ইসলামী নেতৃত্বের বর্তমান দূর্দশা ও তার কারণ

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০
ইসলামী নেতৃত্বের বর্তমান দূর্দশা ও তার কারণ

মাওঃ আব্দুর রহমান তামীম

সওদী আরব,মক্কা মুকাররামা থেকে:

ইসলাম মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এ বিশ্ব জাহানে এমন কোনো বিষয় নেই যা ইসলামে নেই বা আল্লাহর মনোনীত বিধানে নেই। নেতা ও নেতৃত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিও আল্লাহর নির্দেশিত জীবনব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নেতা এবং নেতৃত্ব থাকবে, অনুসারী থাকবে ও নীতিনির্ধারক থাকবে এ তো ইসলামী বিধানেরই অংশ।

ইমলাম প্রচারক ইসলামি নেতৃবৃন্দের কথা ও কাজের মিল না থাকা বর্তমান সময়ে ইসলামপ্রিয় লোকদের জন্য বড় একটি বিপদ। ইসলাম প্রচারকদের কাছে যখন ইসলামের পক্ষে কথা বলা ও ইসলামের প্রচার করা জীবনের অবিচ্ছেদ্য আদর্শ ও আকিদা না হয়ে নিচক পেশা হয়ে দাড়ায়, তখন তাদের কথা, কাজ ও চিন্তায় সামঞ্জস্য না থাকাই স্বাভাবিক। তারা মুখে বলে ভালো কথা কিন্তু কাজের বেলায় তা করে না, তারা মুখে বলে এক কথা মনে ভাবে ভিন্ন জিনিষ। অন্য মানুষ কে ভালো কাজের অাহবান জানায় অথচ তা নিজেরা অবহেলা করে। স্বার্থের টানে আবার কখনো কখনো আল্লাহর বাণীকে বিকৃত করে এবং অকাট্য অর্থযুক্ত বাক্যের ঘুরিয়ে পেচিয়ে অর্থ করে আপন মতলব উদ্ধারের অপচেষ্টা করে। আবার কখনো কখনো এমন আজগুবি ফতোয়া দেয়, যা হয়ত আল্লাহর বাণীর সাথে বাহ্যিক ও শাব্দিক মিল হয় কিন্তু ইসলামী জীবন ব্যাবস্হা সামগ্রিক প্রাণসত্বার সাথে তা বিরুধি। এটা নিচক তাদের মতলববাজি। সমাজে যারা সম্পদ ও ক্ষমতার অধিকারী তাদের কাছ থেকে হীনস্বার্থ উদ্ধারের উদ্দেশ্যে তারা এরকম করে থাকেন। ইয়াহুদি ধর্মযাজকরা এই বদ অভ্যাসে লিপ্ত ছিল। একজন প্রচারক যখন সৎ কাজ করার জন্য মানুষদের দাওয়াত দেয় অথচ নিজে তার বিরুদ্ধ আচরণ করে, তখন এটা সাধারন মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তারা শুধু প্রচারককেই সন্দেহের চোখে দেখতে আরম্ভ করে তা নয়, বরং তার প্রচারকৃত আদর্শের ব্যাপারেও দ্বিধাদ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। এই বৈপরিতা তাদের মনে ও চিন্তাধারায় অস্হিরতা ও দ্বিধা সংশয়ের জন্ম দেয়, যা বর্তমানে আমাদের সামনে বিরাজমান। বলুনতো… এই ব্যাপারটা কি জনগনের দোষ, নাকি আমরা তাদের শিখিয়েছি..?
কারন তারা শুনে ভালো কথা অথচ তা মন্দের পরিচায়ক। কাজ ও কথার ব্যাবধানে তাদের দিশেহারা করে ফেলে। প্রচারিত আদর্শ যদিও তাদের আত্নায় প্রেরণা দান করে এবং অন্তরে ঈমানের জ্যোতি উদ্দীপিত করে, কিন্তু পরক্ষনে তা নিভে যায়।
এর ফলে প্রচারকের উপর তাদের অাস্থা নষ্ট হয়ে যায়। সেই সাথে প্রচারিত আদর্শ বা ধর্মের উপরও ভীত হয়ে উঠে। যে আদর্শের প্রতি আদর্শের প্রবক্তা ও প্রচারক সর্বান্তকরণে বিশ্বাসী হয়না, প্রচারকের জীবনে যদি তার বাস্তব পতিফলন না ঘটে,তা হলে সে আদর্শের প্রচার যতই জাঁকজমক হোক না কেন,তা সাধারন মানুষের কাছে নির্জীব ও প্রানহীন থেকে যেতে বাধ্য।
ধ্বংসশীল মানুষ ব্যাক্তিগত ভাবে যত ক্ষমতাশালি হোক না কেন, মহাশক্তিধর চিরঞ্জীব সত্তার সাথে গভীর সম্পুর্ক না হওয়া পর্যন্ত সে দুর্বল ও অক্ষমই থাকে, আর অন্যায় ও অসত্যের আগ্রাসী শক্তি সমূহ সমাজে অনেকটা শক্তিধর থাকে, সে শক্তিগুলোকে সে কখনো কখনো পরাজিত করতে পারে ঠিকই, কিন্তু কখনো কোন দূর্বলতার সুজোগে তারা আবার ঘুরে দাড়িয়ে যেতে পারে। ফলে তার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত সবি এক নিমিষেই হারিয়ে বসতে পারে, যা বর্তমানে তার জলন্ত প্রমান বাংলাদেশে ইসলামী সংগঠনগুলি।
সুতরাং ইসলামি নেতৃবৃন্দ যদি সর্ব শক্তিমান পরাক্রমশালী আল্লাহর উপর আস্থা রাখে, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করে,এবং তার উপর নির্ভরশীল হয়, তা হলে সে নিজের সকল কামনা-বাসনা প্রয়োজন ও বাধ্য-বাধকতা জয় করতে এবং নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হবে। যে সব শক্তিধর তাগুতেরা তাকে নীস্তনাবুদ করার চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে, তাদেরও পরাজিত করতে সক্ষম হবে।

Sharing is caring!