August 14, 2020, 8:21 am

বিয়ে ও আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপট: পঞ্চম পর্ব

  • মুহাম্মাদ দেলোয়ার হুসাইন

চতুর্থ পর্বের পর….

অল্প বয়সে বিয়ে করলে ৬ টি উপকার পাবেন।
১. যেনা ব্যাভিচার থেকে ফিরে থাকা যায়, যুবক বয়সেই আল্লাহ পাকের খুব প্রিয় হওয়া যায় এবং ইবাদাতে স্বাদ পাওয়া যায়। আজে বাজে চিন্তা থাকে না।
২. আপনি যদি বয়স ৩০ পার করে বিয়ে করেন, তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই আপনার বয়সের কারণে আপনার মধ্যে যে গাম্ভীর্য চলে আসবে তার জন্য সম্পর্ক খুব বেশি ঘনিষ্ঠ ও মধুর হবে না, বরং ব্যাপারটি তখন এমন হবে যে বিয়ে করার কথা ছিল তাই বিয়ে করেছি, এ কারণেই আবেগ থাকতে আগেতেই বিয়ে করা উত্তম।
৩. বেশি বয়সে বিয়ে করলে স্বামী স্ত্রী নিজেদের জন্য খুব বেশি সময় পান না, বরং বছর ঘুরতেই সন্তান দায়িত্ব এসে কাঁধে এসে পরে, আর একবার সন্তান হয়ে গেলে দু’জনে একান্তে কাটানোর মতো সময় হয়ে উঠে না, তাই অল্প বয়সে বিয়ে করলে সঙ্গীর সাথে একান্ত কাটানোর মতো অনেকটা সময় পাওয়া যায়, যার ফলে সম্পর্ক ভালো ও মধুর থাকে।
৪. অল্প বয়সে বিয়ে করলে স্বামী-স্ত্রী ২ জনে মিলে জীবনের সবকিছু ভাগাভাগি করে নেয়া যায় এবং প্রত্যেকের মানসিক কম প্রেশার অনুভব হয়।
৫. মানুষের গড় আয়ু কিন্তু কমছে, আর আপনি দেরীতে বিয়ে করলে সন্তান মানুষ করার বিষয়টাও পিছিয়ে যাবে এবং আপনার মানসিকতা ও কিন্তু দিন দিন নষ্ট হতে থাকবে। তাই একটু কম বয়সে বিয়ে করলে সন্তানের জন্য খুব ভালো পিতার উদাহরণ হতে পারবেন।
৬. বিভিন্ন কারণে অনেকেই সঠিক সময়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, তাই এখন ডিভোর্সের সংখ্যা ও অনেক বেড়ে গেছে, আর অল্প বয়সে বিয়ে করে যদি অল্পতেই কোন কারনে ভেঙ্গে যায় তাহলে ২য় বার আবার গুছিয়ে নেয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।কিন্তু দেরীতে বিয়ে করলে সেটা সম্ভব হয়ে উঠে না। মোট কথা কম বয়সে বিয়ে করা অতি উত্তম।
বিয়ে হার্টের সবচেয়ে শক্তিশালী ওষুধ: গবেষণা
গবেষকরা বলছেন, হার্টের শক্তিশালী ওষুধ বিয়ে। সম্প্রতি দ্যা জার্নাল অব হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল বিহেভিয়ার-এ প্রকাশিত হয়েছে এক গবেষণা প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, হার্টের বাইপাস সার্জারির পর তিন মাস পর্যন্ত বিবাহিতদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অবিবাহিতদের চেয়ে তিনগুণ বেশি।
তাছাড়া এই তিন মাস আক্রান্ত না হওয়ার পাশাপাশি সার্জারির পর পাঁচ বছর পর্যন্ত বিবাহিতদের হার্টের সুরক্ষামূলক প্রভাব কার্যকর থাকে। গবেষণাটির মূল গবেষক ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী এলেন ইডলার বলেন, সার্জারি পরবর্তী সঙ্কটজনক সময়ে বিবাহিতদের সারভাইভ/টিকে থাকার অনুপাত একটা নাটকীয় ব্যাপার।
এলেন আরও বলেন, বিয়েটা এক্ষেত্রে একটি সফল অনুঘটক। রোগী পুরুষ হোক বা মহিলা এতে কোন ভেদাভেদ নেই। নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সর্বোপরি অবিবাহিতদের মৃত্যুর অনুপাত বিবাহিতদের চেয়ে দ্বিগুণ। গবেষণায় স্বাস্থ্য সঙ্কটের সময় স্বামী-স্ত্রী’র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকার কথা তুলে ধরা হয়।
এলেন বলেন, এক্ষেত্রে স্ত্রী’র মতো স্বামীও ভালো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে। এতে উল্লেখ করা হয়, বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া দীর্ঘজীবন পাওয়ার উপায় হিসেবে স্বীকৃত ১৮৫৮ সাল থেকে।
ওই সময় উইলিয়াম ফার প্রমাণ করেছিলেন, ফ্রান্সে কম বয়সে মারা যাওয়ার প্রবণতা রোধ করেছিল বিয়ে। গবেষণাটিতে বলা হয়- বিধবা, চিরকুমার ও ডিভোর্সিদের মৃত্যু ঝুঁকি বেশি। এলেন বলেন, আমরা ৫ শ’ সার্জারি ও ইমারজেন্সি রোগীর উপর গবেষণা করে এটি তৈরি করেছি।
কেন বিয়ে সঙ্কটময় মুহূর্তের ঝুঁকি কমিয়ে আনে তাও বলা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। এক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়, বিবাহিতরা সার্জারিতে অনেক বেশি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যায়। যা অবিবাহিতরা পারে না। ব্যথা সহ্য করা, আরাম ছেড়ে কষ্ট তুলে নেয়া ও সার্জারি সম্পর্কে দুশ্চিন্তার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে- বিবাহিতরাই ইতিবাচক জবাব দেয়।
এতে বলা হয়, অবিবাহিতরা সার্জারির পর ৫ বছরের মধ্যে ৭০ ভাগ পর্যন্ত মারা যায়। যেটা বিবাহিতদের ক্ষেত্রে অনেক কম। সব শেষে পরামর্শ দেয়া হয় বিষয়টি যখন হার্ট সংক্রান্ত, বিয়েই হবে শক্তিশালী ওষুধ। এখন সিদ্ধান্ত আপনার হাতে, বিয়ে করবেন নাকি তাড়াতাড়ি মরবেন!
পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা তাদের অভিবাবকদের অনুমতিক্রমে তাদের বিয়ে করো, যথাযথভাবে তাদের মোহর প্রদান করো, যেন তারা বিয়ের দুর্গে সুরক্ষিত হয়ে থাকতে পারে এবং অবাধ যৌনচর্চা ও গোপন বন্ধুত্বে লিপ্ত হয়ে না পড়ে।’ [সূরা নিসা-২৫]।
আল্লাহ অন্যত্র বলেছেন, ‘তিনি তোমাদের (স্বামী-স্ত্রী) একে অন্যের সাথী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া প্রবিষ্ট করে দিয়েছেন।’ [সূরা রুম-২১]
চলবে …..
প্রথম পর্ব: ক্লিক করুন
দ্বিতীয় পর্ব: ক্লিক করুন
তৃতীয় পর্ব: ক্লিক করুন
চতুর্থ পর্ব: ক্লিক করুন
পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন আগামীকাল ঠিক এই সময় পর্যন্ত
অথবা আমাদের সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর

ফেসবুক পেইজ