August 14, 2020, 10:12 am

অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর

  • মোশাররফ ফয়জী

২০১১ সাল, তখন আমি ওলামা বাজার মাদ্রাসায় ভর্তি হই। আস্তে আস্তে ওলামা বাজারের মুরব্বিদের সম্পর্কে জানতে থাকি, জানতে থাকি তাদের তাক্বওয়া , বুজুর্গী এবং ইলমের গভীরতা সম্পর্কে।

তখন থেকেই হৃদয়ের পুষ্প কাননে ছোট্ট একটি আশা লালন করতে থাকি, মুরব্বিদের দরসে বসার, তাঁদের পবিত্র জবান থেকে হাদিসে নববীর তাক্বরীর শ্রবণ করার। ধীরে ধীরে আশার আলো ফুটতে থাকে।

সে আলোয় পথ দেখে দেখে পা পা করে এগুতে থাকি কাঙ্খিত গন্তব্যের দিকে, কিন্তু এখনো পথ অনেকটা বাকি, হঠাৎ করে থমকে দাঁড়াই, হৃদয়ের সব আলো নিভে যেতে চায়, শুনি মোহাদ্দেস সাহেব হুজুর রহঃ আর নেই, তিনি আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে, তখন অনেক কাঁদি, অশ্রুতে বুক ভাসাই, চোখের জল এখনো শুকায়নি, আবার যেন বুকে আকাশ ভেঙে পড়ে, এ যেন বজ্রপাতের শব্দ, খবর আসে যে বড় হুজুর রহঃ ও নাকি আর নেই, তিনিও আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেলেন, হাজিরা দিলেন রফীকে আ’লার দরবারে, তখন কান্নায় ভেঙে পড়ি, দিশেহারা হয়ে যাই, হারিয়ে ফেলি জীবনের গন্তব্য, অন্ধকার হয়ে আসে সামনের পথ।

তারপরও অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নেই, আলো-আঁধারে পথ চলতে থাকি। অনেকটা এগিয়ে যাই গন্তব্যের দিকে। কিন্তু এ যেন তীরে এসেও জলে ডুবে গেলো আমার নৌকা। এবার সত্যিই নিভে গেলো আমার হৃদয়ের সব আলো, হারিয়ে ফেলেছি গন্তব্যের সমস্ত পথ, হায় !

এবার নাকি চলে গেলেন, নায়েব সাহেব হুজুর রহঃ, এ খবরটি যেন আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না ! নিশ্চিত হওয়ার জন্য বিভিন্ন জনের কাছে কল দিতে লাগলাম|

অবশেষে আমার প্রিয় ওস্তাদ সকল বিপদ আপদে যার দরবারে গিয়ে হাজির হই, জনাব আব্দুল্যাহ সাহেব হুজুরের নিকট ফোন দেই, জিজ্ঞেস করলে তিনিও ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে উত্তর দেন যে, হুজুর আর নেই।

তখন বাধ্য হয়ে নিজেকে বিস্বাস করিয়ে নেই। কিন্তু এবার আর কাঁদতে পারলাম না, থ হয়ে গেলাম আমি! থেমে গেলাম আমার সামনের সব কিছু!

যেন সব কিছুর সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গেল! যেন সব কিছু পাথরে পরিণত হয়ে গেলো অমানিশায় হারিয়ে গেল আমার সকল আশা, সব সপ্ন । গন্তব্যহীন মুসাফিরের মতো একা রয়ে গেলাম শুধু আমি।

 

 লেখক:-

মুহাম্মদ মোশাররফ ফয়জী

তরুণ সাংবাদিক ও লেখক 

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর

ফেসবুক পেইজ