August 15, 2020, 7:37 am

কওমী অঙ্গনে নজিরবিহীন অস্তিরতা চলছে: মুছা বিন ইজহার চৌধুরী

বেশ কিছুদিন যাবৎ ক্বওমী অঙ্গনে নজিরবিহীন অস্থিরতা চলছে। অরাজকতাটা কেন্দ্রীয় এবং মৌলিক জায়গায়। আমাদের আশা ভরসার জায়গাটাকে ব্লাকমেইলিং করার প্রয়াসটা হেফাজতের উত্থানের সূচনালগ্ন থেকেই। আব্বা বলেছেন আর হুজুর বলেছেন জাতীয় ডায়লগের মাধ্যমে বাংলাদেশের শীর্ষ কয়েকজন আলেমের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টির মাধ্যমে এর পথচলা শুরু। পরবর্তী সময়ে নিরংকুশ কেন্দ্রীয় আনুগত্যের আশ্রয়ে কয়েকজন প্রখ্যাত আলেমকে সম্পুর্ণ কোনঠাসা করা হয়। কাউকে কাউকে মাইনাস করা হয়। ধীরে ধীরে সুবিধাবাদী মহলটির অপতৎপরতা আরো বৃদ্ধি পেতে পেতে এখন অবস্থা এমন পর্যায়ে এসে দাড়িয়েছে যে, বাংলাদেশে এক দুই জন বাদে আর কোন আলেম আছে বলে মহলটি মনে করেনা।
শরঈ মানদেন্ডের বাইরে গিয়ে নাহক্ব মাত্রাতিরিক্ত আনুগত্য, চাটৃুকারিতা, মোসাহেবী, কুটচাল, যেকোন উপায়ে স্বার্থসিদ্ধি ইত্যাদির ব্যাপক চর্চার মাধ্যমে আশার কেন্দ্রবিন্দুকে তিলে তিলে ধ্বংস করা হয়। আমাদের আস্থার জায়গা টুকু নষ্ট করে দিয়ে বন্ধুরূপী ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী শত্রু মহল অনেকটাই সফল। কেউ কেউ আওয়াজ তোলার চেষ্টা করেছেন। আমরা পাত্তা দেইনি। পচন আজ এমন মারাত্মক আকার ধারন করেছে আল্লাহর বিশেষ কুদরত ছাড়া যা সারানোর কোন উপায় দৃশ্যমান নয়। উম্মতের চিন্তাশীল মহল আজ দাঁতে দাঁত কামড়িয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে পরিস্থিতি দেখা ছাড়া আর কোন উপায় দেখছেন না। আগ্রাসী ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে চলা এই বিশাল কাফেলার হাল ধরার মতো নাবিকের আবির্ভাব হবে কি? “রাত পোহাবর কত দেরী পাঞ্জেরী?”
বিন্দু বিন্দু করে বেড়ে উঠা পদস্খলিত এই চক্রটি আজ মিথ্যা নাটক সাজিয়ে দেশের খ্যতিমান ও জনপ্রিয় বেশ কয়েকজন আলেমের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ আওয়ামী স্টাইলে আজগুবী মামলা দায়ের করেছে। (আল্লাহ তাঁদের হেফাজত করুন)। এই আত্মঘাতী তৎপরতার মাধ্যমে চক্রটি তাদের মুখোশের সর্বশেষ আবরণটিও খুলে ফেললো। এই দুষ্টচক্রটি যারা অন্যের চরিত্র হননের, কোনঠাসা করার এবং বিতর্কিত করার সিরিজ তৎপরতা চালিয়ে এসেছে আল্লাহ পাক আজ তাদের নগ্ন ও কদর্য চেহারাটাকে মানুষের সামনে উম্মোচিত করে দিয়েছেন।

ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী অপশক্তির মোকাবেলায় মুফতি আমিনী রহমতুল্লাহি আলাইহির আমৃত্যু আপোষহীন লড়াই মানুষের মনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। এই আপোষহীনতার কারণেই জনপ্রিয়তার শীর্ষচূড়ায় আরোহন করে তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু তাঁর সাইনবোর্ড ব্যবহার করে কিছু মৌলোভী তাঁর মিশনকে ধুলোয় মিশিয়ে দেন। ‘ঠাকুর ঘরে কে রে আমি কলা খাই না’- জাতীয় বচন এর মাধ্যমে মিথ্যার ফুলঝুড়ি দিয়ে নিজেকে ফেরেশতা হিসেবে জাহির করারও চেষ্টা করেন। আমার তো মনে হয় মুফতি আমিনীর আত্মা তাদের প্রতি অবিরত অভিশাপ দিয়ে যাচ্ছে। সত্য উচ্চারণে নির্ভীক আশরাফ মাহদিদের মত সাহসী তরুণদের (আল্লাহ তাকে জালিমের সকল অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন) কারণে আমিনী সাহেবের আত্মা হয়তো প্রশান্ত হতে পারে।
মনে রাখতে হবে, সত্যবিচ্যুতরা যতই শক্তিশালী হোক না কেন পরিনাম কিন্তু সত্যের পথে অবিচল মুখলিস এবং মুত্তাকীনদের জন্য‌ই। দৃশ্যত সাময়িক ক্ষতির শিকার হলেও এদের কোন পরাজয় নেই।
প্রতিহিংসার যে আগুন তারা জ্বালিয়েছে তা তাদেরকেই সমূলে নিঃশেষ করবে ইনশাআল্লাহ।

সত্যের পথে নির্ভীকদের কন্ঠ উচ্চকিত থাকুক, সত্যের পথে কলম সৈনিকদের যাত্রা সফলভাবে অব্যাহত থাকুক, ষড়যন্ত্রকারীরা নিপাত যাক-এই প্রত্যাশায়।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর

ফেসবুক পেইজ