August 14, 2020, 10:48 am

আলেমের ব্যবসা কেমন হওয়া চাই

  • মীর আব্বস
  • বিশেষ প্রতিবেদন

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সবাই ধনবান হতে চলছে, এই ধাপে পিছিয়ে নেই আলেমসমাজ। এটা অবশ্য প্রশংসনীয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো সাধারণ মানুষ (সাধারণ মানুষ বলতে আমি আলেম ছাড়া অন্য গুষ্ঠিকে বুঝাচ্ছি) যেভাবে এগুচ্ছে, আলেমরা কি সেভাবে বৈধ,অবৈধ, হালাল, হারাম মিলিয়ে আগাতে পারবে? পারবে না। কারন তাকে তার ইলম,এবং আল্লাহর বাধা দিবে।এসব বাধা উপেক্ষা করে কিছু আলেম সাধারণ মানুষের মতো টাকাওয়ালা হওয়ার পিছনে দৌড়াচ্ছে।

পাঠক আমি সকল আলেম কে বলছি না এসব কথা, বলছি ভেলার চরফ্যাশনে “আল মুইদ” নামক একটা ব্যবসায়ী সংস্থার সাথে জড়িত আলেমদের কে। তাদের মৌলিক বক্তব্য এখানে সবাই আলেম সব চলে শরীয়ত মতো।সুতরাং টাকা হারিয়ে যাওয়া, কিংবা টাকা দিয়ে শরীয়ত নিষেধ করে এমন পন্থায় ব্যবসা করা কোনটায় হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাদের প্রথম বক্তব্য টা কাজের সাথে মিল দ্বিতীয় টা মুখে পেলেও কাজে সম্পূর্ণ বিপরীত।

তাদের বক্তব্য হলো আপনি টাকা রাখলে “বাইয়ে মুজরবার ভিত্তিতে লাভের ১০% পাবেন”। এখানে তারা ১০% ঠিকিয় দেয় কিন্তু মুজরবার ভিত্তিতে না।এ ব্যপারে আমি নিজে জানতে চেয়েছি।প্রথমে তাদের সদস্য অতঃপর মনিটরিং থাকা লোকদের কাছে, সর্বশেষ কেন্দ্রীয় ২৭ সদস্যদের এক সদস্যদের কাছে। তাদের কাছে যে উত্তর গুলা পেলাম তার মূল হলো।আগে বলি আমার প্রশ্ন। অনেক প্রশ্নই করেছি তার মাঝে উল্লেখযোগ্য হল যে আপনারা যে ১০% দিচ্ছেন সেটাতো আপনাদের লাভ হচ্ছে, বা কোন মাসে গ্রাহকের লাভ আছে, কিংবা লস।( কারণ ব্যবসা কম, বেশি লাভ হয় এক নিয়ে লাভ হয় না,মাঝেমধ্যে লস ও হয়)।এর উত্তরে তারা বললো আমাদের লস হওয়ার সম্ভাবনা নেই, কারণ আমাদের অনেক সেক্টর আছে,এক জায়গায় লস হলে অন্য প্রতিষ্ঠানের লাভ দিয়ে পুষিয়ে নেয়।তখন দ্বিতীয় প্রশ্ন করলাম এটা শরীয়ত কতোটুকু অনুমতি দেয় যে ব্যবসার কথা বলে টাকা নিয়ে নিদিষ্ট হারে লাভ দেওয়া?

এর উত্তরে বলে আসলে নিদিষ্ট হারো লাভ দিচ্ছি না। আমরা ৬ মাস পর হিসাব করে লাভ যা হয় তার ১০% দেয়।

এই উত্তরের বাস্তবতা পেলাম না।সদস্যদের খাতা ঘেটে দেখলাম হিসাব ৬ মাস পরেই করছে, কিন্তু লাভ দেওয়া ১০% হিসেব করে যা হয় তার।

তাদের আরও একটা বিষয় হলো যে ২৭ সদস্য মূল, কেউ যদি সেখানে সাধারণ সদস্য হয় ঐ ২৭ জনের মাধ্যমে হতে হয়।এতে সাধারণ সদস্যদের ৩% লাভ ২৭ পেয়ে যায় পরিশ্রম ছাড়া। (এটাও শরীয়ত অনুমতি দেয় না)

পরিশেষে ২৭ সদস্যের একজন যিনি তিনি আমাকে বুঝাতে সক্ষম হননি।
এব্যপারে কথা বলেছি কিছু আলেমের সাথে, তারা বলে অনেক বড় সংস্থা, সদস্য ও বিপুল পরিমাণে,এসব ভিন্ন ভিন্ন হিসাব সম্ভব নয় বলে এমটা করে হচ্ছে। আমি বললাম এমন অসম্ভব হিসাব করতে পারে না বলে কি শরীয়ত ছাড় দোয়??। তারা বলল না।

এসব সংগঠন স্রেফ চরফ্যাশন আছে এমনটা না।আছে আরো অন্যান্য থানা বা জেলাতে, সেখানে আলেমরা চালাচ্ছে। মনপুরাতে ও আছে। খবর নিলাম, সেখানে ও ভিন্ন চিত্র না মৌলিক বক্তব্যে একই ।

এসব বিষয় থেকে জাতি কে অবহিত করা সকলের প্রয়োজন। কারণ মানুষ মনে করে আলেমরা যা করে সবই ঠিক,এগুলা করা যায়।তারা জানে না কোনো আলেম শরীয়তের দলীল। আমাদের দায়িত্ব কর্তব্য এ বিষয় টা বুঝানো।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর

ফেসবুক পেইজ