August 14, 2020, 8:36 am

তুরস্কে ইসলামিক রাজনৈতিক শক্তির উত্থান-অভিযোগ ও জবাব খন্ডন: কাজী সফি আবেদীন

  • কাজী সফি আবেদীন

তুরস্ক এক সময় ইসলামিক সভ্যতা সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল ছিল, উনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইউরোপিয়ানদের মদদপুষ্ট স্যাকুলার কামাল আতাতুর্কের বিষাক্ত চিন্তা চেতনায় ধ্বংশ করে দিয়েছে মুসলমানদের গৌবরের সেই ইতিহাসকে (এই বিষয়ে আমার লেখা আর্টিক্যালগুলো পড়ে নিতে পারেন) এরপর যারা’ই মাতা উঁচু করে দাঁড়াবার চেষ্টা করেছেন তাদেরকে স্যাকুলারপন্থীদের আক্রোশের শিকার হতে হয়েছে৷

১৯৭০ এ নাজমুদ্দীন আরবাকান তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ইসলামের খেদমাত আঞ্জাম দিতে গিয়ে স্যাকুলারদের অক্রোশের শিকার হতে হয়েছিল, এরপর আইন হয় রাস্ট্রীয় সর্বোচ্ছ ক্ষমতার আসনে থাকবে স্যাকুলার সেনা সমর্থিত ব্যাক্তি, এ কারণেই কোন ইসলাম পন্থী দল ক্ষমতায় গিয়ে বেশিদিন টেকতে পারেনা৷

১৯৮০ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর এক মার্শাল “ল” জারির মাধ্যমে সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়, এরপর যখন ৮৩ তে রাজনৈতিক দলগুলো থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয় তখন নতুন রুপে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্লাটফর্ম তৈরি হতে থাকে, প্রফেসর নাজমুদ্দীন আরবাকান এর রাফা পার্টি, তুর্গত আওযাল এর পার্টি এবং সেনা সমর্থিত দুইজন প্রাক্তন জেনারেল এর রাজনৈতিক পার্টিগুলো নির্বাচনে অংশ নেন৷

নকশেবন্দী (শায়খ সিকান্দার পাশা নকশেবন্দী) সিলসিলার মদদপুষ্ট তুর্গত আওযাল এর পার্টি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসেন৷ ৮৩ থেকে ৮৮ পর্যন্ত তিনি দেশে এবং পররাস্ট্র নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন, ইসলামিক সভ্যতার বিস্তারে ব্যাপক অবদান রাখেন৷

১ম অভিযোগঃ-

এই ক্ষেত্রে আমাদের দেশের অনেক কলামিস্ট ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিগন তুরস্কে ইসলামপন্থীদের রাজনীতির উত্থানের পেছনে স্যাকুলারদের সাথে জোটভুক্তির দিকে ইঙ্গিত করে থাকেন, প্রকৃত পক্ষে তখন তুরস্কের রাস্ট্রীয় আঈন ই ছিল রাস্ট্রপ্রধান সেনা সমর্থিত থাকবে কিন্তু জোটবদ্ধ হওয়ার কথা শুনা যায়না, ৯০ তে যখন তুর্গতের আমলের সেনা সমর্থিত প্রেসিডেন্ট “কেনান ইভরেন” কে এক টিভি ইন্টারভিউ অনুষ্ঠানে প্রশ্ন করা হয়েছিল “তুর্গত আওঝাল” এর ব্যাপারে, জবাবে কেনান স্পষ্ট ভাবে বলেছিল, তুর্গত নকশেবন্দী সিলসিলার সাথে সম্পৃক্ত এটি সত্য, কিন্তু তা আমার জানা ছিলনা, নতুবা কখনোই তাকে রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হতনা, সূত্র (তুর্কে নাদাঁ ছে তুর্কে দানাঁ তক, পৃষ্ঠা নং ৯৯) এরপরও কি বলবেন ইসলামপন্থীদের রাস্ট্রীয় ক্ষমতায়ন স্যাকুলারদের হাত ধরে হয়েছে?

২য় অভিযোগঃ-
চরমোনাই পীর সাহেব কর্তৃক আয়া সোফিয়া ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট এরদোগান কে শুভেচ্ছা জানানোর পর জামায়াত ও কাওমী ঘরাণার কিছু ভাইয়েরা চরমোনাইর প্রতি প্রশ্ন তুলেছেন যে, জামায়াত ধাঁচের! প্রেসিডেন্ট কে চরমোনাই কি করে অভিনন্দন জানায়?

জেনে রাখা ভালো যে, তুরস্কের একে পার্টির মুলে হচ্ছে সূপিবাদী শায়খ মাহমুদ আফেন্দী নকশেবন্দী হাফি. ও তার অনসারীগণের পুর্ণ সমর্থন, যাহা হানাফি, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ এবং দেওবন্দী চেতনায় প্রতিষ্ঠিত৷

এরদোগান যখন দেখলেন তৎকালিন পরিস্থিতিতে রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়া এবং টিকে থাকা মুশকিল, তখন তিনি প্রথমে ইস্তাম্বুলের মেয়র পদে নির্বাচন করার মনস্থির করলেন, এই লক্ষে তিনি ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করলেন, তাদের দাওয়াতী ফলিসি তাবলীগ জামাআত এর কর্ম পদ্ধতীর মত ছিল, মহিলা এবং পুরুষদের পৃথক পৃথক জামায়াত পৃথক পৃথক দ্বীনি কাজ চালিয়ে গেলেন৷

শহরের প্রতিটি গলি, প্রতিটি ঘরে দাওয়াত পৌঁচে দেওয়া হয়েছিল, অসহায়, বিধবা, এতিম ও কর্মহীন মানুষদের পাশে দাড়িয়েছিলেন, জনকল্যাণমুলক কাজে ব্যাপক হারে অংশগ্রহণ করে জনগণের মন জয় করেছিলেন, ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পুরণ করেছিলেন৷

তাদের দাওয়াতী প্রচারণায় ছিল হাছানুল বান্না, সাইয়্যেদ কুতুব, হযরত আলি মিঞা এবং ইুউসুফ কান্দলভী রাহিঃ গনের পুস্তক৷ এভাবেই পাঁচ বছর মেহনতের বদৌলতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যাব এরদোগানের রাজনৈতিক সফলতা অর্জন করেন৷

সূত্রঃ- তুর্কে নাদাঁ ছে তুর্কে দানাঁ পৃষ্ঠা নং ১০১-১০২ (উর্দূ)

জামায়াতের ভাইয়ারা, তুরস্কের ইসলামিক বিপ্লবের পেছনের শক্তি এবং আপনাদের রাজনৈতিক শক্তি আর চরমোনাই পীর সাহেবের অভিনন্দনের বিষয়টি আশাকরি বুঝতে পেরেছেন, অযথা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে যাবেননা৷

 

লেখক:-

কাজী সফি আবেদীন

বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর

ফেসবুক পেইজ