August 14, 2020, 9:12 am

বাংলাদেশে আরাফার রোজা কোনদিন?

মুহাম্মাদ দেলোয়ার হুসাইন

বাংলাদেশে আরাফার রোজা কোনদিন – এটা নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে বিভ্রান্তি চলছে। এক্ষেত্রে আমাদের করণিয় কি?

আরাফার রোজা সৌদিআরবের সাথে সম্পৃক্ত এমন কোনো হাদিস তো নেই। তাহলে কেন আমরা বারবার সৌদি প্রসঙ্গ টেনে আনছি? এক্ষেত্রে অনেকেই যুক্তি দিবেন হাজিরা যেদিন আরাফার ময়দানে উপস্থিত থাকবেন সেদিনই আরাফা এবং সেদিনই আরাফার রোজা রাখতে হবে!
ভালো কথা! এখন আমার নিচের যুক্তিগুলো খন্ডন করেন পারলে!!

➡আজ আমরা ইন্টারনেটের কল্যানে জানতে পারছি সৌদিতে কবে চাঁদ উঠেছে এবং কবে হাজিরা আরাফায় অবস্থান করছে। এজন্য আমরা তার অনুকরণে রোজা রাখছে পারছি। আচ্ছা আজ থেকে ১০০/৫০০/১০০০ বছর আগের কথা চিন্তা করেন তো! তখন তো কোনো ইন্টারনেট, মোবাইল কিছুই ছিলনা। তাহলে তখন দূরের মানুষ কিভাবে বুজত যে হাজিরা কবে আরাফায় অবস্থান করছে??? তাহলে তারা নিশ্চয়ই নিজেদের স্থানের চাঁদ দেখে সেটা পালন করতো! তবে আমরা কি এমন হয়ে গেলাম যে তাদের আমল বাদ দিয়ে নিজেরা মনগড়া তারিখ নির্ধারণ করে নিলাম?

✅ আপনি এই বলে যুক্তি খন্ডন করবেন যে, তারা জানতো না তাই ভুল করেছে! তাই বলে আমরা জেনে শুনেও কি তাই করব? সুন্দর কথা! এবার দ্বিতীয় যুক্তি খন্ডন করেন তো?

➡পশ্চিমা তথা ইউরোপ, আফ্রিকা, আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া মহাদেশগুলোর কথায় আসি! সৌদি আরবের সাথে সেখানকার সময়ের ব্যবধান কোথাও কোথাও ১০ থেকে ১২ ঘন্টা পর্যন্ত হয়ে থাকে! তাহলে যখন হাজিরা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবে তখন সেখানে রাত! তাহলে তারা কিভাবে রোজা টা রাখবে?
▶বলবেন পরের দিন রাখবে! তাহলে বাংলাদেশে পরের দিন রাখলে সমস্যা কি?

➡আচ্ছা সৌদির সাথে মিল রেখে আরাফা পালন করলাম।তারপরের দিন তো সেখানে ঈদ! তো আপনি কেন আরো একদিন পরে এদেশের তারিখ মিলিয়ে ঈদ করবেন??? এটা কোন দলিলের ভিত্তিতে? বিষয়টি এমন হয়ে গেল না, দরবার মানি তালগাছ আমার? বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে আরাফা হলে তো আপনার কথা মোতাবেক শুক্রবার বাংলাদেশে ঈদ!আর ঈদের দিন রোজা রাখা তো হারাম! তাহলে কি শুক্রবার যারা রোজা রাখবে তারা হারাম কাজ করবে?

➡এবার কোনো যুক্তিতে না পেরে বলবেন, দুদিনই রাখি! সমস্যা কি?

আপনি যদি যিলহাজ্জের নয়টি রোজাই রাখেন ফাবিহা। কিন্তু আরাফার রোজা একটিই। নয়-ই যিলহাজ্জ। এখানে সন্দেহের কোনো সুযোগ নেই। এদিন নাকি সেদিন এমন তারাদ্দুদের সুযোগ নেই। কারণ, ইসলাম সকল প্রকার সন্দেহের উর্ধ্বে। অনেকেই হিকমাতের দোহাই দিয়ে দু’টি রোজা রাখারও পরামর্শ দিচ্ছেন। যা স্পষ্ট ভ্রান্তি।

#আরাফার দিনের আমল দু’টি।

১. উকূফে আরাফা বা আরাফায় অবস্থান করা।
২. সাওমে ইয়াওমে আরাফা বা আরাফার রোজা।

প্রথমটি নির্দিষ্ট দিন, নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট স্থানের সাথে খাস।
পক্ষান্তরে ২য় টি নির্দিষ্ট দিনের সাথে।
সেটি হলো নয়ই যিলহাজ্জ, যা সাহাবা আজমাঈন ও সালাফের বর্ণনা থেকে প্রমাণিত। অনেকটা নামায ও রোজার মতো। যিনি যেখানে আছেন সেখানের হিসাব।
:
হিসাব স্পষ্ট।

অনেকেই আবার এটা বলছেন দুদিনই রোজা রেখে দেই! তাহলে তো নিশ্চিত!! বিষয়টা আরো জটিল এবং মারাত্মক স্ববিরোধী। আপনি যদি ৮ এবং ৯ যিলহজ রোজা রাখেন আরাফার দিন হিসেবে (যেন কোনোভাবেই মিস না হয়), তাহলে ৮ তারিখ আরাফা হলে ৯ তারিখ ঈদ ধরতে হবে। আর ৯ তারিখ তথা ঈদের দিন তো রোজা রাখা সম্পূর্ণ হারাম! তাছাড়া আরাফার দিন তো একটিই। দুটো দিন তো আর না। তাহলে আরাফার নিয়তে টানা দু’দিন রোজা রাখার যৌক্তিকতা এবং দলীল কোথায়?

আবার কেউ যদি আপনাকে প্রশ্ন করে,ভাই তাহলে সউদির সাথে মিলিয়ে রমযানের রোযা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সহ অন্যান্য আমলগুলোও কেন করছেন না? তখন উত্তর কী হবে?

মোট কথা শরীয়াতের কিছু আমল আছে যেগুলো চন্দ্র দেখার সাথে সম্পর্কিত। বিশেষ কোনো স্হানের সাথে নয়।

হ্যাঁ, যিলহজ মাসের প্রথম দশক যেহেতু বছরের শ্রেষ্ঠ সময় সেহেতু আপনি আরাফার আগের দিন নফল রোজার নিয়তে সিয়াম পালন করতে পারেন। কিন্তু আরাফার রোযার নিয়ত করা যাবে না।

স্হানীয় সময় অনুযায়ীই (যেই দেশে যেইদিন ৯ যিলহজ হবে) আরাফার রোযার দিন নির্ধারিত হবে।

সৌদিকে কেন্দ্র করে কোনো আমল নির্ধারিত হবেনা। সোদিআরব থেকে ইসলাম ছড়িয়েছে বলে আমলগুলো সৌদিকে কেন্দ্র করে করতে হবে এটা ইসলামের সৌন্দর্য নয়। ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় খাস না। ইসলাম এসেছে সর্বযুগের সকল দেশের সকল মানুষের নাজাতের জন্য। এটি কিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল মানুষের মুক্তির একমাত্র পন্থা! সুতরাং এটি নির্দিষ্ট কোনো স্থানের এতায়াত না।

আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে সঠিক বুজে সঠিক আমল করার তৌফিক দান করুন, আমীন।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর

ফেসবুক পেইজ