August 14, 2020, 11:56 am

ঢাবিতে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তে ইশা ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতির প্রতিক্রিয়া

ডাকসু নেতৃবৃন্দের অপরিনামদর্শী ও এখতিয়ার বহির্ভূত অতিউৎসাহী সিদ্ধান্ত ক্যাম্পাসের সার্বজনীন চরিত্র নষ্ট করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্তচিন্তার উন্মুক্ত প্রান্তর। বিশ্বের বহুবিধ চিন্তা এখানে চর্চা হবে সেটাই স্বাভাবিক। বহুরৈখিক মত ও চিন্তার পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীরা খুজে পাবে আগামীর দিশা।

ডাকসু হলো শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার একটি প্রতিষ্ঠান। এখানে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নানা উদ্যোগ নেয়ার কথা।

বহুবছর পরে ডাকসু গঠিত হয়েছে। যদিও তা একটি কলংকময় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। তারপরেও আমরা আশা করেছিলাম যে, ডাকসু নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করবে।

কিন্তু আমরা অতিশয় দুঃখের সাথে লক্ষ করছি যে, ডাকসুর মতো একটি প্রতিষ্ঠানকে ছাত্রলীগের ক্যাম্পাস শাখার কতিপয় নেতার জনপ্রত্যাক্ষিত আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

আমরা অবাক বিস্ময়ে দেখছি যে, ডাকসু নাকি ক্যাম্পাসে “ধর্মভিত্তিক” ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব পাশ করেছে।

প্রথম কথা হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ে কে কোন আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করবে তা ঠিক করার অধিকার ডাকসু রাখে না। এই সিদ্ধান্তের মধ্যদিয়ে ডাকসু অনাধিকার চর্চা করেছে।

বাংলাদেশে জনপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুসারে ধর্মভিত্তিক সংগঠন দেশে সকল পর্যায়ে নির্বাচন করার অধিকার রাখে। এবং বিগত নির্বাচনেও ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। সেখানে ডাকসু কি করে ক্যাম্পাসে ধর্মভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি নিষেধ করে?

ডাকসুর সংখ্যাগরিষ্ঠ পদে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতারা রয়েছেন। ছাত্রলীগের মুল সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অবস্থানও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিপক্ষে নয়। সেখানে ডাকসুতে কারা ছাত্রলীগের পদ দখল করে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি সম্পর্কে আজেবাজে সিদ্ধান্ত নেয় তা খতিয়ে দেখা দরকার।

“ধর্মভিত্তিক সংগঠন” এই পরিভাষার কোন সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নাই। এই পরিভাষা ব্যবহার করে যদি ক্যাম্পাসে ইসলামী ছাত্র রাজনীতির নিষিদ্ধ করার কোন অপচেষ্টা হয় তাহলে আমি বিনয়ে সাথে তাদেরকে ইতিহাস পুনর্পাঠ করতে বলবো।

আমরা সতর্ক করে বলতে চাই, ডাকসুর এইসব আজেবাজে সিদ্ধান্ত ডাকসুর গৌরবময় ঐতিহ্যকে কলংকিত করবে।

আমরা ডাকসুর নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান করছি, অনুগ্রহ করে এমন কোন সিদ্ধান্ত নিবেন না যা ডাকসুকে এদেশের মানুষের অনুভূতির বিরুদ্ধে দাড় করিয়ে দেবে। জনমানুষের অনুভূতিকে আঘাত করে কেউ কোন দিন টিকতে পারে নাই। ডাকসুর কতিপয় ধর্মবিদ্বেষী নেতাও টিকতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।

আবারো বলছি, ডাকসুকে জনমানুষের মুখোমুখি দাড় করাবেন না।

ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ক্যাম্পাসে “ইসলামভিত্তিক” রাজনীতি করে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে, আজকের সিদ্ধান্তের মধ্যদিয়ে তারা ক্যাম্পাসে ইসলামভিত্তিক সংগঠন নিষিদ্ধ করার চিন্তা করে নাই।

যদি তারা ক্যাম্পাসে ইসলামভিত্তিক সংগঠন নিষিদ্ধ করার কোন অপচেষ্টা করে তাহলে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে এবং আইনগতভাবে তা প্রতিহত করবে ইনশাআল্লাহ।

Comments are closed.

     এই বিভাগের আরও খবর

ফেসবুক পেইজ