নিজেদের ক্ষতি করে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার পেছনে ভারতের স্বার্থ কী?

আওয়ার বাংলাদেশ ২৪
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০
নিজেদের ক্ষতি করে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার পেছনে ভারতের স্বার্থ কী?

সম্পাদকীয়

শত্রুর ক্ষতি করে নিজের উপকার হলে এটাকে একধরনের স্বার্থ বলা যায়, নিজের ক্ষতি করে বন্ধুকে বিপদে ফেললে এর দ্বারা বন্ধুত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
ভারত আর বাংলাদেশের মাঝে বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ মহুর্তে ভারত নিজেদের ক্ষতি করেও বাংলাদেশকে বিপদে ফেলতে মরিয়া হয়ে যাওয়ায় এই বন্ধুত্বটা প্রশ্নবিদ্ধ।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত সরকার। আর এতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছে। দেশটির ব্যবসায়ীদের ভয়, এই সিদ্ধান্তের ফলে তাদের অনেক টাকার লোকসান গুনতে হবে। বিগত বছরের ন্যায় গাড়িতে পচিয়ে ফেলে দিতে হবে কোটি টাকা পেঁয়াজ।

সোমবার ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞা জারির পর পশ্চিমবঙ্গের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিভিন্ন স্থলবন্দরে আটকে গেছে পেঁয়াজভর্তি কয়েক শত ট্রাক।

স্থলবন্দরগুলোর ভেতরে এবং বাইরে মিলিয়ে প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আটকে গেছে। এদের মধ্যে অনেক ট্রাক শুল্ক বিভাগ থেকে বাংলাদেশে ঢোকার ছাড়পত্র পেয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাদের আটকে দেওয়া হয় বলে জানান কয়েকজন রপ্তানিকারক। তারা জানান, পেট্রাপোলে ১০০টি এবং মালদার মহাদিপুরে ১৫০টি পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক আটকে আছে।

এই পেঁয়াজ রপ্তানি না করতে পারলে আমাদের অনেক ক্ষতি হবে। অনির্দিষ্টকালের জন্য সীমান্তে যদি ট্রাক আটকে থাকে তাহলে পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাবে। আর এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কও বিনষ্ট হবে।

এদিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালকে আর্জি জানালেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী তথা ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি)-র প্রধান শরদ পওয়ার। তার মতে, এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের ভাবমূর্তি ধাক্কা খেতে পারে। পাকিস্তান এবং পেঁয়াজ রপ্তানিকারক অন্যান্য দেশ এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারে বলেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শরদ।

পীযূষ গয়ালের সঙ্গে পেঁয়াজের রপ্তানি নিয়ে আলোচনার কথা টুইট করে জানিয়েছেন শরদ।

গত বছরের মতো এবারও হঠাৎ করেই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের পেঁয়াজে বাজারে। একদিনেই পেঁয়াজের দাম ৬০ থেকে ইতিমধ্যে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে। ভারতের হঠাৎ এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা হচ্ছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশের মানুষ বলছে, বাংলাদেশ ভারতে ইলিশ রপ্তানি করে বন্ধুত্বের পরিচয় দিলেও ভারত পেঁয়াজ বন্ধ করে শত্রুর পরিচয় দিয়েছে।
তবে নিজেদের ক্ষতি সত্বেও এই রপ্তানি বন্ধ করার দ্বারা বাংলাদেশের প্রতি ভারতের চরম আক্রোশই ফুটে উঠেছে।

 

Sharing is caring!