পূর্বাচলে প্লট ভাগাভাগির মামলায় আসামি ২৩ হাসিনা-রেহানার বিরুদ্ধে প্রথম চার্জশিট

ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে পরিবারের ৬ সদস্যের মধ্যে পূর্বাচলে অন্তত: ৬০ কাঠার প্লট ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন শেখ হাসিনা-শেখ রেহানা। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার পৃথক ৮টি চার্জশিট দাখিল করার কথা জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক মো: আক্তার হোসেন। চার্জশিটভুক্ত হাসিনা পরিবারের অন্য আসামিরা হলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়েমা ওয়াজেদ পুতুল, রাদওয়ান মুজিব ববি। শেখ রেহানাকন্যা টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া শেখ হাসিনা পরিবারের বিরুদ্ধে বহুমাত্রিক অপরাধের দায়ে দায়ের হওয়া কোনো মামলায় এটিই প্রথম চার্জশিট। এ মামলাগুলোর অন্য আসামিরা হলেন, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তৎকালিন সচিব মো: শহীদ উল্যাহ খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন)কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের তৎকালিন চেয়ারম্যান মো: আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো: নূরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, তৎকালিন সদস্য মেজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপ-পরিচালক মো: হাফিজুর রহমান ও হাবিবুর রহমান, হাসিনা সরকারের গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, শেখ হাসিনার একান্ত সচিব সালাউদ্দিন এবং জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১৪ কর্মকর্তা। তাদের বিরুদ্ধে পৃথক মোট ৮টি চার্জশিট জমা দেয়া হয়েছে। দুদকের উপ-পরিচালক মো: সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি টিম মামলাগুলোর তদন্ত করে। শেষোক্ত ব্যক্তিরা তদন্তে আগত আসাম্ ি
এর আগে গত ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো দায়ের করা হয়।

||
চার্জশিটে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ও পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে বহাল থাকাকালে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নং রাস্তার ৬টি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দ-বিধি, ১৮৬০ এর ১৬১/১৬৩/১৬৪/৪০৯/১০৯ ধারার সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারের বিশেষ ক্ষমতাবলে শেখ হাসিনা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নিজের ও পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়. কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, শেখ রেহানা, ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তির নামে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ সেক্টরের কূটনৈতিক জোনের ২০৩ নম্বর রোড থেকে ১০ কাঠা করে ৬০ কাঠার ৮টি প্লঠ বরাদ্দের অভিযোগ ছিল।

এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের ৬ সদস্যের বিরুদ্ধে পূর্বাচলে প্লঠ বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। দেড় দশক দেশ শাসনের পর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট ভারত পালিয়ে যান।

দুদক গত বছরের ২২ ডিসেম্বও শেখ হাসিনা,পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে ওঠা ৩শ’ মিলিয়ন ডলার (৩০ হাজার কোটি টাকা) বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। তার আগে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা পরিবারের বিরুদ্দে বিভিন্ন প্রকল্পে ৮০ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম কাজ করছে। একই দলকে নতুন করে আসা ৩শ’ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদক।