত মাসয়ালার জবাব তারা দিবে । শীর্ষ নেতাদের যদি পোলাপাইনের কথার জবাব দিতে হয়, কেমন দেখায় ।

কাজও কথায় মধ্যপন্থা অবলম্বন না করলে নিকটভবিশ্যতে সমস্যা হবে । বলার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা, কাজের ক্ষেত্রেও । ইসলামী আন্দোলনের নেতার বক্তৃতা জাতীয়তাবাদী নেতার বক্তৃতার মত হতে পারবেনা । ভিন্ন হতে হবে । সস্তা জনপ্রিয়তার দরকার নাই । এ জনপ্রিয়তায় ভোট আসেনা । দিকনির্দেশনা মুলক কথা কই । আহবান মুলক কথা আসতে হবে । তরুণদের সামনে সম্ভাবনার দার গুলো দেখাতে হবে । মোটা দাগের পয়েন্টেগুলো তরুণদের মাথায় ঢুকাতে হবে । হযরত নায়েবে আমির তা পারবেন ।

ছাত্র আন্দোলনের জেলা থানা কমিটিতে কত পার্সেন স্কুল কলেজের ছাত্র আছে । কোনো কোনো জেলা থানায় পাঁচ পার্সেন্ট ও নাই । স্কুল কলেজের ছাত্ররা কই শুধু কাওমী -সরকারি মাদরাসার ছাত্র দিয়ে কাজ হবে- না । জেলা থানায় ফিফটি পার্সেন্ট স্কুল কলেজের ছাত্র আনতে হবে ।
অনেক জেলার যুব আন্দোলনের কমিটি দেখলে মনে হয় উলামা মাশায়েখ কমিটি । যুবকরা কই । উদারতার অভাব আর কট্টরপন্থী মানসিকতার কারনে অনেক ছাত্র যুবক কাছে এসেও দূরে সরে যায় । অনেকে এখানে এসে কাওমীয়ানদের সাথে পেরে উঠতে পারেনা । দু চারটা শোপিস দেখিয়ে কেন্দ্র পার পেতে পারে । প্রকৃত সমাধান নয় ।

সকলের জন্য দরজা খুলে দেন । দরজা খুলে রাস্তায় কাঁটা দিবেননা । কাঁটাও সরিয়ে ফেলুন । আগামীর রাজপথ ইসলামী আন্দোলনের ।

লেখক: মুহাম্মদ গোলাম সারোয়ার সিরাজী
সাংগঠনিক সম্পাদক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
কুয়েত শাখা

Sharing is caring!