খুলনার কয়রায় র‌্যাবের অভিযানে দুই জলদস্যু আটক: অস্ত্র গুলি জব্দ

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত অক্টোবর ১১, ২০১৯
খুলনার কয়রায় র‌্যাবের অভিযানে দুই জলদস্যু  আটক: অস্ত্র গুলি জব্দ

মোসাদ্দেক বিল্লাহ সাব্বির
খুলনা জেলা প্রতিনিধি:

খুলনার কয়রায় অভিযান চালিয়ে জলদস্যুদের মূল পৃষ্ঠপোষক ও সহযোগীসহ দুই জনকে আটক করেছে র‌্যাব-৬। এসময়ে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও চাঁদা আদায়ের নথিপত্র, টাকা ও সিম কার্ড জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় মেজর এএম আশরাফুল ইসলাম (পিপিএম) কোম্পানী কমান্ডার, সিপিসি স্পেশাল র‌্যাব-৬ খুলনা এর নেতৃত্বে একটি চৌকোস আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে কয়রা উপজেলার ৪ নং কয়রা সরকারী পুকুরপাড় এলাকা থেকে তাদের আটক করে বলে সূত্রে জানা যায়।
আটককৃতরা হলেন, ৪নং কয়রা সরকারী পুকুরপাড় এলাকার আব্দুল অহাব মিস্ত্রির ছেলে মোঃ নূর হোসেন (৩০) ও একই গ্রামের এস এম জিয়াদ আলীর ছেলে, মোঃ মোজাফ্ফর সরদার(৩২)।
র‌্যাব-৬ এর পরিচালক লেঃ কর্ণেল সৈয়দ মোহাম্মদ নূরুস সালেহীন ইউসুফ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই জন জলদস্যু সহযোগী ও পৃষ্টপোষককে আটক করা হয়েছে। এসময়ে তাদের কাছ থেকে ১ টি ওয়ান শ্যুটার গান, ৫ রাউন্ড গুলি, চাঁদা আদায়ের টোকেন, বিকাশের মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের নথিপত্র, টাকা ও সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। তারা জেলেদের নিকট হতে টোকেনের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করতো। তাদেরকে কয়রা থানায় হস্তান্তর করতঃ অস্ত্র ও চাঁদাবাজী মামলা রুজুর প্রক্রিয়াধীন আছে।
তথ্য মতে জানা গেছে, সুন্দরবনে জীবিকা নির্বাহের জন্য ছুটে চলা জেলেদের কাছ থেকে মুক্তিপণ, নিয়মিত চাঁদা ও নানা ধরনের নির্যাতন করা হয়। আর এ সকল কর্মকান্ডে জড়িত খোদ ওই জেলেদের মহাজনেরা। এমনটাই তথ্য উঠে এসেছে র‌্যাবের তদন্তে। একশ্রেণীর মহাজনেরা অতিরিক্ত মুনাফার জন্য জলদস্যু ও বনদস্যু দল তৈরি করে থাকেন বলে গোয়েন্দা তথ্য মতে জানা গেছে।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত পৃথিবীর একক বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন। এই সুন্দরবনকে ঘিরে কয়েক যুগ ধরে চলছে দস্যুতা। এ জলদস্যু-বনদস্যুদের কাছে অস্ত্র-গোলাবারুদ ও রসদ পৌঁছে দেয়া মানুষগুলো সম্প্রতি প্রশাসনের নজরে এসেছে। বছরের পর বছর ধরে অন্তরালে থাকা এ সকল অপরাধীরা সমাজের বিভিন্ন স্তরে তাদের শেকড় ছড়িয়ে রেখে অপরাধ সংঘটিত করতে সহায়তা করছে। এমনকি শহর ও শহরতলীতে বসবাস করেও সুন্দরবনের দস্যুদের বিনিময়ে তারা মাসে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করে আরাম আয়েশের জীবন যাপন করছেন। তবে র‌্যাব এ সকল অপরাধীদের সনাক্ত ও গ্রেফতারে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে।
র‌্যাব-৬’র অধিনায়ক আরও জানান, জেলেদের মহাজনরা (কোম্পানি) বিভিন্ন সময় বনদস্যুদের পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা করেন বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণার পর থেকে এ চক্রটি নতুন নতুন ছোট ছোট বাহিনী সুন্দরবনে তৈরিতে সহায়তা করেছে। এ নিয়ে র‌্যাবের নজরদারি রয়েছে বলেও জানান তিনি। বর্তমানে সুন্দরবনে আমিনুর ও জিয়া বাহিনী নামের দু’টি বনদস্যু গ্রুপের নাম শোনা যাচ্ছে বলে তিনি গতকাল প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন।

Sharing is caring!