গণতন্ত্রের ধোঁকাবাজি!

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯
গণতন্ত্রের ধোঁকাবাজি!

মুহা: আব্দুর রহীম (বরিশাল)

তরুণ লেখক ও সাংবাদিক:

গণতন্ত্রের ভিত্তিতে স্থাপিত রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণ হয় অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে। প্রত্যেক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রই এই সিস্টেমের মধ্যে আবদ্ধ। কোনো রাষ্ট্র এই অনিবার্য পরিণতি থেকে রক্ষ পায় না। কেননা গণ-ইচ্ছাই হলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি। ব্যক্তির ইচ্ছা যখন স্রষ্টার অবাধ্য হয়ে পড়ে, তখন লালাসা চরিতার্থ করা ছাড়া ব্যক্তির আর কোনো লক্ষ্যই থাকে না। আর এটাই অর্থনীতির উৎস। এজন্য প্রত্যেক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র দেশের অর্থনৈতিক সমস্যাকে প্রধান্য দিতে গিয়ে মানব জীবনের অন্যান্য নৈতিক, সামাজিক,ও আধ্যাত্মিক সমস্যাবলীর দিকে ভ্রুক্ষেপ করার সময় পায় না। এগুলো গুরুত্বহীণ হয়ে পড়ে। মানবজীবনের প্রতিটি বিভাগকে অর্থনীতির অধীন করে দেয়ার পরিণতি পশ্বাচার ও পাশবিকতা ভিন্ন আর কিছু না। এর ফলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র থেকে ধর্ম বিলুপ্ত হতে বাধ্য।
অর্থ সমস্যাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে গণতন্ত্রের সাথে পুঁজিবাদের সম্পর্ক স্থাপন হয়। গণতান্ত্রিক দেশে পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা চালু হবেই। কেননা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র দুটি ব্যবস্থার বাহিরে যেতেই পারে না।
এক. গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পূর্বে পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা চালু থাকলে ক্ষমতাসীন দল হয় পুঁজিপতি হবে নাহয় তাদের দালাল হবে।
দুই. গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সময় পুঁজিবাদী ছাড়া অন্য কোনো অর্থব্যবস্থা চালু থাকলেও কিছুদিন পরে সেটা ডাইভার্ট হয়ে পুঁজিবাদী হয়ে যাবে।
বাংলাদেশে প্রথমোক্ত অবস্থার প্রচলন দেখা যায়। এখানে গণতান্ত্রিক ক্ষমতাসীন দল পুঁজিপতিদের দালালী করে। যার কারনে নিত্য-প্র‍য়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উপর রাষ্ট্রযন্ত্রের আধিপত্য থাকে না।
কালে কালে ক্যাসিনোর মত নিকৃষ্ট ক্লাবগুলোর নায়করা পুঁজিপতি হওয়ার কারণে রাষ্ট্রযন্ত্র কোনো ভূমিকা দেখাতে পারে না। কেননা ক্ষমতাসীন দলেরা নেতারা তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এই বোয়ালদের দালালি করে।
এটাই গণতন্ত্রের অন্যতম ধোঁকাবাজি। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন দল অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে যেকোনো উপায় অবলম্বন করে। ফলে জনগণের স্বার্থ বিলুপ্ত হয়ে যায়।
পক্ষান্তরে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তখন স্বৈরাচারী হয়ে রূপ নেয়। কারণ দলিয় শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে গণ-প্রতিনিধিদের সত্য-ভাষণ হরণ করা হয়।
তখন আর জনগণের স্বার্থের অস্তিত্ব থাকে না।
ফলে গণতন্ত্রের মূল স্লোগান “জনগণের সরকার ” এর ভ্যালু থাকে না। কেননা সামগ্রিক ইচ্ছার কোনো অস্তিত্ব বর্তমান নেই,এ এক কল্পনা মাত্র।
ফলস্বরূপ গণতন্ত্রে General will এর নামে Party will এবং Party will এর নামে পার্টির চেয়ারম্যানের কর্তৃত্ব চলে।
আর এই কর্তৃত্বের বলেই গণতান্ত্রিক সরকার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য জনগণকে গৌণ হিসেবে মনে করে। ভূলন্ঠিত হয় মানব সমাজ। হরণ হয় মানবিক মর্যাদা।
তাই আর কোনো তন্ত্র মন্ত্র নয় স্রষ্টার অহীর জ্ঞানে ফিরে এসো মেরে ভাই।
কাঁধে কাঁধ রেখে এসো মোরা সাম্য,মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠায় নিরলস কাজ করে যাই। পরিবর্তন আসবেই ইনশাআল্লাহ। মানুষ ফিরে পাবে তার হারানো ঐতিহ্য। ফিরে আসবে মানব সভ্যতা।

Sharing is caring!