সামাজিক প্রথা ভেঙ্গে হিজড়া হিজড়ির বিয়ে

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯
সামাজিক প্রথা ভেঙ্গে হিজড়া হিজড়ির বিয়ে

নুরুল ইসলাম হেলাল

কোন পুরুষ যদি নারীসূলভ আচরণ করে তাকে পুরষ না বলে হিজড়া বলা হয়, তেমনি কোন নারী যদি পুরুষসূলভ আচরণ করে তাকেও নারী না বলে হিজড়ি বলতে হয়।
বিয়ে-শাদীর একটা সামাজিক রসম-প্রথা রয়ছে।
পুরুষ বরযাত্রী নিয়ে শশুর বাড়ী থেকে কন্যাকে বিয়ে করে আনবে।
নারী জাতি মায়ের জাতি, এই মায়ের জাতিকে ইসলাম যথেষ্ট সম্মান দিয়েছে। বিয়ে-শাদীর অনেক প্রয়োজনীয়তার মধ্যে একটি হচ্ছে শারিরিক প্রয়োজনীয়তা। আর এই প্রয়োজনীয়তা স্বামী-স্ত্রী উভয়ের। এতদসত্ত্বেও ইসলাম বিয়ে-শাদীতে নারীর সন্তুষ্টিকে গুরুত্ব দিয়েছে। বিয়ের মাধ্যমে নারীকে পেতে হলে এর জন্য পুরুষ নারীর সন্তুষ্টি মাফিক মোহর দিতে হয়। নারীকে তার পিতৃগৃহ থেকে সম্মানের সাথে নিয়ে আসতে হয়। আর এই সকল সামাজিক প্রথাতেই নারীর সম্মান। নারী দীর্ঘদিনের পিতৃগৃহের বিয়োগব্যথা বুকে নিয়ে অশ্রুঝরা আঁখি আচলে লুকিয়ে স্বামীগৃহের দিকে পাঁ বাড়ায়, এতেই নারীর সম্মান। আর এটাই সতী-সাধ্বী নারীর জীবনের শ্রেষ্ঠ মহুর্ত।
এর বিপরীতে সামাজিক প্রথাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে যেই নারী স্বামীকে তুলে আনতে যায়, প্রকৃতপক্ষে এই নারী সতী-সাধ্বী নারী নয়, এরা নষ্ট পাড়ায় গিয়ে সতীত্ব হারিয়ে বিয়ের বিষয়ে লজ্জাহীন হয়ে গেছে, তাই লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে পিতৃগৃহের বিয়োগব্যথার চেয়ে শারিরিক ক্ষুধা নিবারণের যায়গায় যাওয়ার প্রতিযোগিতায় মেতে উঠছে, এটাই আমরা ধরে নিচ্ছি।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার হাজরাহাটি গ্রামের কামরুজ্জামানের ছোট মেয়ে খাদিজা আক্তার খুশি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের ছাত্রী। বাবার ইচ্ছা অনুযায়ী চিরাচরিত প্রথা ও নিয়ম ভেঙে গত ২১ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরে শতাধিক কনেযাত্রী নিয়ে মেহেরপুরের গাংনী পৌর এলাকার চৌগাছা গ্রামে বিয়ে করতে যায় বরের বাড়িতে।
শনিবার রাতে কনের পিতার বাড়িতে সাজানো হয় বাসরঘর। পরদিন রোববার আবার কনের পিতার বাড়িতেই ধুমধাম করে অনুষ্ঠিত হল বরভাত অনুষ্ঠান।
দেশের এই ব্যতিক্রম বিয়ে অনুষ্ঠানকে বিকৃতরুচির লোকগুলি নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলে বাহবা দিলেও অধিকাংশ রুচিশীল মানুষরা এই ঘটনাকে ধিক্কার ও তিরস্কার করছে। সামাজিক মাধ্যমগুলোতে এটি নিয়ে নিন্দার ঝড় বইছে। অনেকে বলছেন যে, স্বামী আনতে যাওয়া নারী আসলে নারী নয় সে একটা হিজড়ি, আর স্ত্রী আনতে না গিয়ে স্ত্রী এসে নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় বসে থাকা সেই বর পুরুষ নয়, সে একটা হিজড়া। সুতরাং এখানে হিজড়া হিজড়ির বিয়ে হয়ছে, নারী-পরুষের নয়। এই স্বামীকে চুড়ি আর শাড়ি পড়িয়ে শশুরালয়ে পাঠানো উচিৎ ছিল, আর স্ত্রীকে পায়জামা আর শেরওয়ানি-পাগড়ি পরানো দরকার ছিল। এতেই সমাধিকার এর চিত্রটা ভালভাবে ফুটে উঠত। একজন ফেসবুক ইউজার দুইজনের ছবিতে জুতার মালা দিয়ে বরের পেটে বাচ্চা আসবে বলে পোস্ট করেন, সেখানে কমেন্টে সবাই বরকে গালমন্দ, তিরস্কার ও ভৎসনা দেয়।

Sharing is caring!