৫০ বছরের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে চামড়া শিল্পের উন্নয়নের জন্য: বললেন শিল্পমন্ত্রী

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৯
৫০ বছরের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে চামড়া শিল্পের উন্নয়নের জন্য: বললেন শিল্পমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পের উন্নয়নে ৫০ বছরের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। মন্ত্রী জানান, কোরবানির মৌসুমসহ বছরজুড়ে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় গোডাউন স্থাপন করা হবে। এ জন্য দ্রুত প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেছেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন।

আজ বৃহস্পতিবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০১৯-‘২০ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অধীনে গৃহীত প্রকল্পসমূহের আগস্ট ২০১৯ পর্যন্ত অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিল্পমন্ত্রী এ নির্দেশনা প্রদান করেন।

সভায় জানানো হয় সাভারে অবস্থিত চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার প্লান্ট বা সিইটিপির কাজ এবছরের অক্টোবর মধ্যে শেষ হবে। কঠিন বর্জ্যের জন্য ডাম্পিং নির্মাণের ডিজাইনের কাজ চলমান রয়েছে। চামড়া শিল্প নগরীর পাশে এক্সেসরিজ শিল্প নগরী স্থাপনের জন্য ২০০ একর জমি নিয়ে একটি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চামড়া খাতের দক্ষ কারিগর তৈরি করতে চামড়া শিল্প ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে। সভায় আরও জানানো হয়, মুন্সীগঞ্জে অবস্থিত বিসিক কেমিক্যাল পল্লীর মাটি ভরাটের কাজ এ বছরের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।

শিল্প মন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশনের সাথে যৌথভাবে কাজ করার জন্য বিসিককে পরামর্শ প্রদান করেন। তিনি বলেন, বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা আছে এমন প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পের কাজ দিতে হবে। জমি অধিগ্রহণের কারণে কোন প্রকল্পের কাজ যাতে দেরি না হয় সে বিষয়ে সচেতন থাকার জন্য প্রকল্প পরিচালকের প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন শিল্পমন্ত্রী। রাসায়নিক পণ্য সংরক্ষনের জন্য রাসায়নিক পণ্য সংরক্ষণের জন্য ৩টি রাসায়নিক গুদাম নির্মানের কাজ দ্রুত দৃশ্যমান করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করে তিনি বলেন, একাজে দেরি হলে কোন কারণ গ্রহণযোগ্য হবে না।

শিল্প সচিব মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার।

এসময় শিল্প প্রতিমন্ত্রী একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে পরিকল্পনা শিল্প মন্ত্রণালয় অনুবিভাগ গঠনের নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন শিল্প প্রতিষ্ঠানহসমূহের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উপস্থিত থাকা প্রয়োজন। একইসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সকল প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ গ্রেড হতে উচ্চতর গ্রেডে বদলি মন্ত্রী পর্যায়ে নিষ্পন্ন করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রতিমন্ত্রী আর বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন ১৪টি চিনিকলের জন্য বর্জ্য শোধনাগার প্রকল্প নির্মাণের ক্ষেত্রে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে । তিনি বলেন, হাতে কলমে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দক্ষ নারী কারিগর গড়ে তুলতে বিটাক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। দক্ষ নারী কারিগর সৃষ্টির প্রকল্পটি আগামীতে অব্যাহত রাখার জন্য পরিকল্পনা কমিশনের সাথে দ্রুত যোগাযোগের পরামর্শ প্রদান করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, চিনিকলসমূহকে লাভজনক করতে বহুমুখী পণ্য উৎপাদনের কোন বিকল্প নেই।

Sharing is caring!