August 14, 2020, 10:17 am

প্রতিটি দুঃখের অন্তরালে সুখ লুকিয়ে থাকে

  • মাহমুদুল হাসান নোমানী

মানুষের ইহকালীন জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত। এ জীবনে বহু সুখ,দুঃখ, আনন্দ,বেদনা। সুস্থতা, অসুস্থতা। স্বচ্ছলতা,অসচ্ছলতা। মানুষের দৃষ্টিতে ভালোবাসার পাত্র হওয়া, এবং হিংসার পাত্র হওয়া। কারো দৃষ্টিতে বড়। আবার কারো দৃষ্টিতে খুবই নগণ্য হওয়া। এ সবকিছু মিলেই হল এই ইহকালীন জীবনের সাধনা।

কিন্তু আমি যখন সুখে থাকবো তখন আমার করনীয় হল, আল্লাহ পাকের দরবারে মন খুলে শুকরিয়া জ্ঞাপন করা। কেননা এহেন মুহূর্তে আমার মত কত মানুষ না খেয়ে ধুকে ধুকে মরছে। কেউবা হাসপাতালের বেডে শয্যাশায়ী হয়ে আছে। আবার কেউবা অসচ্ছলতার কারণে মানুষের দৃষ্টিতে হেয় প্রতিপন্ন হয় জীবন যাপন করছে। কেউবা হিংসুকের হিংসার দাবানলে দাও দাও করে প্রজ্বলিত হচ্ছে।

তাই সুখের সময় কর্তব্য হলো বেশি বেশি মহান রবের শোকর করা, কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা। কেননা আল্লাহ বলেন তোমরা যদি আমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো,তাহলে আমি নেয়ামত বাড়িয়ে দিব। আর যদি অকৃতজ্ঞ হও তাহলে নিয়ামত ছিনিয়ে নেব। সুতরাং আমাদেরকে সুখী জীবন পেতে হলে কৃতজ্ঞতার বিকল্প নাই।

আর আমরা যারা দুঃখ-বেদনা নিয়ে ইহ জীবন পরিচালনা করছি। তাদের স্মরণ করা উচিত, কালামে পাকে মহান প্রভু বলেছেন:-নিশ্চয় প্রতিটি কষ্টের মাঝে সুখ নিহিত রয়েছে। তাই আমরা আল্লাহর দরবার থেকে নিরাশ হব না। দুঃখ আসলে দু’রাকআত সালাতুল হাজত পড়ে আল্লাহর দরবারে রোনাজারি করব,দোয়া করব, এবং ধৈর্য ধারণ করব।

কেননা আল্লাহ বলেন বিপদের মুহূর্তে তোমরা নামাজ এবং সবরের দ্বারা আমার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো। তাই যেমন বিপদই হোক না কেন, চাই তা অসচ্ছলতার কারণে হোক, মানুষের হিংসার কারণেই হোক, কিংবা অসুস্থতার কারণে হোক, যাই হোক না কেন আমরা দোয়া করব এবং নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে বিপদ মুক্ত জীবনের জন্য কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করব। সাথে সাথে ধৈর্য ধারণ করব।

আল্লাহ আমাদেরকে দুনিয়ার সব বিপদ-আপদ, হিংসুকের হিংসা, নিন্দুকের নিন্দা, তিরস্কারকারী তিরস্কার থেকে হেফাজত করেন এবং সার্বিক সুখী জীবন দান করেন। আমিন।

 

লেখক:-

মুফতি মাহমুদুল হাসান নোমানী

তরুণ লেখক ও কলামিষ্ট

 

লেখকের আরও…

স্মৃতির মিনারে আল্লামা শাহ হাফেজ আহমদ রহঃ

আমাদের দেশে মূর্খ যখন চেয়ারম্যান

জাহেলিয়্যাত ও হালিয়্যাত

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর

ফেসবুক পেইজ