একজন মুহতামিমের সমঝোতা স্বারক; উম্মাহর ভবিষ্যত-শেখ ফজলুল করীম মারুফ

আওয়ার বাংলাদেশ ২৪
প্রকাশিত নভেম্বর ২২, ২০২১
একজন মুহতামিমের সমঝোতা স্বারক; উম্মাহর ভবিষ্যত-শেখ ফজলুল করীম মারুফ

ঢাকার একটি পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসার মুহতামিমকে নিন্মোক্ত শর্ত মেনে মুহতামিম হতে হয়েছে। এবং শেষে যে ধরণের শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছে তাতে এটাকে মুচলেকা বলাই যথার্থ।

কওমী মাদ্রাসা ও দীনি ইলিম চর্চার দীর্ঘ ইতিহাস আছে। সেই ইতিহাসের নিজস্ব একটা চরিত্র আছে। উলামায়ে কেরাম রাষ্ট্র, সরকার এমনকি খেলাফতের কর্তৃত্বের বাইরে গিয়ে জনতার স্বপ্রণোদিত দানে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হতেন।

এই প্রতিষ্ঠানগুলো সামাজিকভাবে এতোটা শক্তিশালী ছিলো যে, শাসকদের বৈধতা উলামায়ে কেরাম ও দীনি প্রতিষ্ঠানের ওপরে নির্ভর করতো। তাদের শান এমন ছিলো যে, শাসকরা তাদের দরবারে এসে হাটু গেড়ে বসে থাকতো।

উলামায়ে কেরাম বিরোধিতা করলে কোন শাসকের পক্ষে রাষ্ট্র চালানো সম্ভব হতো না।

এই অপ্রতিরোধ্য প্রভাব উলামায়ে কেরাম অর্জন করেছিলেন জুহুদ, তাকওয়া ও অমুখাপেক্ষিতা দিয়ে।

তারা কোনভাবেই শাসন ক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা তো ‍দুরে থাক শাসকরা তাদের জোড় করলেও উলামারা শাসনক্ষমতায় অংশ নিতেন না।

তারা শাসকদের দরবারে কখনো যেতেন না, শাসকরা তাদের জন্য হাদিয়া পাঠালে তারা তা ফেরৎ পাঠাতেন

উলামারা প্রয়োজনে নিজেরা না খেয়ে থাকতেন, ভাঙ্গাচোরা আবাসনে থাকতেন কিন্তু তাদের আত্মসন্মান ছিলো প্রবল। তারা কখনো কারো কাছে কিছু চাইতেন না, এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা কোন ধরণের হাদিয়া নিজেদের জন্য ব্যবহার করতেন না।

আর এখন ঝা তকতকে মসজিদ-মাদ্রাসা হয়েছে। মুহতামিমদের গাড়ি হয়েছে, বাড়ি হয়েছে, হাজারে হাজারে মসজিদ ও মাদ্রাসা হয়েছে একই সাথে সমন্তরালে উলামাদের সন্মান, কতৃত্ব, প্রভাব কমেছে।

বিষয়গুলো নিয়ে কেউ কি সিরিয়াস আলাপ তুলবেন? বা কেউ আলাপ তুললে তার ইমান থাকবে?

বি.দ্র.
১. ছবি থেকে মাদ্রাসা ও শ্রদ্ধাভাজন মুহতামিম সাহেব হাফি.র নাম কেটে দেয়া হয়েছে। তার সন্মানের কথা মাথায় রেখে

২.উলামারা ক্ষমতা চাইতেন না। তখনকার পরিস্থিতি আর আজকের রাষ্ট্র পরিচালনা পরিস্থিতি এক না। আজকের যুগে উলামারা ক্ষমতায় যাওয়ার প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। কিন্তু উলামাদের একটি অংশ সংস্কার কাজে নিয়োজিত থাকা উচিৎ। আর যারা রাজনীতি করবেন তাদের মাদ্রাসা-মসজিদ নিয়ে পেশাজীবি না হওয়া উচিৎ।

 

শর্তসমূহ:

১. কমিটি কর্তৃক অব্যহতিপ্রাপ্ত কোন শিক্ষক-কর্মচারীকে মাদরাসায় নিয়োগ দেয়া যাবে না।

২. এখন থেকে মাদরাসা-মসজিদের শিক্ষক, খতীব, ইমাম ও কর্মচারী নিয়োগ বিয়োগ কমিটির নিয়ন্ত্রণাধীন থাকবে।

৩. ইতিমধ্যে যারা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ছেন তাদের কাউকে বাদ দেয়া যাবে না।

৪. মাদরাসার অভ্যন্তরীন সববিষয় মজলিসে শূরার সিন্ধান্তক্রমে বাস্তবায়িত হবে।

৫. মজলিসে শূরার বর্তমান সভাপতি স্বপদে বহাল থাকবেন।

৬. মাদরাসায় অর্থনৈতিক বিষয় সম্পূর্ণরূপে কমিটির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে।

৭. মাদরাসার ছাত্রদেরকে বাজনৈতিক কোন কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণ করানাে যাবে না এবং মাদরাসার অভ্যন্তরেও কোন রাজনৈতিক চর্চা করা যাবে না।

৮. দুইজন ভাইস প্রিন্সিপাল থাকবেন ক, ভাইসপ্রিন্সিপাল: প্রশাসনিক ও উন্নয়ন খ, ভাইসপ্রিন্সিপাল: শিক্ষা বিভাগ।

৯. সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রিন্সিপাল সাহেবকে প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক উপস্থিত থাকতে হবে।

১০. প্রিন্সিপাল ও ভাইসপ্রিন্সিপালগণ কমিটির সভাপতি/সেক্রেটারী থেকে তাদের প্রয়োজনীয় ছুটি নিতে পারবেন। ১১. প্রিন্সিপাল সাহেব মাদরাসা-মসজিদ বিষয়ে মাদরাসার ভেতর ছাত্র-শিক্ষক, এলাকার লােকজন বা অন্য কোন ব্যক্তির মাধ্যমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাদরাসা-মসজিদের স্বার্থের বিরুদ্ধে, কমিটির বিরুদ্ধে কোন ধরনের উস্কানীর ইন্ধন দিতে পারবেন না। এমনটি প্রমাণিত হলে কমিটি তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।

 

 

Sharing is caring!