ইসলামের দৃষ্টিতে থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন

আওয়ার বাংলাদেশ ২৪
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৩১, ২০২০
ইসলামের দৃষ্টিতে থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন

মুহাম্মদ হাসিব উল্লাহ

বর্তমান বিশ্বে থার্টিফার্স্ট নাইট অর্থাৎ ৩১ডিসেম্বর রাতে ইংরেজি নতুন বছরের আগমন উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী যে উৎসব পালন করা হয়, তা কুরআন ও হাদিসের আলোকে সমর্থিত নয়। কেননা, এই উৎসবটি বহু বছর ধরে উদযাপিত বিধর্মীদের একটি সংস্কৃতি। পাশাপাশি, ইসলাম ধর্মের আলোকে সমর্থিত নয় এমন উৎসব ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উৎসব পালন কোন মুসলিমের জন্য বৈধ নয়। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রাচীন পারস্যের পরাক্রমশালী সম্রাট জামশিদ খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ সালে নববর্ষ প্রবর্তন করেন। পরবর্তীতে ব্যাবিলনের সম্রাট জুলিয়াস সিজার খ্রিস্টপূর্ব ৪৬সালে ইংরেজি নববর্ষ প্রচলন করেন। প্রথম দিকে নববর্ষ বিভিন্ন তারিখে উদযাপিত হতো। পরবর্তীতে ১৫৮২সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের পর পহেলা জানুয়ারিতে নববর্ষ উদযাপনের দিন হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়। যার ধারাবাহিকতায় আজও বিশ্বব্যাপী ইংরেজি নতুন বছরের আগমন উপলক্ষে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন
করা হয়। (১)

তবে অপ্রিয় হলেও সত্য যে, বর্তমান সময়ে এই উৎসবটি বিধর্মীদের পাশাপাশি মুসলিমরাও বিভিন্নভাবে উদযাপন করছে। বিশেষভাবে মুসলিম যুব সমাজের মাঝে এর প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়। যেমন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানায়। এছাড়াও, এ রাতে মহল্লায় মহল্লায় কিংবা বিভিন্ন শহরের অলিতে-গলিতে কতিপয় মুসলিম নামধারী যুবসমাজ গান-বাজনা, অশ্লীল নৃত্য, আতশবাজি ফোটানো, ফানুস উড়ানো, ডিজে পার্টি ও কনসার্ট প্রভৃতি বিজাতীয় সংস্কৃতির মাধ্যমে এই উৎসবটি প্রতিনিয়ত উদযাপন করছে।
এমনকি এই উৎসব পালনের নামে সমাজের অসংখ্য ছেলে ও মেয়েদের মাঝে অবাধ চলাফেরা লক্ষ্য করা যায়, যার মাধ্যমে যিনার দ্বার উন্মোচিত হয়। আল্লাহ তা’আলা এ ব্যাপারে ইরশাদ করে বলেন,
“ولا تقربوا الزنی انه کان فاحشة وساء سبیلا”

অর্থাৎ, আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ। (২)

রাসূলুল্লাহ(সাঃ) এর জীবনী, সাহাবীদের জীবনী, তাবেয়ী ও তাবে-তাবেঈনদের জীবনী, চার ইমামের জীবনী, বিখ্যাত মুসলিম মনীষীদের জীবনী এবং বিভিন্ন ইসলামী খেলাফতের শাসনামল পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, তাঁহারা কখনোই বিধর্মীদের সাথে সামঞ্জস্য এমন কোন উৎসব পালন করেননি এবং এমনকি থার্টি ফার্স্ট নাইট নামক উৎসবটিও সমর্থন করেননি। যেমন হাদীসে এসেছে,

عن ابن عمر قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: “‏من تشبه بقوم فهو منهم”‏.

হযরত ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত গণ্য হবে। (৩)

আল্লাহ তা’আলা বলেন,

“قل انما حرم ربی الفواحش ما ظهر منها وما بطن والاثم والبغی بغیر الحق وان تشرکوا بالله ما لم ینزل به سلطنا”

অর্থাৎ, (হে নবী) আপনি বলুন: নিশ্চয়ই আমার রব্ব হারাম তথা নিষিদ্ধ করেছেন প্রকাশ্য, অপ্রকাশ্য অশ্লীলতা, পাপ কাজ, অন্যায় ও অসংগত বিদ্রোহ ও বিরোধিতা এবং আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করা যার পক্ষে আল্লাহ কোন দলীল প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। (৪)

উপরোল্লিখিত আলোচ্য আয়াত ও হাদিসটি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে, মুসলিম ব্যক্তিদের জন্য বিধর্মীদের এই উৎসবটি পালন আল্লাহর পক্ষ হতে সম্পূর্ণ হারাম তথা নিষিদ্ধ এবং যদি কেউ পালন করে তাহলে সে তাদের তথা বিধর্মীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। তাই আমাদের সকলের উচিত বিধর্মীদের এই সংস্কৃতিকে পরিহার করা এবং এটা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা।
পাশাপাশি নিজের সন্তান,পরিবার, আত্মীয়-স্বজনসহ সকলকে এই উৎসব পালন সম্পর্কে ইসলামের অভিমত অবহিত করা এবং সকলকে সতর্ক করা। কেননা আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন,

“یایها الذین امنوا قوا انفسکم واهلیکم نارا وقودها الناس”

হে বিশ্বাস স্থাপনকারীগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকে রক্ষা কর আগুন হতে। (৫)

অতএব, আমাদের সকলের উচিত, ইসলাম সমর্থিত নয় এমন উৎসব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিহার করা এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন গঠন করা। তাহলে দুনিয়াবি জীবনে যেমন আল্লাহর সন্তুষ্টি, রহমত ও কল্যাণ লাভ সম্ভব হবে, তেমনি আখেরাতেও আল্লাহর মাগফেরাত সম্ভবপর হবে।

তথ্যসূত্র:
(১) উইকিপিডিয়া
(২) সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত নং: ৩২
(৩) সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং: ৪০৩১
(৪) সূরা আরাফ, আয়াত নং: ৩৩
(৫) সূরা তাহরীম, আয়াত নং: ৬

লেখকঃ-
মোহাম্মদ হাসিব উল্লাহ
শিক্ষার্থী,দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামীক স্টাডিজ বিভাগ
আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম

Sharing is caring!