মালিবাগের শহিদদের স্বরণে ফেনীতে ইশা ছাত্র আন্দোলনের দোয়া অনুষ্ঠিত

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত আগস্ট ১৬, ২০২০
মালিবাগের শহিদদের স্বরণে ফেনীতে ইশা ছাত্র আন্দোলনের দোয়া অনুষ্ঠিত

হাফেজ শেখ ফরিদ (বিশেষ প্রতিনিধি)

গতকাল  ১৫ই আগষ্ট (শনিবার) বেলা ১১টায় ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ফেনী জেলার আয়োজনে জেলা কার্যালয়ে মালিবাগ মসজিদ রক্ষার আন্দোলনে শাহাদাত বরনকারী শহীদদের স্বরনে এক বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা সভাপতি মুহাম্মাদ আতাউল্লাহ কবীর ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্হিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মু.রফিকুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মু.আবু রায়হান, অর্থ সম্পাদক মু. জামশেদ বিন কাশেম, কলেজ বিষয়ক সম্পাদক ইমরান হুসাইন আজিম, স্কুল বিষয়ক সম্পাদক ওবাইদুল্লাহ ইমন সহ জেলা ও শাখার দায়িত্বশীলবৃন্দ।

প্রসঙ্গত ২০০২ সালের ১৫ আগস্ট ঢাকার মালিবাগে মসজিদ ভেঙ্গে মার্কেট করার সিদ্ধান্ত নেয় টিএনটির ইঞ্জিনিয়ার তৎকালীন প্রভাবশালী তৌফিক ও রমনা থানা ছাত্রদল নেতা হানিফ ও যুবদল নেতা সুমন। নিজস্ব ক্ষমতা ও সরকারের পেটুয়া বাহিনীদের মদদে মসজিদের প্রবেশ পথে নির্মাণ করে প্রাচীর। সঙ্গত কারণেই নামাজ ও বন্ধ হয়ে যায় ওখানে। চাপা ক্ষোভ বিরাজ করে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাঝে।

এরই জের ধরে ১৫ ই আগস্টে বৃহস্পতিবার মসজিদ প্রাঙ্গনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (ততকালীন ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন) এর সংগ্রামী আমীর মরহুম পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) এর আহবানে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয় । মসজিদ কমিটির সদস্য ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন রমনা থানা সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মাদ আব্দুস সাত্তার সাহেবের নেতৃত্বে সেদিন সতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে মালিবাগ, চৌধুরীপাড়া, রামপুরাসহ আশপাশের ছাত্রজনতা ও ঈমানদীপ্ত সাধারণ মুসল্লীরা।

সরকারের পরিকল্পিত হামলায় ঘটনাস্হলে ঝরে পড়ে দ্বীনের ৪ টি তাজা প্রাণ।

তারা হলেন,মালিবাগ মাদ্রাসায় পড়ুয়া ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কর্মী শহীদ হাফেজ মুহাম্মাদ আবুল বাশার, চৌধুরীপাড়া মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছাত্র আন্দোলনের সদস্য শহীদ হাফেজ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম ঢালী ও মালিবাগ মাদ্রাসায় পড়ুয়া শহীদ হাফেজ মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া। আরো একজন নিরীহ মুসল্লী মুহাম্মাদ জয়নাল আবেদীন। যিনি ঢাকা এসেছিলেন মেয়ের বিয়ের টাকা যোগাড়ের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সাহায্য নিতে। আহত ও গুলিবিদ্ধ হন প্রায় অর্ধশত মুসল্লী।

ঘটনার পরদিন ১৬ আগস্ট শুক্রবার ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে বিক্ষোভ ছিল রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে। এতে হযরত পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) তাঁর বক্তব্যে জোট সরকারের কাছে চার দফা দাবী পেশ করেছিলেন।

দাবীগুলো হলো-
১. খুনী তৌফিক, ছাত্রদল নেতা হানিফ ও যুবদল নেতা সুমনসহ খুনিদের গ্রেপ্তার করে অবিলম্বে বিচার করা।
২. খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত জাতীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা,
৩. সরকারী জায়গায় যত মসজিদ আছে ঐ সকল জায়গাকে মসজিদের নামে ওয়াকফকরণ।
৪. শহীদ পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো এর কোন দাবিই মেনে নেয়নি ততকালীন সরকার।

বিপ্লবী কাফেলার শহীদ ভাইয়েরা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। তাঁরা আমাদেরকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেছেন শাহাদাতের তামান্না কেমন হওয়া উচিত। তাঁরা আমাদের বুঝতে শিখিয়েছেন ক্ষমতাসীনদের মধুমাখা কথামালার পেছনে থাকে বিষাক্ত ও রক্তাক্ত কিছু নির্মম বাস্তবতা। শহীদ ভাইদের আত্মদান আমাদের কে শিখিয়েছে ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার জন্য যারা নিজেদের আদর্শ বিক্রি করে দেয় তারা আসলে তাগুতের ক্রীড়নক হয়েই থাকে। অকপটে সত্য কথা বলা এবং সত্যের পক্ষে অবস্থান নেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনা।

Sharing is caring!