গুজব রটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করায় ‘ছাত্রসেনা’র প্রতি নিন্দার ঝড়

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মার্চ ২৭, ২০২০
গুজব রটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করায় ‘ছাত্রসেনা’র প্রতি নিন্দার ঝড়

সম্পাদকীয়: গতকাল রাত সাড়ে দশটার পর দেশের বিভিন্ন মসজিদে একজোগে আজান দেয়া হয়। আর এই আজান দেয়ার মাধ্যমে একটা  ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় সবার মনে৷। মানুষকে বলা হয়ছে যে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় করোনা ভাইরাসের কারণে একজোগে মানুষ গড়িয়ে গড়িয়ে মারা যাচ্ছে। তাই এই মুহুর্তে আজান দিতে হবে। মানুষ ভয়ে মসজিদে গিয়ে আজান দিতে থাকে।
আর এই গুজবে নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশের একটি ভ্রান্ত সংগঠন ছাত্রসেনা।

ছাত্রসেনা’র দপ্তর সম্পাদক মোফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস রিলিজে গুজবে নেতৃত্ব দেয়ার কথা স্বীকার পূর্বক আজানদাতাদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

এই গুজবে তারা আরো ইন্ধন জুগিয়েছে নবজাতকের ভুয়া ঘটনা বলে। কোথায় নাকি একটা বাচ্চা জন্মিয়ে কিছুক্ষণ পর মারা যায়৷ মারা যাওয়ার আগে মানুষকে করোনা থেকে বাচতে চিনি ও লবন ছাড়া চাঁ খেতে ও নারিকেল গাছের গোড়ায় পানি দিতে বলেছে।

সবমিলিয়ে ছাত্রসেনার রটানো এই গুজবের কারণে  ঘুমন্ত রজনীতে একটি কিয়ামত পূর্ব পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।  মানুষ ভয়ে কান্না-কাটি ও দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করতে থাকে।
ছাত্রসেনার এহেন গৃণ্য- ন্যক্কারজনক কাজের কারণে ছাত্রসেনার প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় বইছে। অনেকে বলছে যে, রাজনীতিতে ভ্রান্ত সংখ্যালঘু এই সংগঠন নিজেদেরকে পরিচিত করতে এই গুজবে নেতৃত্ব দিয়েছে।

মহামারীতে এভাবে একজোড়ে আজান দেয়া শরিয়ত সমর্থিত নয়। দেশের বিজ্ঞ আলেমগন আজান দিতে বলেননি৷ আর আজান দিতে হলে এত রাতে কেন? আবার এভাবে মিথ্যা রটিয়ে মানুষকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে কেন?
তারা গুজবের আশ্রয় না নিয়ে মানুষকে মহামারী থেকে বাচতে বেশি বেশি  নফল নামাজ পড়ার উপদেশ দিতে পারতো। তাদের এই কাজ ইসলাম নিয়ে ঘৃণ্য রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ।

কোন রোগে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে যাওয়া ও ভীতি ছড়িয়ে দেয়া ইসলাম কোনভাবেই সমর্থন করেনা। গতকালের এই ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য অনেকে ছাত্রসেনার নেতাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবী জানিয়েছেন।

Sharing is caring!