August 15, 2020, 8:13 am

জাতির বিবেকের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন?

হাবীব মোখতার: স্বাধীনতার পর অর্ধশত বছর শেষ হতে চলেছে, কিন্তু যে সুখ আর শান্তির আশায় দেশ স্বাধীন করা হয়েছিলে, সে সুখ আর শান্তি কল্পনাতেই রয়ে গেছে৷ আমরা নামে স্বাধীন, বাস্তবে এখনো আমরা বন্দি৷ কার কাছে? দুর্নীতি, দুঃশাসন, অন্যায়, জুলুম আর অপঃরাজনীতির কাছে৷ এখানে এখনো স্বাধীনভাবে সত্যটা বলা যায়না, স্বাধীনভাবে অন্যায় আর অসত্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদটুকু করা যায়না, স্বাধীনভাবে রাস্তায় চলা যায়না, স্বাধীনভাবে মুক্ত বাতাস নেয়া যায়না৷ কিন্তু কেন?

স্বাধীনতার পর থেকে কারা দেশ শাসন করেছে? আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির জোট-মহাজোটের নেতারাই ত৷ কেন এদের নেতৃত্বে দেশে দুর্নীতি বেড়েছে, কমেনি? কেন এদের নেতৃত্বে দেশের মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি? কেন এদের শাসনকালে তখনও-এখনও মানবতা ডুকরে কাঁদে?

কত কত নির্বাচন হলো, কোটি টাকা খরচ হলো, কত নেতা এলো-গেলো, কত সংসদ আর এমপি-মন্ত্রীর রদবদল হলো, শ’য়ের কাছাকাছি রাজনৈতিক দল গঠিত হলো, কত জোট আর মহাজোটের নামে ঐক্য হলো, কিন্তু শান্তি কই? কেন দুর্নীতি দিনদিন বাড়ছে, কমছেনা? কেন বিচারহীনতায় অত্যাচারিত অসহায় বোধ করে? কেন মানুষের মৌলিক অধিকার অন্ন, বস্ত্র, খাদ্য ও বাসস্থান নিশ্চিত হলোনা? কেন গুটিকয়েক অসাধুর নিকট পুরা জাতি জিম্মি?

এসব প্রশ্ন পুরো জাতিকে করছি, জাতির বিবেককে করছি, জাতীর মুল ভীত যুবকদের করছি৷

সমকালিন প্রেক্ষাপটের দিকে তাকান৷ সারা বিশ্ব করোনা আক্রান্ত, মৃত্যুর মিছিল প্রতিদিন৷ দেশেও করোনা ছড়ালো৷ সরকার কতটুকু দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করেছে? বিমানবন্দরে অনিয়ম, করোনা পরিক্ষায় অনিয়ম, হাসপাতালে অনিয়ম, ডাক্তারদের অনিয়ম৷ কীট নেই, পর্যাপ্ত অষুধ নেই, হাসপাতালে সীট নেই, করোনা রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই৷ প্রেস ব্রিফিংয়ের উপর অভিযোগ, ত্রান বিতরনের ব্যপারে অভিযোগ, চেয়ারম্যান-মেম্বর-নেতাদের নজিরবিহীন নির্লজ্জ ত্রান চুরির অভিযোগ, মন্ত্রী-এমপিদের লাগামহীন উন্মাদ বক্তব্যের অভিযোগ৷ লকডাউন করা হলো৷ গরিব ক্ষুধায় কাঁদে, রাস্তায় বনি আদম হাত পাতে, অসহায় কাঁদে, মৌলিক অধিকারের জন্য হাহাকার করা লাগে৷ কেন? কেন এত অনিয়ম? তোমার দেশ, আমার দেশ, আমাদের সবার দেশে এসব কেন? কবে ঠিক হবে? কিভাবে ঠিক হবে? কাদের মাধ্যমে ঠিক হবে?

১৯৪৭ সাল পর্যন্ত কেন রক্ত ঝরেছিলো? বৃটিশদের হটাতে৷ কেন হটাতে হয়েছে? শান্তির জন্য৷ কিন্তু শান্তি কই? নাই৷
আবার সংগ্রাম আর রক্ত খরচ ১৯৭১ সাল পর্যন্ত৷ কেন? স্বাধীনতার জন্য৷ স্বাধীনতা কেন? শান্তির জন্য৷ হলাম স্বাধীন, কিন্তু শান্তি কই? নাই৷

তাহলে কী করতে হবে? প্রতারক নেতাদের পিছে না ঘুরে একজন সৎ ও যোগ্য নেতার নেতৃত্বে আরেকটি সংগ্রাম করতে হবে, আরেকটি বিপ্লব ঘটাতে হবে৷ কারা ঘটাবে? আমি, তুমি আর আমরা সবাই৷

প্রথম নিজেরা নিজেদের ঠিক করতে হবে, তারপর সমাজে, রাষ্ট্রে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে, তারপর বিশ্ব ধরায় শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিতে হবে৷

এটা কি সম্ভব? হ্যাঁ সম্ভব৷ কেন নয়! নবী সঃ তোমার, আমার মতই যুবক ছিলেন৷ তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে এক থেকে দুই হলো, দুই থেকে চার হলো, এভাবে মাত্র অর্ধযুগ না পেরোতেই অর্ধ পৃথিবীতে শান্তি এলো৷ তাঁর আদর্শে উজ্জিবিত হয়ে আমরা যদি জাগি, আবার পৃথিবী সে শান্তি ফিরে পাবে৷

কথাটি সত্য, আদর্শবান যুবকরা জাগলেই বাংলাদেশ জাগবে৷

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর

ফেসবুক পেইজ