August 7, 2020, 6:54 pm

আজ সেই রক্তাক্ত কালোদিন ৫ই মে, সে হেফাজত এ হেফাজত নয়

সম্পাদকীয়:

২০১৩ সালের ৫ই মে৷ অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম এর ডাকে সারাদেশ থেকে ঢাকায় জড়ো হয়েছিলো সাধারন মানুষ৷

মুলতঃ সারাদেশে নাস্তিকদের ইসলাম, আল্লাহ ও রাসুল স. কে কটুক্তি করে ব্লগ লিখন, ইসলামের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগ সরকারের লাগাতার ষড়যন্ত্র, একের পর এক ইসলাম বিরোধী আইন, বিরোধী দলগুলোর উপর দমন-পীড়ন, দেশ ও জন বিরোধি কর্মকান্ডের কারনে দেশের মানুষ সরকারের উপর ক্ষোভে ফুঁসছিলো তখন৷

ইসলামবিরোধী নারীনীতিমালা প্রনয়ন, সংবিধান হতে আল্লাহর উপর পুর্ন আস্থা ও বিশ্বাস এবং বিসমিল্লাহ তুলে দেয়া, ফতোয়া বিরোধী আইন করার ষড়যন্ত্র, গ্রীকদেবীর মুর্তি স্থাপন, সারাদেশে অফিসগুলোতে শেখ মুজিবের ছবি লটকানো, মন্ত্রী, এমপি, নেতাকর্মী, নাস্তিকদের ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ডের কারনে ইসলামপ্রিয় মানুষ তখন রাস্তায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ছিলো৷

আবার জামাত ও বিএনপি নেতাদের ফাঁসি, লাগামহীন দুর্নীতি, আওয়ামীলীগ নেতাদের সীমাহীন অত্যাচার, দ্রব্যমুল্য, গ্যাস, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মুল্যবৃদ্ধি, ভারতের সাথে দেশ বিরোধী চুক্তি, নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও এক দলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টার কারনে দেশের সাধারন মানুষ ছিলো সরকারের উপর ত্যক্ত, বিরক্ত, অসন্তুষ্ট৷

অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম যখন বিক্ষোভের ডাক দিলো, দল-মত নির্বিশেষে বিক্ষুদ্ধ জনতা নেমে পড়লো রাস্তায়৷ জেলায় জেলায় নজিরবিহীন সমাবেশ হলো৷ সব দলের লোকেরা মুক্তির আশায় সমর্থন, সহযোগিতা ও যোগ দিলো এসব কর্মসূচীতে৷

গনজোয়ার আর গনবিস্ফোরন দেখে সরকার ছক কষতে লাগলো ঠেকানোর৷ হেফাজত নেতারা ঘোষণা করলেন ১৩ দফা দাবী৷ সব যৌক্তিক, ইসলাম ও দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট৷ জনগন একজোগে ঝাপিয়ে পড়লো আন্দোলনে৷ তুমুল বিক্ষোভ আর আন্দোলনে সারাদেশ অগ্নিগর্ভ৷

ঘোষণা আসলো ৫ই মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির৷ সরকার ও শক্ত অবস্থানে৷ হেফাজতও মারমুখি অবস্থানে৷ যেখানে বাধা সেখানে মার৷ কয়েকদিন আগ থেকে ঢাকা রওয়ানা করলো মানুষ৷ মসজিদগুলো খালি হয়ে গেলো৷ মাদ্রাসা সব বন্ধ৷ বাজারে মানুষ কম৷ সবাই গেছে ঢাকা অবরোধে৷

সকাল থেকে ঢাকার ছয়টি প্রবেশপথ অবরুদ্ধ৷ সরকারের নির্দেশে সারাদেশে গাড়ি চলাচলও বন্ধ৷ শুরু হলো মারামারি, হামলা, ভাংচুর, গুলি, গ্রেফতার, গাছকেটে রাস্তা অবরোধ, অগ্নিসংযোগ৷ সরকার সব দায় চাপালো হেফাজতে ইসলামের উপর৷ হেফাজত সব দায় অস্বিকার করে বললো, এসব আওয়ামীলীগের ক্যডারদের কাজ৷

হুট করে ঘোষণা এলো সবাই শাপলা চত্বরে চলুন৷ বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন লোক সমাগম ঘটলো শাপলা চত্বরে৷ সারাদিন বক্তব্য চললো৷ সন্ধা হলো৷ তারপর রাত শুরু হলো৷ সমাবেশ চলতে থাকলো৷ সরকার সব লাইট বন্ধ করে দিলো৷ রাত তিনটায় পুলিশ, র্যাব, বিজিবি একযোগে হামলা করলো নিরস্ত্র সাধারন মানুষের উপর৷

এশিয় মানবাধিকার কমিশন বলেছেন, তাদের নিকট প্রাপ্ত তথ্য মতে প্রায় ২৫০০ লোক নিহত হয়েছে সরকারি বাহিনীর হাতে এবং তারা এটিকে গনহত্যা বলে অভিহিত করেছে৷ পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, হেফাজত নেতারা নিহতের তালিকা দিক৷ কিন্তু আজ পর্যন্ত তালিকা দিতে পারেনি হেফাজত৷ পুলিশ ও সরকারের দাবি, ৫০ জনের মত মারা গেছে এ রাতের অভিযানে৷

তারপর হেফাজতে ইসলাম আজ পর্যন্ত আর বড় কোন কর্মসুচী দেয়নি৷ বরং সরকারের সাথে সখ্যতা ও বুঝিয়ে-জুঝিয়ে দাবী আদায়ের কৌশল হাতে নিয়েছে৷ সরকারও হেফাজতকে না রাগিয়ে সাধ্যমত তাদের দাবী দাওয়া আদায় করে চলেছে৷ অনেকে এটিকে শাপলার শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি বলে আখ্যায়িত করছে৷

সরকার হেফাজতের সবচেয়ে বড় যে চাওয়াটি পূর্ণ করেছে, তা হলো ক্বওমী মাদ্রাসার সরকারি স্বীকৃতি প্রদান৷ এর বিনিময়ে হেফাজত সরকারকে সবচেয়ে বড় যে উপহারটি দিয়েছে, তা হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে ‘শোকরানা মাহফিল ও তাকে ক্বওমী জননী’ উপাধী দান৷

যদিও হেফাজতের এসব কর্মকান্ডে খোদ দলীয় নেতা-কর্মীদের অনেকেই অসন্তুষ্ট৷ হেফাজতের নায়েবে আমীর মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এসব কারনে পদত্যাগ করেছেন৷ বিভিন্ন আলেমগন এসবের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেছেন৷ অনেকে দ্বিমত পোষণ করছেন৷

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর

ফেসবুক পেইজ