কথাসাহিত্যিক আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিনের ১৮তম মত্যুবার্ষিকী

আওয়ার বাংলাদেশ ২৪
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০
কথাসাহিত্যিক আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিনের ১৮তম মত্যুবার্ষিকী

মোহাম্মদ হাসিব উল্লাহ

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান কথাশিল্পী, কবি, শিশু সাহিত্যিক, ছড়াকার ও ঔপন্যাসিক আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিনের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৩৪ সালের ২০ এপ্রিল বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার লাকসাম থানার লৎসর গ্রামে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম নাম অধ্যাপক মাও: আবদুল আউয়াল ও মাতার নাম হাফসা খাতুন। পিতা অধ্যাপক মাও: আব্দুল আওয়াল ছিলেন বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার প্রথম এম.এ (প্রথম মাস্টার্স পাশ) এবং তৎকালীন পাকিস্থান কলেজের প্রথম বাঙালি মুসলিম প্রিন্সিপাল। শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ পাস করেন। ১৯৫৭ সালে তিনি তৎকালীন সিএসপি পরীক্ষায় (সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্থান) পাকিস্থানের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং তিনি বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার প্রথম সিএসপি অফিসার। কর্মজীবনে খ্যাতিমান এই সাহিত্যিক পশ্চিম পাকিস্থান পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তৎকালীন পাকিস্থান সরকার কর্তৃক নিযুক্ত নেপালের সাবেক রাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) লেকচারার, দুর্নীতি দমন ব্যুরোর (বিলুপ্ত) মহাপরিচালক, বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত আইজিপি এবং বাংলাদেশ বস্ত্রশিল্প সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্য রচনায়ও তিনি অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দেন। কবিতা, ছড়া,গল্প, উপন্যাস, শিশু সাহিত্য, অনুবাদ, গোয়েন্দা গল্পসহ সাহিত্যের সকল ক্ষেত্রে তার অবাধ বিচরণ ছিল লক্ষ্যণীয়। বিশেষ করে রবীন্দ্র পরবর্তী ছোটগল্প রচনায় যেসকল সাহিত্যিক বিশেষ অবদান রেখেছেন তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। গল্প, উপন্যাসের পাশাপাশি তিনি ইসলামী শিশু সাহিত্যও রচনা করেছেন। যা ইসলামীক ফাউন্ডেশন ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত করে। এছাড়া, তিনি ছিলেন একজন জনপ্রিয় গীতিকার। নজরুল পরবর্তী প্রসিদ্ধ নাত লেখকদের মধ্যে তিনি অন্যতম। খ্যাতিমান এই কথাসাহিত্যিকের গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় একশটি। এর মধ্যে কাব্যগ্রন্থ তিনটি, উপন্যাস ২০টি, গল্পগ্রন্থ ৩০টি, শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ ১১টি, শিশু-কিশোর গল্প-উপন্যাসের সংখ্যা ২০টি এবং ইতিহাস ঐতিহ্য ও জীবনীগ্রন্থ পাঁচটি। সাহিত্যকর্মে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি আসাফউদ্দৌলারেজা স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার, আবুল হাসান স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার, শেরেবাংলা স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার, কবি জসীমউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার, ফরিদপুর পৌরসভা সাহিত্য পুরস্কার, কালচক্র সাহিত্য পুরস্কার ও সুহৃদ সাহিত্য পুরস্কার প্রভৃতি লাভ করেন। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী খ্যাতিমান এই সাহিত্যিক ২০০২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ৬৮ বছর বয়সে ঢাকা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তাকে নিজ গ্রামে তার প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা ও এতিমখানার পাশে সমাহিত করা হয়।

Sharing is caring!