নতুন দল কি বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ?

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি বেশ ভালোভাবে প্রস্তুতি শুরু করেছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তৃণমূল নেতাদের নিয়ে বর্ধিত সভা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বলা যায়, দলটির নির্বাচনী যাত্রা শুরু হয়েছে। বর্ধিত সভাটি যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রেকর্ড করা বক্তব্য প্রচার করা থেকে বোঝা যায়। নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন তাদের প্রিয় নেত্রীর বক্তব্য শুনতে পাচ্ছে না। তাদের এই ইচ্ছা ও আকাক্সক্ষাকে সামনে রেখে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় তিনি এই বক্তব্য দিয়েছেন। এতে সভায় অংশগ্রহণকারি তৃণমূলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বেশ উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। বলা বাহুল্য, বেগম খালেদা জিয়া দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। তিনি যে পথে যান, সে পথে মুহূর্তে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে যায়। জনতার উদ্দেশ্যে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করে সেই পথ পাড়ি দিতে তাঁর অনেক সময় লেগে যায়। তিনি যে, প্রকৃতই দেশনেত্রী এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে আপসহীন, এজন্যই তার কথা শোনা কিংবা তাঁকে একনজর দেখার জন্য মানুষ উন্মুখ হয়ে থাকে। ফ্যাসিস্ট হাসিনার প্রতিহিংসা ও রোষাণলে পড়ে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে গিয়েও তিনি আপস করেননি। তারপরও ফ্যাসিস্ট হাসিনার প্রতি তাঁর কোনো রাগ-ক্ষোভ ও প্রতিহিংসা নেই। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল কয়েক মাস আগে তাঁর সাথে দেখা করে এসে ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, হাসিনাকে নিয়ে তিনি একটি কথাও বলেননি। বহুভাবে চেষ্টা করেও তাঁর মুখ থেকে হাসিনার প্রতি রাগ-ক্ষোভের কথা বের করতে পারেননি। তিনি শুধু আল্লাহর কাছে তাঁর দুঃখ-কষ্টের কথা বলেছেন। এই হচ্ছেন, বেগম খালেদা জিয়া। ফলে এমন নেত্রীর প্রতি দলের নেতাকর্মী তো বটেই জনগণের ভালবাসা উপচে পড়া স্বাভাবিক। সেই তিনি যখন বর্ধিত সভায় নেতাকর্মীদের সামনে বক্তব্য দেন, তখন তার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘আসুন, প্রতিহিংসা-প্রতিশোধ নয়, পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে সবাই মিলে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে একটি বাসযোগ্য উন্নত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করি।’ তিনি জিয়াউর রহমানের একটি উক্তি নেতাকর্মীদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়েও দেশ বড়’Ñএ কথা মনেপ্রাণে ধারন করে তাদের পথ চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর এই কয়টি কথার মধ্যেই তিনি যে দেশনেত্রী, তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। তার এ বক্তব্যকে তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, আজ বেগম খালেদা জিয়ার জায়গায় যদি শেখ হাসিনা বক্তব্য দিতেন, তাহলে কি বলতেন? যাই হোক, বর্ধিত সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় হয়ত ঘনিয়ে এসেছে। তাই কোনো ব্যক্তি নয়, বরং দলকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।

দুই.
প্রশ্ন হচ্ছে, নতুন প্রেক্ষাপটে বিএনপি আগামী নির্বাচনের জন্য কী ধরনের প্রস্তুতি নেবে? দলটি কি সেই পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় প্রস্তুতি নেবে, নাকি নতুন চিন্তাভাবনা, যা দেশের মানুষকে ও তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করে এমন চিন্তাভাবনা নিয়ে প্রস্তুতি নেবে? এটা অনিবার্য সত্যে পরিণত হয়েছে, মানুষ আর পুরনো ধারার রাজনীতি চায় না। তারা নতুন ধারার রাজনীতি, যাতে সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত এবং তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও তাদের মূল্যায়ণ হয়, সে ধরনের রাজনীতি চায়। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের মনোজগতে অনেক পরিবর্তন ঘটে গেছে। তারা এখন সাহসী এবং তাদের অধিকারের ব্যাপারে অনেক সচেতন। বিএনপি কি জনগণের মনোজগতের এই পরিবর্তন ধরতে পারছে? যদি না পারে এবং প্রথাগত রাজনীতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখে, তাহলে এর চেয়ে বড় ভুল আর কিছু হতে পারে না। তার ক্ষমতায় যাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। আবার পরিবর্তন বলতে এটাও নয় যে, দলের আদর্শের ভিত্তি, নীতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বরং এসব মৌলিক বিষয় ধারন করেই মানুষের মানসিকতার যে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে তা অনুধাবন করে আধুনিক, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। দেশকে রাজনৈতিক দলগুলোর তালুক ভাবার দিন শেষ। এ উপলব্ধি বিএনপিকে করতে হবে। দলটি যদি মনে করে, অতীতের মতো সুন্দর সুন্দর কথা ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে কিংবা লোকদেখানো কর্মসূচি দিয়ে মানুষের মন জয় করবে, তবে তা হবে দলটির অদূরদর্শিতা ও কূপমন্ডুকতা। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন এবং আওয়ামী লীগের গুপ্ত দলে পরিণত হওয়া মানেই বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার পথ পরিস্কার ও মসৃণ হয়ে গেছে, এ চিন্তা যদি দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বদ্ধমূল হয়ে থাকে, তাহলে তাদের কপালে দুঃখ ছাড়া কিছু নেই। হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরে তাদের যে সীমাহীন নিপীড়ন-নির্যাতন ও দুঃখ-কষ্ট সইতে হয়েছে এবং তার অবসানের পর যে শান্তির আশা করছে, পরিবর্তীত পরিস্থিতি বুঝতে না পারলে, সে আশা দূরাশায় পরিণত হয়ে যাবে। বিএনপির অনেক নেতাকর্মীদের মধ্যে এ প্রবণতা দেখা দিয়েছে যে, তাদের ক্ষমতায় যাওয়া কেবল সামান্য দূরত্বের ব্যাপার। তাদের কর্মকা- এবং বডিল্যাঙ্গুয়েজে, তা ফুটে উঠেছে। এটা হয়ত স্বাভাবিক মনে হতো, যদি প্রথাগত রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে কিংবা দলটির আন্দোলনে হাসিনার বিদায় হতো। বাস্তবতা হচ্ছে, হাসিনার বিদায় কোনো রাজনৈতিক দলের নেত্রীত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে হয়নি, যেমনটি হয়েছিল এরশাদের পতনের সময়। হাসিনার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান সত্যিকার অর্থেই ছিল সিভিল রেভ্যুলেশন ছিল। এর পেছনে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল ব্যাকআপ হিসেবে থাকলেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। অস্বীকার করার উপায় নেই, বিএনপি হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরে অনেক ত্যাগ ও জীবন ক্ষয় করেছে। দলটির উপর ফ্যাসিস্ট হাসিনার নিঃশেষকরণ প্রক্রিয়া এবং তার দুঃশাসন সাধারণ মানুষের মনের ক্ষোভকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে বিএনপির একক ভূমিকা রয়েছে। কারণ, হাসিনার এক নম্বর টার্গেট ছিল বিএনপিকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়া। সাধারণ মানুষ এটা ভালোভাবে নেয়নি। ফলে তাদের মধ্যে হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে বিতাড়নের সংগ্রামী মনোভাব গড়ে তুলতে বিএনপির ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই। সে কোনো গুপ্ত দল হয়ে গুপ্ত আন্দোলন করেনি। প্রকাশ্যে করেছে এবং করতে গিয়ে হাসিনার বাধা-বিপত্তি ও খুন-গুম, হামলা-মামলা, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছে। মানুষের মনোজগতে ফ্যাসিস্ট হাসিনাবিরোধী মনোভাব তৈরি করতে দলটি ভূমিকা রেখেছে। বিএনপি যদি দেড় দশকের বেশি সময় ধরে হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগ স্বীকার না করত, হাসিনার প্রস্তাব অনুযায়ী, জাতীয় পার্টির মতো ক্ষমতা ভাগাভাগি করে গৃহপালিত বিরোধীদল হয়ে থাকত, তাহলে পরিস্থিতিটা কী হতো? কোন দল আন্দোলন করত? ছাত্র-জনতার আন্দোলন কি ভিত্তি লাভ করত? হাসিনার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির নেতাকর্মী বাদে তার সমর্থক ও তাদের শিক্ষার্থী সন্তানরা কি অংশগ্রহণ করে নাই? দলটির প্রায় পাঁচ-ছয়শ’ নেতাকর্মী কি শহীদ হয়নি? সাড়ে ১৫ বছরে তো বিএনপি শুধু এক হাসিনার বিরুদ্ধে লড়েনি, লড়েছে ভারত ও আন্তর্জাতিক নানা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে। ভারত যদি হাসিনাকে ব্যাকআপ না দিত এবং সে যদি নিষ্ঠুর সইকোপ্যাথ না হতো, তাহলে বিএনপি যে আন্দোলন করেছে, তাতে কি সে দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় থাকতে পারত? পারত না। এ বাস্তবতা উপেক্ষা বা অস্বীকার করার উপায় নেই।

তিন.
রাজনীতি সবসময় সরল রেখায় চলে না। তা সময়ের সাথে সময় বুঝে করতে হয়। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের রাজনীতির খোলনলচে অনেকটাই বদলে গেছে। তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে পুরনোগুলোই রয়ে গেছে। দলগুলো যদি হাসিনার বিদায়ের পর মানুষের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক মনোভাব বুঝতে না পারে, তাহলে তাদের বিপর্যয় ঠেকানো যাবে না। তাদের এটা মনে রাখতেই হবে, প্রথাগত রাজনীতির দিন শেষ। তরুণরা নতুন যে জাতীয় নাগরিক পার্টি তৈরি করেছে, তার প্রতি মানুষের আগ্রহ ও দৃষ্টি রয়েছে। দলটি যদি নতুন ধারার স্বতন্ত্র রাজনীতি দিয়ে মানুষের এই আগ্রহ ও দৃষ্টি ধরে রাখতে পারে এবং জনগণের ‘লিটমাস টেস্টে’ উত্তীর্ণ হয়ে যায়, তাহলে পুরনো দলগুলোর জন্য দলটি এককভাবেই চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে পরিবর্তীত প্রেক্ষাপটে বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠা অসম্ভব কিছু নয়। আর যদি জাতীয় নাগরিক পার্টি পুরনো রাজনীতির বেড়াজালে আটকে যায়, তাহলে তার পথ হারাতে বেশি সময় লাগবে না। দলটিকে মনে রাখতে হবে, শিশু ভূমিষ্ট হয়েই দৌড়াতে পারে না। তাকে প্রথমে দাঁড়াতে হয়, হাঁটা শিখতে হয়, তারপর দৌড়াতে হয়। বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের দেশে অনেক নতুন রাজনৈতিক দল বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে গঠিত হলেও সেগুলো অঙ্কুরে বিনষ্ট হয়ে বনসাইয়ে পরিণত হতে দেখা গেছে। কালক্রমে ক্ষমতার হালুয়া-রুটির ভাগের জন্য বড় দলগুলোর লেজে পরিণত হতে হয়েছে। নতুন রাজনৈতিক দলের এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। বিএনপি যদি নতুন রাজনৈতিক দলকে হালকাভাবে নিয়ে পুরনো ধারার রাজনীতি নিয়েই আকড়ে ধরে থাকে, তাহলে তার জন্য বড় বিপদ সামনে অপেক্ষা করছে। আগেই বলেছি, জনগণের মনমানসিকতা এখন আর সেই পুরনো রাজনৈতিক বাতাবরণে নেই। তারা রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ ভাব কাটিয়ে নতুন কিছুর প্রত্যাশা নিয়ে বসে আছে। যত বড় বা নামী দল হোক না কেন, যদি তাদের প্রত্যাশা পূরণ হবে না মনে করে, তাহলে তাকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে দ্বিধা করবে না। এখন আর মানুষকে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দিয়ে বা তাদের সামনে তা সুশোভিত করে তুলে ধরে ভোলানো যাবে না। যে দল জনগণের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি দেবে এবং যদি মনে হয়, এ দল তা পূরণ করতে পারবে, সে দল নতুন বা পুরনো হোক, তাকেই ক্ষমতায় বাসাবে। আবার তাদের সামনে খুব বেশি অপশন না থাকলে, এককভাবে কাউকে ক্ষমতায় না বসিয়ে যৌথভাবে বসিয়ে দিতে পারে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে বিএনপির। বিএনপি যদি তা উপলব্ধি করতে না পারে, তাহলে তার দুর্গতি কখনোই কাটবে না। আমাদের দেশের রাজনীতি যেমন জটিল, তেমনি সরলও। সাধারণ মানুষের চাওয়াও খুবই অল্প। প্রথমত তারা তিনবেলা পেটভরে খেতে চায়। দ্বিতীয়ত স্বচ্ছল ও স্বাবলম্বী হতে চায়। ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন চায়। এর বাইরে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি ভারতের আধিপত্যবাদের চির অবসান চায়। এই সাধারণ চাওয়া যে দল পূরণ করতে পারবে, তাদেরই তারা ক্ষমতায় বসাবে। জনগণের এ চাওয়া বিএনপি বোঝে না, তা মনে করার কারণ নেই। তবে বিএনপি আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য কি প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তা বোঝা দরকার। বিএনপি এখন সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে, তার ৩১ দফা প্রচার-প্রচারণা নিয়ে। এ নিয়ে সভা-সেমিনার ও মতবিনিময় সভা করছে। এটা একটা কর্মসূচি। তবে এটাও বুঝতে হবে, এই দফা-রফা সাধারণ মানুষ খুব কম বোঝে। এগুলো এসি রুমে বসে বুদ্ধিজীবীদের আলোচনার বিষয়। তারা এগুলো নিয়ে আলোচনা করবে, সমাধান খুঁজবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ এখন কষ্টে জীবনযাপন করছে, বেকারত্ব হু হু করে বাড়ছে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়ে গেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে রয়েছে, এগুলো নিয়ে বিএনপির জোরালো কোনো কর্মসূচি নেই, সভা-সেমিনার নেই। কেবল মুখে মুখে লিপসার্ভিস দিচ্ছে। বড় দল এবং সম্ভাব্য ক্ষমাতাসীন দল হিসেবে বিএনপির কাছ থেকে মানুষ বাস্তবভিত্তিক ও মৌলিক এ বিষয়গুলো নিয়েই কথা শুনতে চায়, থিওরিটিক্যাল আলাপ শুনতে চায় না। বিএনপি যদি মানুষের এসব বিষয় নিয়ে নিরন্তর কথা ও কাজ না করে, তাহলে মানুষ তার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে দ্বিধা করবে না।

চার.
সাধারণ মানুষ জানে, নির্বাচন হলে যে যত কথাই বলুক না কেন, বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এ মুহূর্তে বড় দল হিসেবে বিএনপি ছাড়া অন্যকোনো দল নেই। ফলে জনগণের প্রত্যাশাও তার প্রতি বেশি। তবে জনগণ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেখবে, বিএনপি তাদের কল্যাণে কি কি কর্মসূচি নিয়েছে। নির্বাচনের আগের সময়টুকু ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপি কি করতে পারে, তার একটি ট্রায়াল বা পরীক্ষামূলক সময়। কোনো বইয়ের মুখবন্ধ বা রচনার সূচনার মতো। এই সময়টুকুতে যদি বিএনপি জনগণের প্রত্যাশা পূরণের কোনো ইঙ্গিত বা বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ না নেয়, তাহলে তারা হতাশ হয়ে ভিন্ন চিন্তা করতে পারে। তখনই অপশন হিসেবে তাদের সামনে আসবে নতুন দল। মানুষ তারা কি করতে পারে, এ চিন্তা করে ক্ষমতায় পাঠাতে পারে। আমাদের দেশের মানুষের পক্ষে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। বিএনপিকে কি করতে হবে, তা বোধকরি বলে দেয়ার কিছু নেই। তবে অতি আত্মবিশ্বাসে মানুষের বোধবুদ্ধির দুয়ার অনেক সময় রুদ্ধ হয়ে যায়। তখন তাকে হুঁশে ফেরাতে কিছু কথা বলে দিতে হয়। বিএনপির উচিৎ, এ সময়ে জনগণের সমস্যার দিকে বেশি দৃষ্টি দেয়া। আর ভারতের আধিপত্যবাদী আচরণের বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে কথা বলা। ভারতের যেকোনো অন্যায় আবদার ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। বিএনপি সম্প্রতি উত্তরবঙ্গে ন্যায্য ইস্যুতে তিস্তা প্রকল্পে ভারতবিরোধী কর্মসূচি পালন করেছে। এটা সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। তবে এ ভারতবিরোধিতা যাতে লোকদেখানো না হয়, তা দলটিকে নিশ্চিত করতে হবে।