ডাক্তার শম্ভু দে মারা গেছেন

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত জুন ২২, ২০২০
ডাক্তার শম্ভু দে মারা গেছেন

আলমগীর ইসলামাবাদী 

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের হাড়ভাঙার চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া চকরিয়ার স্বনামধন্য অর্থোপেডিক ডাক্তার শম্ভু দে (৬৬) মারা গেছেন।
তিনি গতকাল রবিবার (২১ জুন) বেলা পৌনে দুইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রামের ডেলটা হাসপাতালে মারা যান।
তিনি পৌরশহরের চিরিঙ্গা হিন্দুপাড়ার প্রয়াত জগৎ চন্দ্র দে’র পুত্র।

পরিবার সূত্র জানায়, মৃত্যুর আগে তিনি তীব্র শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ছিলেন।
তিনি নিয়মিত রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রায় ১০ দিন আগে। এই অবস্থায় তাকে প্রথমে মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিস্টান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রামের ডেলটা হাসপাতালে। সেখানে আইসিইউতে
চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মারা যান তিনি।

এর আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য চিকিৎসক শম্ভুর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেই নমুনার ফলাফলে শম্ভুর করোনা নেগেটিভ আসে।
এদিকে চিকিৎসক শম্ভুর আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো কক্সবাজারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শত শত শুভাকাঙ্ক্ষি শোক প্রকাশ করে পোস্ট দেন। অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ফেসবুক পোস্টে অনেকেই লিখেছেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের হাড়ভাঙার চিকিৎসায় তিনি বেশ সুনাম অর্জন
করেছেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন এতদঞ্চলের গরীব, অসহায় মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল। তিনি মানুষের মাঝে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন গরীবের ডাক্তার হিসেবে।

চিকিৎসক শম্ভুর আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম এমপি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ জানান, প্রয়াত চিকিৎসক শম্ভুকে সবুজবাগস্থ কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে সৎকার্য সম্পন্ন করা হবে। এজন্য সকল প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

Sharing is caring!