রেখেছো শিক্ষিত করে, মানুষ করোনি

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মার্চ ২৯, ২০২০
রেখেছো শিক্ষিত করে, মানুষ করোনি

তৈয়ব উল্লাহ নাসিম

যশোরের মনিরামপুরের এসিল্যান্ড কর্তৃক তিনজন বয়স্ক বৃদ্ধ সিনিয়র সিটিজেনকে মাস্ক না পরার দায়ে কান ধরানোর মতো যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে, তার নিন্দা জানানোর মতো ভাষা নেই। এমন শাস্তি ঠিক ফৌজদারি নীতির সাথেও যায় না। কথা হলো মানুষের নীতিবোধ বাদ দিলেও রুচিবোধের একটা ব্যাপারওতো থাকে! বাবার বয়সি একজন মানুষকে কিভাবে কান ধরে ওঠবস করানো কিংবা কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখার রুচি হয় একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষের। তিনি আবার শুধু এই কাজ করিয়ে ক্ষান্ত হননি, নিজের মুঠোফোনে সেটার স্থিরচিত্র ধারণ করেছেন। এতেও তিনি থামেননি, সেই ছবিগুলোকে আবার সরকারী ওয়েবসাইটে গর্বভরে প্রচার করেছেন। কতটা বিবেক বিবর্জিত হলে এমন নিম্নরুচির কাজ করা সম্ভব একজন সহকারী কমিশনারের পক্ষে।

তাই কবিগুরুর আদলে বলতে হয়, “রেখেছো শিক্ষিত করে, মানুষ করোনি।”

এই ঘটনা থেকে আমাদের নৈতিকতা বিবর্জিত শিক্ষাব্যবস্থাও ভালোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। মুখস্থবিদ্যা থেকে আমাদের ছেলে মেয়েরা কি শিখছে? কি নৈতিকতার সবক পাচ্ছে শিক্ষার্থী? ছোটদের স্নেহ আর বড়দের সম্মান করা আমাদের নবীজীরও শিক্ষা। এ শিক্ষার চর্চা কি আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হচ্ছে? অহরহ ঘটনা চোখে পড়ে শিক্ষক লাঞ্চনার। একটু চুন থেকে পান খসলেই শিক্ষককে পেটানো, পানিতে চুবানো হচ্ছে! নৈতিকতার জায়গায় তাহলে আমরা কি পাচ্ছি প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা থেকে?

সমাজে একটা কথা ইদানিং বেশ প্রচলিত। আগে দেখা যেতো রাস্তাঘাটে, আড্ডায় বা চায়ের দোকানে ছোট ও জুনিয়ররা, সিনিয়র ও বড়দের দেখলে কাছুমাছু হয়ে সরে যেতো, কারো সিগারেটের বদভ্যাস থাকলে লুকিয়ে ফেলে অপরাধবোধ ফুটে উঠতো চেহারায়। কিন্তু এখন আর ছোটরা উঠে যায় না, বরং বড়দেরকে নিজেদের মান সম্মান নিয়ে কেটে পড়তে হয়। এগুলো প্রমাণ করে আমাদের ছেলেমেয়েরা শিক্ষিত হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু মানুষের মতো মানুষ হচ্ছে না। মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটছে না তাদের মনোহৃদয়ে। সমাজটা সুন্দর হোক, পূর্বের সেই শ্রদ্ধাবোধ ফিরে আসুক সমাজে। নৈতিক বিপ্লব ঘটুক ঘরে বাইরে, প্রতিষ্ঠানে, পুরো সমাজে।

 

Sharing is caring!