বোকার আলাপ-১ [মাওলানা গোলাম সরোয়ার সিরাজী]

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০
বোকার আলাপ-১ [মাওলানা গোলাম সরোয়ার সিরাজী]

 

 

রাজনীতির ধারণাটি মনে হয় Is born naturally । সবাই রাজনীতি করতে পারেনা । আমার দেখা অনেকে রাজনীতিতে এসেছেন, চলে গেছেন । রয়ে গেছেন , কিন্তু সফল হতে পারেননি । সফলতার সাথে ধারাবাহিকভাবে রয়েছেন সংখ্যাটি অতি নগণ্য । আমরা যাদেরকে নিয়ে শুরু করেছি , সবাই যদি ধারাবাহিকভাবে থাকতো ; ফেনী জেলার চিত্র বিচিত্র হতো ।

চলে যাওয়ার সংখ্যাটি বেশী । চলে যায় কয়েক কারনে , যেমন, এসেছেন কিন্তু মেধার সাক্ষর রাখতে পারেননি । এসেছেন কিন্তু মেধা সংগ্রহ করতে পারেননি । এসেছেন কিন্তু অন্ধদের শহরে আয়না বিক্রি করতে পারেননি । চলে গেলেন । নেতা হতে এলেন , নেতা হলেন । কিন্তু নেতৃত্ব দিতে পারেননি । হতাশা কাতর হয়ে চলে যাওয়ার পথ ছাড়া আর কোন পথ বাকী নাই । চলে গেলেন । সাময়িক অসুবিধার জন্য চলে যাওয়ার সংখ্যাটি একেবারে কম নয় । বড়দের গ্রুপিং- লবিং এর বলি হয়ে চলে যাওয়ার সংখ্যাটিও আমলে নেওয়ার মত ।

সামান্য স্বার্থের জন্য অনেক মেধা জবাই হয়েছে, আমাদের সামনে । যে মেধা সৃষ্টি হতে অনেক সময় নিয়েছে । যে মেধা ফেনীকে অনেক এগিয়ে নিতে পারতো । কার কথা কে শুনে । যাদের কারনে মেধাহত্যা হলো তাদেরকে খাটিয়ার তৈয়ারী নয়, মহান আল্লাহর সামনে জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে ।

হিটলার নিজেও মরলো, জাতিকেও মারলো । লাভ কি হলো? লাভ হলো তার জেদ বিজয় হলো । কলির যুগের হিটলার কালির যুগেও ছিলো । সাদা পর্দার অন্তরালে এখনো আছে ।

আবেগের সামনে মাথা নোয়াতে শিখিনি । শেখাতে চেয়েছিলেন । কেঁদে দিলে কাঁদতে শিখিনি । শুধু আবেগি কথা নয়, দুচোখ বেয়ে পানি গড়ালেও মেধা হত্যার বিচারের অপেক্ষায় থাকবো ।

আমি গর্বিত । আমি ইশা ছাত্র আন্দোলনের সাবেক ক্ষুদ্র কর্মী ছিলাম বলে । হাজার হাজার সহকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের বিনিময়ে এতো টুকু আসা । মাওলানা আ. রাজ্জাক দা.বা. আমাকে প্রথম সোনাগাজী উপজেলার সেক্রেটারির দায়িত্ব দিয়েছিলেন । তিন বছর সেক্রেটারি ছিলাম । তিনি দুই বার আমাকে বলেছিলেন, আপনি এবার সভাপতি হোন । আমি রাজি হইনি । হিজবুল্লাহ ভাইকে বাদ দিয়ে আমি সভাপতি হতে পারবোনা । জেলা প্রচার ও প্রকাশনার দায়িত্বে ছিলাম দুই সেশন । যুগ্ম সম্পাদক এক বছর । কিছু দিন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলাম । পরে দুই সেশন জেলা সভাপতি এবং দুই সেশন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ছিলাম ।

ছাত্র আন্দোলনের দায়িত্বে থাকাকালীন দুইবার ফেনীতে হযরত পীর সাহেব চরমোনাই জনসভা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব এবং ঐতিহাসিক লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ছিলাম । আন্দোলনের মুরুব্বিদের আস্থা ছিলো আমার প্রতি । আমিও সকল মুরুব্বিকে শ্রদ্ধা করতাম ।

জেলা ইসলামী আন্দোলনের সদস্য, সহপ্রচার সম্পাদক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম । ফেনী শহর শাখার সভাপতি ছিলাম চার সেশন । জেলা শ্রমিক আন্দোলনের সদস্য সচিব ছিলাম । মাওলানা আ. রাজ্জাক ছিলেন আহবায়ক । জাতীয় শিক্ষক ফোরামের ফেনী জেলা সদস্য সচিব ছিলাম । যুব আন্দোলনের যুগ্ম আহবায়ক ছিলাম । অতিশয় মেধাবীদের মাঝে টিকতে পারিনি । পরে নিজ থেকে সরে এলাম ।

কথাগুলো চলে এলো । একজন দায়িত্বশীল অব্যহতি পাওয়ার পর কয়েকজন দীনি ভাই ইনবক্সে কিছু কথা লেখলো । আমি আশ্চর্য হয়নি ৷ কারণ, এরা বিশেষ কাজে বিশেষজ্ঞ । অপেক্ষায় রইলাম, একদিন চোখ খুলবে ।

লেখক:
মাওলানা গোলাম সরোয়ার সিরাজী
সাবেক সভাপতি,
ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, ফেনী জেলা।

Sharing is caring!