August 15, 2020, 7:17 am

কেমন ছিলেন মুহাদ্দিস আহমদ করিম রহ. : দ্বিতীয় পর্ব

  • মাওলানা হোসাইন আহমদ কারীমি
  • সাহেবজাদা, আহমদ করিম রহ

 

প্রথম পর্বের পর….

হযরত মুহাদ্দিস সাহেব হুজুর ওলামা বাজার মাদরাসায় নিয়োগ হওয়ার কিছুদিন পর,মাদরাসার মুহাতামিম ও তাঁর মুরশিদ হযরত মাওলানা আবদুল হালিম সাহেবের নজরে তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা ও যোগ্যতা পরিলক্ষিত হয়, তাই তাঁর হাতে শিক্ষাপরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেন।

আবদুল হালিম সাহেবের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও পূর্ণতও্বাবধানে এবং মুহাদ্দিস সাহেবের অক্লান্ত প্রচেষ্টা ও ত্যাগের বিনিময়ে ওলামা বাজার মাদরাসা দিন দিন উন্নতির পথে এগুতে থাকে । এতে তাঁর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে । মুহাদ্দিস সাহেব মাদরাসার তালিম, তরবিয়ত, এর ক্ষেত্রে ছিলেন আপষহিন এক লৌহমানব, কানুন এর ক্ষেত্রে তিনি কাহকেও ছাড় দিতেন না।

 

বিশেষ করে শিক্ষাপরিচালনার ক্ষেত্রে মাদ্রাসা কর্তৃক নির্ধারিত সংবিধানের প্রতি লক্ষ রেখে কাজ করতেন। এক্ষেত্রে তিনি কোন উস্তাদ ,তিনার কোন সন্তানদের কে ও ছাড় দিতেন না। মুহাদ্দিস রঃ কথা বলতেন কম, কাজ করতেন বেশি, কোন ব্যক্তি বা কোন উস্তাদ উনার সাথে সাক্ষাত করতে আসলে অল্প সময়ের মধ্যে কথা বলে বিদায় দিতেন।

মুহাদ্দিস রঃ এর সব চাইতে বড় যে গুন টি ছিল সে টি ছিল তিনি কখনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ,পারিবারিক ক্ষেত্রে, সজনপ্রিতি করতেন না। আমরা ৭ ভাই ওলামা বাজার মাদ্রাসা থেকে ফারেগ হয়েছি-আলহামদুলিল্লাহ। তিনি কখনো সন্তান দের পক্ষ থেকে প্রভাবিত হন নাই। মাদ্রাসার ভিতরে তিনি আমাদের কে অন্য অন্য ছাত্রের মত দেখতেন কানুন এর ক্ষেত্রে । পরিচয় থাকতো উস্তাদ এবং শাগরেদ, ছাহেবজাদা হিসাবে তিনার কাছে আমাদের কোন মুল্য ছিল না। তিনি কখনো মাদ্রাসার ভিতরের কোন বিষয়ে আমাদের দ্বারা প্রভাবিত হন নাই।

 

আমি শুধু আপনাদের একটি ঘটনা শুনাই ,আমি তখন হাস্তম বা হাপ্তম জামাতে পড়ি,আমার এক উস্তাদ তিনি আমাকে অনুরোধ করলেন তুমি একটু তোমার আব্বাজান কে আমার কিতাব টা পরিবর্তন করে অন্য আরেকটি ভালো কিতাব দিতে, এই কিতাব টা অনেক বৎসর হয়েছে পড়াইতেছি। তুমি যদি হুজুরকে বলো হয়তো তোমার কথা শুনবে।

পাঠক, আমার ঐ উস্তাদের ধারনা হয়তো এমন আমার আব্বাজান আমাদের কথা মতে শিক্ষা ব্যবস্থা তথা কিতাব গুলো পরিবর্তন করেন। না আমার উস্তাদের ধারনা একে বারে ভুল বলে প্রমাণিত হল।

আমি আব্বাজানের অফিসে,আমি আব্বাজান রহ. কে আমার ঐ উস্তাদের মনের কথা গুলো বলেছি। তিনি আমার কথা গুলো মনোযোগ সহকারে শুনলেন ,তার পর আমাকে যে উত্তর টা দিলেন সেটা হলো কিতাবের পরিবর্তন এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে যখন ফয়সালা হবে তখন পরিবর্তন হবে,তোমাকে এখানে এসে ওকালতি করার জন্য কে বলছে, যিনি বলেছেন তাকে বলে দিও ধৈর্য ধারণ করতে সময় হলে তখন দেখা যাবে।

পাঠক, একটু চিন্তা করে দেখুন কেমন দক্ষ, যোগ্যতা সম্পুর্ণ প্রশাসক এবং কত বিচক্ষণ ছিলেন। এ ভাবে অনেক গুলো স্মৃতি আমার বা আমাদের সাথে আছে।

পাঠক, বর্তমানে বাংলাদেশের বেশির ভাগ মোহতামিমগন ছাহেবজাদাদের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে, যার কারণে অনেক মাদরাসাই শিক্ষা ব্যবস্থা ,অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। আল্লাহ তুমি আমাদের সকল মাদারেসে কওমিয়্যাহ কে হেফাজত করুন ।

 

চলবে….

 

প্রথম পর্ব:  ক্লিক করুন

 

পরবর্তী পর্বের জন্য আওয়ার বাংলাদেশের সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন…

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর

ফেসবুক পেইজ