বেলাবতে ইউনিফর্ম জন্য শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৯
বেলাবতে ইউনিফর্ম জন্য শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ

তানিম ইবনে তাহের
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি:

নরসিংদীর বেলাবতে ইউনিফর্ম না পড়ে কলেজে আসা ওমর ফারুক (১৯) নামের দ্বাদশ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ বাবু বীরেশ্বর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার বেলাব হোসেন আলী কলেজে আহত শিক্ষার্থী বেলাব উপজেলার বাজনাব গ্রামের সৈয়দ বেনু মিয়ার ছেলে। আহত ওমর ফারুককে বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পরেরদিন মঙ্গলবার অভিযুক্ত অধ্যক্ষ বাবু বীরেশ্বর চক্রবর্তীর বিচারের দাবিতে কলেজের শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

আহত শিক্ষার্থী ওমর ফারুক জানায়, কলেজের ইউনিফর্মের মধ্যে শুধু প্যান্ট না পরার কারণে কলেজ মাঠ থেকে অধ্যক্ষ বাবু বীরেশ্বর চক্রবর্তী তাকে ডেকে নেন। এসময় ওমর ফারুক অধ্যক্ষের কাছে যাওয়ার সাথে সাথেই কিছু বুঝে উঠার আগেই অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সামনেই এলাপাথারী চর থাপ্পড় কিল ঘুষি মারতে শুরু করেন। এতে আমি বাম চোখে আঘাতপ্রাপ্ত হই। পরে শিক্ষার্থীরা আমাকে বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

আলাল, আরিফ, প্রিয়ন্ত, মুহিদসহ কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, অধ্যক্ষ কোন অপরাধের জন্য শিক্ষার্থীকে শাসন করতেই পারেন। কিন্তু উনি কলেজের শত শত ছাত্র ছাত্রীর সামনে ফারুককে যেভাবে মারপিট করে বাম চোখ ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন আমরা এর বিচার চাই। অধ্যক্ষ কর্তৃক শিক্ষার্থীর উপর মারপিটের প্রতিবাদে ও অধ্যক্ষকে প্রত্যাহারের দাবিতে আমরা মানববন্ধন করেছি। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিচারের দাবিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।

আহত শিক্ষার্থীর বাবা সৈয়দ বেনু মিয়া বলেন, আমি গরীব মানুষ। রিকশা চালিয়ে ছেলেকে লেখাপড়া করাচ্ছি। অপরাধ করলে স্যার শাসন করবেন কিন্তু এভাবে সকলের সামনে কিল ঘুষি মারতে পারেন না উনি। উক্ত অধ্যক্ষের ঘুষিতে আমার ছেলের একটি চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জানি না কি হয়। আমি এর বিচার চাই।

বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. পান্না আক্তার বলেন, শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বাম চোখে একটু আঘাত পেয়েছে। তবে আঘাতটি তেমন গুরুতর নয়।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ বাবু বীরেশ্বর চক্রবর্তীকে কলেজে না পেয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও উনি ফোন রিসিভ করেননি এবং এক সময় মোবাইলটি বন্ধ করে দেন।

বেলাব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা শরমিন বলেন, হোসেন আলী কলেজের শিক্ষার্থীরা (মঙ্গলবার) একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে আহবায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলেছি। উক্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Sharing is caring!