সমাজ সংস্কার : আমরা যার প্রতিক্ষায়

আওয়ার বাংলাদেশ ২৪
প্রকাশিত অক্টোবর ২৯, ২০২০
সমাজ সংস্কার : আমরা যার প্রতিক্ষায়

মাও.ছলিম উদ্দীন ভুঞা

মুসলিম নিধন ও রাসূলের (সাঃ) অবমাননা লাল চামড়া ওয়ালাদের স্বভাবে পরিণত হয়ে গেছে। তাদের আচরণই প্রমান করে তাদের ভ্রষ্ট ধর্মীয় চেতনার। তাদের ধর্ম ও ধর্ম বিশ্বাস মিথ্যা ও অসার হওয়ার কারণে পর ধর্ম সহিঞ্চুতা ও উদারতা তারা শিখতে পারেনি। এ কারণেই তারা পাগলা ঘোড়ার মতো আচরণ করে। আফ্রিকার মুসলিম জনপদ গুলো চুষে খাওয়ার পর তারা মহানবীর (সাঃ) পুত পবিত্র চরিত্রে হাত দিয়েছে। আমরা তাদের এহেন নেক্কার জনক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।
কিন্তু ইসলাম! সত্য শান্তি ও নিরাপত্তার ধর্ম-জীবন বিধান। যার আছে ঝকঝকে ও চকচকে একটা কালজয়ী আদর্শ। যা চির সত্য ও চির অম্লান। যার বিকিরণ আদি হতে অন্ত পর্যন্ত। যার ছায়াতলে এসে নীতিবিবর্জিত ও আদর্শহীন পশুস্তরের মানুষ গুলোও হয়েছে আদর্শবান। ইসলামের অনুসারীরা সদা আলোকময় ও দ্বীপ্তিমান। আলোকজ্জ্বল আদর্শের অনুসারীরা অন্যদের মতো কাউকে আঘাত দিয়ে কথা বলে না। এটা আমাদের রাসূলের আদর্শ।
বিরাজমান বিশ্ব পরিস্থিতির জন্য অমুসলিমদের আদর্শহীন পশুত্ব ও হিংস্রতা যেমন দায়ী, মুসলিমদের সার্বিক দূর্বলতা ও কোন অংশে কম দায়ী নয়।
সিংহের জাত মুসলিমরা আজ তাদের বীরত্ব গাঁথা ইতিহাস ভূলে ঝিমিয়ে গেছে। নেতিয়ে গেছে তাদের শৌর্য্যবীর্য্য। এখন আর মুসলিম মায়েরা তাদের সন্তানদেরকে মুসলিম বীরদের কাহিনী শুনায় না। তারা জানেই না শুনাবে তো পরের কথা। তারা নিজেদের নীতি ও আদর্শকে বিষর্জন দিয়ে হতাশায় নিমজ্জিত। রাসূলের (সাঃ) সুন্নাহকে নির্বাসনে পাঠিয়ে (হিন্দুদের পূজা-পার্বনের মতো) কিছু লোক দেখানো আচার-অনুষ্ঠানে “রাসূল প্রেম”কে সীমাবদ্ধ করেছে। শাসকরা লালচামড়া ওয়ালাদের দালালি করছে বিচক্ষনতার তকমা দিয়ে। যার কারণে শাসক-শাসিতে যোজন দূরত্ব বেড়েছে। মুসলিম স্কলারদের(!) অতি উৎসাহি আচরণে গৃহ বিবাধ শুধুই বাড়ছে। ফলে মুসলিম বিশ্ব নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে।
মৃত্যুকে বরণ করার মতো মুসলিমের অভাব সর্বত্র। সবাই ঘর-দোর গোছাতে আর সাজাতে ব্যস্ত। অথচ মুসলিম জনপদ নিরাপত্তাহীন-অরক্ষিত। আমরা একটুও ভাবছিনা যে, অরক্ষিত জনপদে সাজানো-গোছানো ঘর বাড়ী ও জান মাল নিরাপদ থাকে না। আরাকান আমাদেরকে দেখিয়া দিয়েছে।
ওমর, খালিদ, তারিক, মূসা, কুতায়বা আর মুহাম্মাদ বিন কাসিমের উত্তরসূরীরা আজ হীনবির্য্য, দুর্বল ও কাপুরুষ হয়ে গেছে। আইয়্যুবী, মাহমূদ গজনবী, সাইফুদ্দীন কুতুয আর বাইবার্স রা আর ফিরে আসছেনা। ইবনে আলকেমী, মীর জাফর আর ফাতেমীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আগের মতোই। মুসলিম নারীরা বে-পর্দা ও তাদের লজ্জাহিনতার কারণে আগের মতো শমশের গাজী আর আর্তুগুল গাজী জন্মাচ্ছে না।
ফলে মুসলিমরা আজ খড়কুটোর মতো ভেসে যাচ্ছে বানের আবর্জনায়। সব কিছুর একটাই কারণ। সেটা হলো মুসলিমদের মধ্যে অর্থ ও বৃত্তের লোভ প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। ক্ষমতা আর নেতৃত্বের মোহ অন্ধ বানিয়ে দিয়েছে মুসলিম সোসাইটিকে। শত্রু-মিত্র ফারাক করার বিবেকে পঁচন ধরেছে।
এমন সময়ের অবস্থা স্মরণ করেই তো আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ” তখন আল্লাহ তা’লা তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের প্রভাব দূর করে দিবেন। আর তোমাদের অন্তরে ভীরুতা ও দূর্বলতা সৃষ্টি হবে”।
শুধু প্রতিবাদই যথেষ্ট নয়, পণ্য বর্জন ও পণ্য বয়কটও শেষ নয়। সাথে সাথে আমরা আমাদের নিজেদের দিকে তাকাই। নিজেকে রাসূলের (সাঃ) পূর্ণাঙ্গ আদর্শে গড়তে সচেষ্ট হই। ক্বুরআানকে নিজ সীনায় প্রতিস্থাপন করি। সোনালী যুগের মানুষ গুলোর মতো সুন্দর, শালীন ও নম্র ব্যবহারকে পথ ও পাথেয় বানাই।
তাহলে ইনশাআল্লাহ, সমাজ আবার ভোরের স্নিগ্ধ হাওয়ায় সতেজ ও প্রষ্পুটিত হবে। রহমতের ফল্গুধারায় পল্লবিত হবে আবার এ বসুন্ধরা।
সেই আশায় প্রতিক্ষমান মুসাফির।

 

Sharing is caring!