আহমদ শফী রহ. ছিলেন ওলামায়ে কেরামের জন্য বট বৃক্ষের মতো: প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের সভায় বক্তাগণ

আওয়ার বাংলাদেশ ২৪
প্রকাশিত অক্টোবর ৯, ২০২০
আহমদ শফী রহ. ছিলেন ওলামায়ে কেরামের জন্য বট বৃক্ষের মতো: প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের সভায় বক্তাগণ

সৈয়দ বেলালী:

জামিয়া আজিজিয়া কাসেমুল উলুম ছাগলনাইয়া ফেনীর প্রাক্তন ছাত্রদের সংগঠন জামিয়া আজিজিয়া প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত, শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমাদ শফী রহ এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলেচনা ও দোয়া মাহফিলে আলোচকগণ উপরোক্ত কথা বলেন।

গতকাল ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বাদ আছর জামিয়া মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন জামিয়ার পরিচালক হযরত মাও.রুহুল আমিন সাহেব, পরিচালনা করেন, মুফতী ফারুক , মাও.এনামুল হক বাবুল, আব্দুল কাদের মিয়াজী ও মাও. শাহাব উদ্দীন।

 

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মোফাসসেরে কুরআন, জামিয়া ইসলামীয়া জমিরিয়া হরিপুর, বাংলা বাজার ছাগলনাইয়ার সম্মানিত মোহতামিম, জামিয়া আজিজিয়ার প্রাক্তন ছাত্র হযরত মাও.ফরিদ উদ্দীন আল মোবারক সাহেব।

 

বক্তব্য রাখেন, জামিয়া আজিজিয়ার সহকারী পরিচালক মাও.শাহাদাৎ উল্লাহ, শায়েখে সানি মাও. হাফেজ জুনায়েদ, মুফতী আজিজ উল্লাহ, মাও.আনোয়ার উল্লাহ ভুঞা, মাও.আব্দুস ছাত্তার, মুফতী ইসমাঈল,মাও. আবুল হাসান, মাও. মোঃ আলী, মাও.আব্দুল হক, মাও.আবু ইউসুফ, মুফতী শোয়াইব, মাও. মোমিনুল্লাহ , মাওলানা নুর নবী, মাও. আবুল কালাম আজাদ, হাফেজ জহিরুল ইসলাম, মাও. আবদুল মালেক ও ছাত্র পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

 

প্রধান অতিথি মাও.ফরিদ উদ্দীন আল মোবারক বলেন, শায়খুল ইসলাম ছিলেন অনেক গুলো বৈশিষ্ট্যর অধিকারী। যেমন তিনি দ্বিনী শিক্ষায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, বাতিলের বিরুদ্ধে কলম যোদ্ধা, নাস্তিকদের বিরুদ্ধে বজ্রকঠিন সিপাহ সালার, আত্মশুদ্ধির ময়দানে জগত বিখ্যাত বুজুর্গ।
শায়খুল ইসলাম এসকল ক্ষেত্রে সমান্তরাল ভাবে খেদমত করে গেছেন, যা বর্তমান সময়ে বিরল। আজকে যে সমস্ত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত রয়েছেন তারা হযরতের এই শিক্ষা নিজের জীবনের জন্য নিতে পারেন, তা হলো হযরত সারা জিন্দেগী ইলমে দ্বীনের জন্য বিসর্জন দিয়ে গিয়েছেন। আমরাও যেন হযরতের মত নিজের জীবন কে এলমে দ্বীনের জন্য উৎসর্গ করতে পারি।

 

অন্যান্য বক্তারা বলেন, শায়খুল ইসলাম ছিলেন বাংলার ওলামায় কেরামের জন্য বটবৃক্ষের ন্যয়। হযরতের ছায়ায় আমরা শান্তি খুঁজে পেতাম, কিন্ত আজ আমরা মুরুব্বীহারা হয়ে গেছি। হযরতের ছায়ার মত আর শান্তি পাবো কিনা জানি না।

বক্তারা আরো বলেন, শায়খুল ইসলামের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা এই ক্ষুদ্র সময়ে সম্ভব নয়। সপ্তাহ বা মাসব্যাপী আয়োজন করলেও হযরতের বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে আলোচনা শেষ হবে না, তার পরও এই আয়োজন করার জন্য জামিয়া আজিজিয়া প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ কে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

 

পরিষদের দায়িত্বশীলদের মধ্যে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন সভাপতি মাও.তৈয়ব উল্লাহ নাসিম, সেক্রেটারী সৈয়দ হাবিব উল্লাহ বেলালী প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা নুরুল আলম পাটোয়ারী, মাও.জাফর আহমাদ, মো. আব্দুর রশিদ,মাও.হাফজ খলিলুর রহমান, মাও. জিয়াউল হক, মাও. মুফতি মিজান সিরাজ, মাও.নাজমুল হোসাইন ইমন, কাজী সিরাজুল ইসলাম, আবু সাইদ আশেক, সাহেদ আলম প্রমুখ।

 

পরিষদের সভাপতি ও সেক্রেটারী, আলোচনা অনুষ্ঠানকে সুশৃংখল ও সফলতার সাথে আয়োজনের ক্ষেত্রে যারা সময় শ্রম, অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এবং জামিয়ার সম্মানিত পরিচালক সহ ছাত্র শিক্ষকদের সবাইকেও তারা ধন্যবাদ জানান।

 

সভাপতির বক্তব্য হযরত মাও.রুহুল আমিন সাহেব বলেন শায়খুল ইসলাম আমার ওস্তাদ ছিলেন, হযরতের অনেক স্মৃতি আছে কিন্ত সময় সল্পতার জন্য সব বলা সম্ভব নয়। শুধু এটুকু বলবো হযরতের রেখে যাওয়া মিশন বাস্তবায়নে আমরা সকলেই চেষ্টা করে যাবো।
এবং সকলে দোয়া করি আল্লাহ পাক যেন শায়খুল ইসলামকে জান্নাতের আ’লা মাকাম দান করেন। আমাদের মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা শায়েখ, হযরত মাওলানা বজলুর রহমান রহ.কেও আল্লাহ পাক যেন জান্নাতের আ’লা মাকাম দান করেন। ছাত্র পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মাও.হাবীবুর রহমান অসুস্থ তার জন্যও দোয়া করি আল্লাহ পাক যেন শেফায় কামেলা আঝেলা দান করেন, এবং ছাত্র পরিষদের সকল দায়িত্বশীলদের শ্রম, মেধা ও অর্থকে কবুল করেন। সবশেষে সভাপতির দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Sharing is caring!