ঢাকা – সিলেট মহাসড়কের নরসিংদী অংশে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯
ঢাকা – সিলেট মহাসড়কের নরসিংদী অংশে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে

তানিম ইবনে তাহের
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি:

চলতি বছরেই শুরু হওয়ার হতে পারে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রশস্থকরণের কাজ। ছয় লেনের এই মহাসড়কের জন্য অধিগ্রহণ করা হবে সড়কের পাশের জমি। এই খবরে বাড়তি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় নরসিংদীতে মহাসড়কের পাশে রাতারাতি গড়ে তোলা হচ্ছে শত শত অবৈধ স্থাপনা। একাধিক চক্র অনুমোদনহীন ভাবে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে গড়ে তুলছে এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেকে) অনুমোদন হয়েছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প। মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণের এই প্রকল্পের নরসিংদী অংশে রয়েছে ৫২ কিলোমিটার এলাকা। চলতি বছর থেকেই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এই মহাসড়কের চারলেনের কাজ। এরই মধ্যে এই মহাসড়কটি ৬ লেনের কথা শোনা গেলেও তা এখন পর্যন্ত তা নিশ্চিত নয়। মহাসড়ক আইন অনুযায়ী সড়কের উভয় পাশের ১০ মিটার দূরত্বে স্থাপনা তৈরির নিয়ম রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের সময় সরকার থেকে বাড়তি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় মহাসড়ক ঘেষে উভয় পাশে গড়ে তোলা হয়েছে দেড়শতাধিক অবৈধ স্থাপনা। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে বাড়ি ঘর, মার্কেট ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের নামে স্থাপনা। বিগত ৪/৫ মাস ধরে চলছে বহুতল বিশিষ্ট এসব অবৈধ স্থাপনা তৈরির কাজ। স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার পরও চলমান রয়েছে বেশকিছু সংখ্যক ভবন তৈরির কাজ। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় একাধিক প্রভাবশালী চক্র এসব স্থাপনা তৈরিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষাভাবে জড়িত বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাতারাতি গড়ে উঠা এসব স্থাপনার ফলে দুর্ঘটনার আশংকা করা হচ্ছে। অনুমোদনহীন এসব স্থাপনা তৈরির ফলে অধিগ্রহণের সময় গচ্ছা যেতে পারে সরকারের ক্ষতিপূরণের বাড়তি অর্থ।

সরেজমিন গেলে মহাসড়কের শিবপুর উপজেলার চৈতন্যা এলাকার একটি ভবন নির্মাণ কাজে নিয়োজিত এক শ্রমিক প্রশ্নের জবাবে বলেন, তিনতলা এই ভবনটির মালিক শিবপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ খানের ছেলে তাপসের স্ত্রী। উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে নিজে এটি তদারকি করছেন। কারখানা গড়ে তোলার জন্য ভবনটি তৈরি করা হচ্ছে বলে জানায় এই শ্রমিক।
নির্মাণাধীন অপর একটি ভবনের এক শ্রমিক জানায়, এটা চারতলা ভবন হবে, নীচে গরুর ফার্ম হবে, উপরে কমিউনিটি সেন্টার, আন্ডারগ্রাউন্ডে হবে গরুর ফার্ম। ভাড়াও দেয়া হতে পারে। এক মাস আগে ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়।
একইভাবে মহাসড়কের শিবপুরের কারারচর থেকে ভৈরব পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলা স্থাপনার সাথে জড়িত রয়েছে প্রভাবশালীরা। তবে ঠিক কী ধরণের প্রতিষ্ঠান বা উদ্দেশ্যে এসব ভবন তৈরি হচ্ছে সে সম্পর্কে জানেন না স্থানীয়রাও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা আওয়ার বাংলাদেশ কে বলেন, কিছুদিন ধরে রাতারাতি এসব বিল্ডিং উঠছে। ১ তলা থেকে ৪ তলাবিশিষ্ট এসব ভবন করা হচ্ছে মহাসড়কের জমি অধিগ্রহণের সময় বাড়তি ক্ষতিপূরণের আশায়। এতে মহাসড়কের জমি অধিগ্রহণের সময় সরকারের বাড়তি অর্থ ব্যয় হবে। প্রকৃত জমির মালিকরা একটা নির্দিষ্ট কমিশন পেলেও সরকারের মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেবে জড়িত এসব চক্র।
তারা আরও বলেন, এসব সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেয়ার কৌশলগুলো জমির মালিকরা না জানলেও এসব চক্র জমি মালিকদের সাথে কমিশনের চুক্তিতে স্থাপনা গড়ে তুলছে। জানামতে বাড়িঘর বা ভবন তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকারের অনুমোদন লাগে কিন্তু এসব ভবন অনুমোদন ছাড়াই হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কতিপয় লোকজনও জড়িত থাকতে পারে। না হলে এসব ভবন কীভাবে নাকের ডগায় রাতারাতি গড়ে উঠছে? সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় বাঁচাতে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী স্থানীয়দের।

নরসিংদী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার আওয়ার বাংলাদেশ কে বলেন, সড়কের পাশের আগের অবস্থা ভিডিও রেকর্ডিং করে প্রকল্প পরিচালক দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। চলমান এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে ১৬৪টি স্থাপনা মালিককে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও পৌর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে যাতে এসব স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করা হয়। মহাসড়ক আইনের শর্ত উল্লেখপূর্বক বিজ্ঞপ্তি টানিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।

নরসিংদীর জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন আওয়ার বাংলাদেশ কে বলেন, আমার লোকজন পাঠিয়ে একটি প্রতিবেদনের মত (ভিডিওসহ) সাবমিট করেছি, লোকজনের পরিদর্শনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং এটা হাইকমান্ড বরাবর করেছি। নিয়ম হলো এটা ক্যাবিনেট স্যার বরাবর পাঠাতে হয়, আমরা পাঠিয়েছি। আর বিল্ডিংগুলোর বিষয়ে আমাদের পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ অনুমোদন দিয়ে থাকে। আমি গত উন্নয়ন সমন্বয় মিটিংয়ে বলে দিয়েছি পৌরসভা এবং উপজেলা যাতে আবশ্যিকভাবে অনুমোদনবিহীন বিল্ডিংগুলো অপসারণের ব্যবস্থা করে।

Sharing is caring!