যে লেখাটি না লিখে পারলাম না

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মার্চ ২৯, ২০২০
যে লেখাটি না লিখে পারলাম না

মাস্টার সেলিম উদ্দীন রেজা

 

” ফোরাত নদীর তীরে চলতে গিয়ে একটি কুকুরও না খেয়ে মারা যায় এর জন্য আমিই দায়ী।” শব্দের কিছুটা পার্থক্য হয়তো থাকতে পারে। কিন্তু মর্মার্থ এটিই। উক্তিটি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র। তাঁর খিলাফতকালে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে তিনি এ উক্তিটি করেছিলেন।

তিনি সেই মহান শাসক যিনি প্রজাদের প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য সারারাত মদীনার অলিতে গলিতে ঘুরে বেড়াতেন। নিজের স্ত্রীকে এক বেদুইনের স্ত্রীর সন্তান প্রসবকালীন ধাত্রীর কাজে নিযুক্তির ঘটনা তো সর্বজনীন। ক্ষুধার্ত শিশুদের খাবারের ব্যাবস্থা করার জন্য বায়তুল মাল থেকে নিজের কাঁধে আটার বস্তা বহন করে নিয়ে যাবার ঘটনা এবং সেই ক্ষুধার্ত শিশুদের নিজ হাতে খাবার তৈরি করে খাওয়ানোর ঘটনা কে না জানে? দুধে পানি মেশানোর কাজে অপারগতা প্রকাশ করায় গোয়ালিনির মেয়েকে তিনি যে উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছিলেন তা আজ কেবলই জ্বলজ্বলে এক ইতিহাস।

এ রকম আরও অসংখ্য চমকপ্রদ, মানবিক এবং চিত্তাকর্ষক ঘটনার তিনি মহানায়ক। এ কারণেই চলমান সময়ের খ্যাতিমান লেখক রফিক হারিরি তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ” ওমর” এর ভূমিকায় লিখেছেন –” ওমর ছিলেন এমন একজন শাসক যাঁর গুণকীর্তন তাঁর চরম শত্রুরাও করতে কখনো সংকোচবোধ করেনি। তাঁর সুশাসন, ন্যায়বিচার, জনগণের প্রতি তাঁর সার্বক্ষণিক দায়বদ্ধতা, সুনজর, সহজ সরল জীবন যাপন এবং চরিত্রের কাঠিন্য ও কোমলতা তাঁকে কিংবদন্তি করে তুলেছে।……”

ইসলামের সেই সোনালী যুগে ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। সম্ভব নয় হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর মতো কিংবদন্তি শাসক খুঁজে পাওয়া। বরং খোঁজতে যাওয়া বোকামি।

তথাপি যখন দেখি, আমাদের প্রিয় হাটহাজারীর একজন সরকারি কর্মকর্তা তাঁর রুটিন ওয়ার্ক ভেঙ্গে, সমস্ত আরাম আয়েশ এমনকি বিশ্রাম পর্যন্ত বিসর্জন দিয়ে, নিজের জীবনের পূর্ণ ঝুঁকি নিয়ে এ উপজেলায় বসবাসরত প্রতিটি নারী,পুরুষ, শিশু,আবাল বৃদ্ধ বণিতার জীবন নিরাপদে রাখার জন্য আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যান, করোনার মতো প্রাণঘাতি মহা শক্তিধর ভাইরাস (যা সমগ্র পৃথিবীকে মৃত্যু উপাত্যকায় পরিণত করেছে) সে ভাইরাস যেন হাটহাজারীতে প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য রাত দিন চব্বিশঘণ্টা অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করে যাচ্ছেন, মহান আল্লাহর বিশেষ দান আমাদের হালদাকে অনন্ত যৌবনা রাখার জন্য গভীর রাত পর্যন্ত যিনি পাহারা দেন, মজুদদারি বন্ধ করার জন্য যিনি চ্যালেন্জ গ্রহণ করেন, খাদ্যে ভেজাল রোধে যার শকুন চক্ষু ফাঁকি দিতে পারোনা দুষ্কৃতিকারীদের অপকর্ম। এ জনপদকে জীবাণু মুক্ত রাখার জন্য যিনি ছিটানোর ব্যাবস্থা করেন হাজার হাজার লিটার জীবাণু নাশক, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মনিটরিং করার জন্য যিনি আরামের ঘুমকে হারাম করেন, হাটহাজারীর অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সাহিত্য, সংস্কৃতির উন্নয়ন সাধনে যিনি পরিশ্রম করেন বিরামহীন তাঁকে দেখলে মনে পড়ে ইসলামের ইতিহাসের সেই কিংবদন্তি শাসকের কথা।

যে কিংবদন্তি শাসকের কথা আমি বলছি হয়তো তাঁর লক্ষ ভাগের এক ভাগ গুণও পাওয়া যাবে না এই সরকারি কর্মকর্তার কাছে। কিন্তু এর পরও তিনি যেটুকু আমাদের দিয়ে যাচ্ছেন তা এ যুগে বিরল। তাঁর কঠোর শ্রম অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় এবং দৃষ্টান্তহীন এ সময়ে।

তাঁর কোন প্রশংসা আমি করতে চাই না দু’টি কারণে।০১.সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য।
০২. ইদানিংকালে মানুষের প্রশংসা পরিণত হয়েছে তোষামোদকারীদের হাতিয়ারে।

আমি কেবল মহান রাব্বুল ইজ্জতের আলীশান দরবারে তাঁর এবং তাঁর পরিবার পরিজনের জন্য দু’ হাত তুলে প্রাণ খোলে দোয়া করবো মহান রাব্বুল ইজ্জত যেন তাঁর প্রতিটি সেকেন্ড পরিশ্রমের উত্তম প্রতিদান তাঁকে দান করেন। তাঁকে হায়াতে তাইয়্যিবা যেন নসীব করেন। সমস্তপ্রকার বিপদ আপদ থেকে যেন মুক্ত রাখেন। তাঁর পরিবারের সকল সদস্যকে মহান রাব্বুল ইজ্জত যেন সুস্থ, শান্তি এবং নিরাপদে রাখেন। দোয়া করি সেই মহিয়সীকে যিনি এ রত্নকে গর্ভে ধারণ করেছেন, সেই মহান মানুষটির জন্যও যিনি এই মানবতাবাদীর জনক।

কারো যদি প্রশ্ন থাকে কে এই মহানুভব? এক কথায় উত্তর দেবো মোহাম্মাদ রুহুল আমিন।

লেখক: মাস্টার সেলিম উদ্দীন রেজা
হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

Sharing is caring!