গুরুদাসপুরে বিদ্যালয় মাঠে নির্মাণ সামগ্রী, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯
গুরুদাসপুরে বিদ্যালয় মাঠে নির্মাণ সামগ্রী, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

আসাদ অবির
নাটোর জেলা প্রতিনিধি:

নাটোরের গুরুদাসপুরে হামলাইকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে চলছে রাস্তা সংস্কারের উপকরণের প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ। স্কুল মাঠে এ কার্যক্রম চলায় ব্যহত হচ্ছে পাঠদান। বিপাকে পড়েছে বিদ্যায়ের কোমল মতি শিক্ষার্থীরা। ঢাঁকা পড়েছে স্কুল। এতে ক্ষুদ্ধ হয়েছেন এলাকার অবিভাবকরা। বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দিয়েও পাচ্ছে না প্রতিকার।

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার হামলাইকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে বড় বড় স্তুপ করে রাখা হয়েছে সড়ক নির্মাণের যাবতীয় সামগ্রী। বিটুমিন ভর্তি সারি সারি ড্রাম। ইট,বালি পাথর,খোয়াসহ রাস্তা সংস্কারের নানা উপকরন। চুলায় জ্বলছে এসব বিটুমিন। পাথর আর বিটুমিন মেশানো হচ্ছে মেশিনে। এতে প্রচন্ড বায়ু এবং শব্দ দূষণের ফলে পাঠদান ব্যহত হলেও দেখার কেউ নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেণ্টেম্বরের শুরু থেকে সড়ক সংস্কারের জন্য এসব উপকরণ হামলাইকোল বিদ্যালয় মাঠে ফেলানো শুরু হয়। ্ধসঢ়;ওই ঠিকাদারের কাজ শেষ হতে প্রায় ৬ থেকে ৭ মাস সময় লাগবে বলে জানাযায়। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে উপকরণগুলো প্রক্রিয়াজাত করে সড়ক সংস্কার কাজ শুরু করেন নাটোরের প্রথম শ্রেণির প্রভাবশালী ঠিকাদার সুজিত সরকার। নাটোর সড়ক ও জনপথ (সওজ)বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার নাজিরপুর বটতলা থেকে শুরু হয়ে নাড়ীবাড়ি মোড় পর্যন্ত মোট ৮ কিলোমিটার সড়ক পাকা করণের কাজ শুরু হয়েছে। নাটোরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সরকার কন্সট্রাকশন কাজটি করছেন। ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক সুজিত সরকার।

গত বৃহষ্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায, সড়কের পাশেই বিদ্যালয়, মাঠে ফেলে রাখা হয়েছে পাথর, বিটুমিন, প্লান্ট মেশিন, খোয়া মেশানোর মিশ্রণযন্ত্র। ইট,পাথর এবং বালির বিশাল বিশাল স্তুপ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে এমন কর্মযজ্ঞ। নাজিরপুর ডিগ্রী কলেজের ছাত্র সাইদুল ইসলাম,বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারী কলেজের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল মারুফসহ ওই এলাকার কয়েক জন যুবক জানান, বিদ্যালয় মাঠে সড়ক নির্মানের উপকরন রাখায় স্কুলের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা প্রচন্ড শব্দ দূষণ ও ধুলাবালিতে পড়াশোনার ক্ষতির পাশাপাশি স্বাস্থ্য ঝুকিতে রয়েছে। এছাড়া এলাকার যুব সমাজ খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হবার ফলে নানা অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে চুলায় বিটুমিন গলানো হয়। তাতে কালো ধোঁয়া ওঠে।

তাছাড়া, খোয়া মেশানোর যন্ত্র থেকে শব্দ ছড়াচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। মাঠে পাথর, বটুমিন প্লান্ট, খোয়া মেশানোর যন্ত্র রাখায় বিদ্যালয়ে যাতায়াত, খেলাধুলা-অ্যাসেম্বলিসহ বিদ্যালয়ের যাবতীয় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। হামলাইকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মোছা: শাহনাজ রীতা জানান, বিদ্যালয়ের মাঠে এমন কর্মযজ্ঞ চলার কারণে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। একারণে কমেছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। মাঝে মধ্যেই শিশুদের পায়ে ফুটছে ইটের খোয়া এবংপাথরের কুঁচি এতে অবিভাবকরা ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ছে। ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ননী গোপাল কুন্ডু জানান, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই মাঠ দখল করে এমন কর্মকান্ড চালাচ্ছেন।

নির্মান সামগ্রী রাখার ব্যাপারে ঠিকাদারকে বললে তিনি আমাদের জানান উর্ধতন র্কতৃপক্ষের আদেশ নিয়েই তারা রাস্তা সংস্করনের উপকরন রেখেছেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, ঠিকাদার বাধা নিষেধ উপেক্ষা করে বিদ্যালয় মাঠে সড়ক সংস্কারের উপকরণগুলো রাখেন। এতে শিক্ষার্থীসহ এলাকার যুব সমাজের সমস্যা হলেও সেদিকে কারো নজর নেই। ঠিকাদার সুজিত সরকার গতকাল বুধবার মোবাইল ফোনে দাবি করেন, সড়ক সংস্কারের এসব মালামাল রাখা ও প্রক্রিয়াজাত করার মত বিকল্প জায়গা না থাকায় ওই বিদ্যায়ের মাঠটি ব্যবহার করা হচ্ছে। উন্নয়নকাজ তরান্বিত করার স্বার্থে স্থানীয় সংসদের অনুমতি নিয়েই নির্মান সামগ্রী রাখা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ দেশে না থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তমাল হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি জেনেছি।

এব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে সরেজমিন করতে পাঠিয়েছি। এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের এক্সেনকে উপকরন গুলো অনতি বিলম্বে অপসারনের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে কাজ না হলে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

Sharing is caring!