সন্তানের অবাধ্যতায় পিতা-মাতার দায়বদ্ধতা

আওয়ার বাংলাদেশ ২৪
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০
সন্তানের অবাধ্যতায় পিতা-মাতার দায়বদ্ধতা

মুহাম্মাদ দেলোয়ার হুসাইন

✍পর্ব- ০১

বর্তমান সময়ে অন্যতম একটি প্রধান সমস্যা হলো সন্তানের অবাধ্যতা। আজকাল অবাধ্য সন্তানে সমাজ ভরে গেছে।সন্তান মা বাবাকে মানতে চায়না।কিন্তু এই বিশাল সমস্যার কারন,রহস্য উদঘাটন কিংবা সমাধানের জন্য আলোচনা-পর্যালোচনা খুব কমই হয়।ঠিক কোন কারনে একটি সন্তান অবাধ্য হয় এবং এর পিছনে পিতা-মাতার দায়বদ্ধতা কতটুকু এটা নিয়ে পর্যালোচনা সময়ের দাবি!আমি চেষ্টা করব ধারাবাহিকভাবে সেগুলো আলোচনা করতে ইনশাআল্লাহ!

একটি সন্তানের সবচেয়ে আপন তার পিতা-মাতা! পিতা-মাতার সাথে সন্তানের রক্তের সম্পর্ক, নাড়ীর টান! তাই পিতা-মাতার কার্যকলাপের প্রভাব সন্তানের উপর পড়বে এটাই স্বাভাবিক! একটি সন্তান এমনিতেই কিংবা জন্মগতভাবেই অবাধ্য বা খারাপ হয়ে যায় না। এর পিছনে বহুবিধ কারন রয়েছে। একটি আদর্শ এবং সুসন্তান গড়ে তুলতে মা-বাবার যেমন বিশাল অবদান থাকে, তেমনি সন্তানের অবাধ্যতায়ও মা-বাবার অনেক দায়বদ্ধতা থাকে!

আমরা একদম প্রথম থেকেই শুরু করতে চাই!

আপনি বিয়ের পূর্বে কি করেছেন সেইসব কাজের প্রভাব আপনার সন্তানের উপর পড়তে পারে। ধরেন, আপনি কারো উপর জুলুম করেছেন, কারো হক্ব নষ্ট করেছেন, কারো সম্পদ আত্মসাৎ করেছেন কিংবা কারো মনে বিনা কারনে কষ্ট দিয়েছেন। সেই ব্যক্তিটি দূর্বল বিধায় আপনার সাথে পেরে উঠেনি। কিন্তু সে আপনার বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে বদদোয়া করেছে। আর জালিমের বিরুদ্ধে মাজলুমের বদদোয়া কবুল করা হয়। হতে পারে এই বদদোয়ার প্রভাব আপনার সন্তানের উপর পড়েছে! কারন বদদোয়া বড়ই মারাত্মক বিষয়। নেক দোয়া যেমন কাউকে অনেক বড় করতে পারে (যেমন- হযরত বায়েজিদ বোস্তামি রহ. মায়ের নেক দোয়ায় যুগশ্রেষ্ঠ ওলী হয়েছিলেন), তার বিপরীতে বদদোয়াও কারো জীবন ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই আমাদেরকে অবশ্যই এইসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কারো উপর যেন অন্যায় করা না হয়, কারো উপর যেন জুলুম না হয়, আমার মাধ্যমে যেন কেউ কষ্ট না পায় সেদিকে সর্বদা লক্ষ্য রাখব। কখনো এরকম কিছু হয়ে গেলে সাথে সাথে ঐ ব্যক্তি থেকে মাফ চেয়ে নিব! আর যদি আল্লাহর হক্ব নষ্ট করি তাহলে তওবা করে নিব! নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দার তওবা কবুলকারী! তিনি তওবাকারী বান্দাকে পছন্দ করেন।

নেক কাজের প্রভাব বংশের সাত পুরুষ পর্যন্ত প্রবাহিত হয়। (রেফারেন্স- মুফতি আবুল বাশার নোমানী, প্রিন্সিপাল, জামিউল উলুম মাদ্রাসা, মিরপুর-১৪, ঢাকা)! উনি এটি এক জুমার বয়ানে বলেছেন। সুতরাং আপনি নেক কাজ করলে তার সুফলও আপনার সন্তান পাবে। আবার আপনার মন্দ কাজের শাস্তিও আপনার আহল বা পরিবারবর্গ পেতে পারে। তাই আমরা সবসময় নেক কাজ করব এবং মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ! আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করুন। আমীন।

➡ চলবে ইনশা-আল্লাহ……

Sharing is caring!