August 7, 2020, 5:30 pm

আয়া সুফিয়ায় জুমার খুতবা

মিজান ইহসানী

উত্তরা(ঢাকা)প্রতিনিধি

৯০বছর পর মসজিদের রুপে ফিরে এসেছে বহুল প্রতীক্ষিত আয়া সুফিয়া ।মুসলমানরা তাদের পুরানো ঐতিহ্য ফিরে পেয়েছে ।ঐতিহাসিক মোবারক মসজিদে ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার কামনায় জুমার নামাজের জন্য অধীর আগ্রহে থাকে মুসলমান ।গত বৃহস্পতিবার থেকেই আয়া সুফিয়া প্রাঙ্গণে ভিড় জমাতে থাকে হাজারো মুসলমান। শুক্রবার গেট খুলতেই আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে সুফিয়ার প্রাঙ্গন।নামাজের মাধ্যমে শুরু হয় আয়া সুফিয়ার আনুষ্ঠানিকতা। জুমার নামাযে ইমামতি করেন ধর্মমন্ত্রী প্রফেসর ড. আলি এরবাশ। উসমানি রীতি মোতাবেক কুরআনের আয়াত খচিত তরবারি হাতে নিয়ে ধর্মমন্ত্রী মিম্বরে আরোহন করেন। প্রথমে উপস্থিত মসল্লীদের প্রতি আল্লাহর রতমত নাযিলের দুআ করে এরবাশ বলেন, মোবারক এই সময়ে পূন্যময় এই স্থানে আমরা ঐতিহাসিক একটি সময় অতিবাহিত করছি।
খুতবায় ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আয়া সুফিয়া কুরবানি ঈদের একেবারে আগ মুহুর্তে, পবিত্র জিলহজ্জ মাসের তৃতীয় দিনে নামাযীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে। আজকের পর তুর্কী জাতির অন্তরে ব্যথা বেদনায় রূপ নেয়া আয়া সুফিয়ার প্রতি আক্ষেপ দূর হবে। তাই প্রথমে মহান আল্লাহর অসংখ্য শুকরিয়া আদায় করি।
আজ আয়া সুফিয়ার গম্বুজ থেকে ‘আল্লাহু আকবার’ ‘লা ইলাহা ইল্লাহ’ ও দরূদের মধুর ধ্বনী ভেসে আসার দিন। আযানের সুমধুর সুর আজ আয়া সুফিয়ার সুউচ্চ মিনারা থেকে ইথারে পাতারে ছড়িয়ে পড়ার দিন। আজ খুশিতে চোখে আসা পানি নিয়ে নামাযে দাঁড়ানো, খুশু খুজুর সাথে রুকুতে যাওয়া ও কৃতজ্ঞতায় মহান আল্লাহর সামনে নিজেদের লালাট মাটিতে ঠেকানোর দিন। আজ বিনয় ও আত্মমর্যাদা প্রকাশের দিন। এমন একটি দিন আমাদেরকে উপহারদাতা, এই জগতের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ স্থান মসজিদে আমাদেরকে একত্রকারী ও পূণ্যময় ইবাদতগাহ আয়া সুফিয়াতে আমাদেরকে প্রবেশাধিকার প্রদানকারী ক্ষমতাধর আল্লাহর অসংখ্য কৃতজ্ঞতা আদায় করছি।
হাজার দরূদ ও সালাম সে মহামানবের প্রতি যিনি আনাগত আমাদেরকে সুসংবাদ প্রদান করে গেছেন নিন্মোক্ত ভাষায়, ‘কনস্টান্টিনোপল একদিন বিজয় হবেই। সে বিজয়ে নেতৃত্বদানকারী সেনাপতি কতই না উত্তম সেনাপতি এবং মহান সে বিজয়ের সৈনিকগুলো কতই না উত্তম সৈনিক।’ শত সহস্র সালাম বর্ষিত হোক প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই সুসংবাদের ভাগিদার হওয়ার জন্য পথে বেরিয়ে পড়া, ইস্তাম্বুলের আধ্যাত্মিক রাহবার আবু আইয়ুব আনসারি রাদিয়াল্লাহুর প্রতি। আরও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর অন্যান্য সাহাবি ও তাদের পথের অনুসারি তাবেঈদের প্রতি।
ইসলামে ফাতহ তথা বিজয় মানে, ভোগদখল নয়; আবাদ করা, ধ্বংস করা নয়; উৎকর্ষতা সাধন করা। ইসলামের এই শিক্ষা বুকে ধারণ করে আনদলুতে আগমণকারী সুলতান আলপ আরসলান ও এখানকার মাটিকে মাতৃভূমি হিসেবে গ্রহণ করে আমাদের কাছে আমানত হিসেবে রেখে যাওয়া শহিদ, গাজি ও ঈমানের নূরে এই ভূমিকে আলোকিতকারী আধ্যাত্মিক রাহবারদের প্রতিও হাজার হাজার সালাম। বিশেষভাবে রহমত বর্ষিত হোক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিশিষ্ট বুযুর্গ আখ শামসুদ্দিন রাহ.এর প্রতি। যিনি ফাতিহ সুলতান মুহাম্মাদের মনোজগতে বিজয়ের অঙ্কুর রোপন করেছিলেন এবং পহেলা জুন ১৪৫৩ সনে এই আয়া সুফিয়াতে প্রথম জুমুআর নামাযে ইমামতি করেছিলেন।
হাজারো সালাম, ফাতিহ সুলতান মুহাম্মাদের প্রতি। যিনি আল্লাহর এই আয়াত থেকে শিক্ষা নিয়েছিলেন, ‘কোনো বিষয়ে যখন পোক্তা ইচ্ছা করে ফেল তখন কেবল আল্লাহর উপর ভরসা করো। মূলত আল্লাত তাআলা তাঁর উপর ভরসাকারীদের পছন্দ করেন।’ ফাতিহ সুলতান মুহাম্মাদ ছিলেন এমনই একজন। ফলে তিনি আল্লাহর উপর ভরসা করে ইস্তব্মুল বিজয়ে সে যুগের সবচে’ উন্নত টেকনোলজি ব্যবহার করেছিলেন। জাহাজগুলোকে তিনি স্থল দিয়ে চালনা করেছিলেন। আল্লাহর উপর ভরসা ও তাঁর একান্ত সাহায্যের ফলে তিনি ইস্তাম্বুলে ইসলামের পতাকা উড্ডীন করেছিলেন। বিজয় বেশে ইস্তাম্বুলে প্র্রবেশ করে সুলতান মুহাম্মাদ এখানকার একটি পাথর কণাতেও ক্ষতি সাধন করার অনুমতি দেন নি। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করুন। পাশাপাশি আয়া সুফিয়াকে মিনারা দিয়ে সজ্জা দানকারী, জগতখ্যাত স্থাপত্যশিল্পী মিমার সিনানের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে শত বছর পরও আজ আয়া সুফিয়া সমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে।
পৃথিবীর সাত মহাদেশের উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম যে যেখান থেকেই আয়া সুফিয়াকে নতুন করে মসজিদে হিসেবে খুলে দেয়ার ফলে খুশি প্রকাশ করছেন- তাদের সবার প্রতি সালাম।
আয়া সুফিয়াকে আজকের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য যারাই শ্রম দিয়েছেন সবার প্রতি সালাম।
আয়া সুফিয়া পনের শ’ বছর ধরে মানব ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে। তাই এটি জ্ঞান বিজ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ইবাদতের অন্যতম মারকায। আয়া সুফিয়া মহান আল্লাহর দাসত্ব ও তাঁর কাছে নিঃশর্ত আনুগত্যের অন্যতম নিদর্শন।
ফাতিহ সুলতান মুহাম্মাদ চোখের মণি এই ইবাদতখানাটিকে কেয়ামত পর্যন্ত আবাদ রাখার জন্য মুমিনদেরকে আমানত হিসেবে ওয়াকফ করে গেছেন। মুসলিম হিসেবে আমাদের বিশ্বাস হল, ওয়াকফকৃত সম্পদে কারো হস্তক্ষেপ বৈধ নয়; ওয়াকফকৃত সম্পদের প্রতি প্রসারিত হাদ পুড়ে ছারছার হয়ে যায়। ওয়াকফের শর্তগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ পূরণ করতে হয়। গাদ্দারি করলে আল্লাহর লানত বর্ষিত হয়। সুতরাং ইতিহাস পরম্পরায় আয়া সুফিয়া কেবল তুর্কী জাতির মালাকানাধীন কোনো সম্পত্তি নয়; বরং গোটা মুসলিম উম্মাহর এই সম্পদ।মুসলমানের দূরে থাকতে হবে ইহুদী খৃষ্টানদের থেকে। মুসলিম যুবকদের জিহাদের ঝান্ডা তুলে ছুটতে হবে জিহাদের ময়দানে। হাল জামানার সমস্ত ফেতনা রুখতে হবে তরবারির ঝনঝনিতে। কোরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক গড়তে হবে আলোকিত জীবন।উল্লেখ্য আয়া সুফিয়াতে ইসলামের ঐতিহাসিক সাম্যের বাণী উচ্চারিত হয়েছিল সুলতান মুহাম্মাদের জবানে ইস্তাম্বুল বিজয়ের মাধ্যমে। মোহাম্মদ আল ফাতেহ এর রুহানি সন্তান রজব তাইয়্যেব এরদোগান সুফিয়া খোলার মাধ্যমে প্রমাণ করতে চান মুসলিম উম্মার আসন্ন বিজয়। উল্লেখ্য রূপান্তর করার পর তিনি এক টুইটে বলেন , আমরা অচিরেই বায়তুল মুকাদ্দাস জয় করে পৃথিবীর সমস্ত অন্ধকার আর নির্যাতন নির্যাতন থেকে বেরিয়ে আসবো ।আয়া সুফিয়া ফিরে পাওয়া শুধু মুসলমানদের জন্য নয় বরং দাম্ভিকতা পোষনকারীদের জন্য ভীত করণ।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর

ফেসবুক পেইজ