কবি ফররুখ আহমদ : মুসলিম জাগরণের কবি 

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯
কবি ফররুখ আহমদ : মুসলিম জাগরণের কবি 
মুফতি হাফিজুল হক ফাইয়ায
তরুণ লেখক ও সাংবাদিক
 ফররুখ আহমদ ৷ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবি ৷মুসলিম জাগরণের কবি ৷ জাতীয় চেতনার কবি ৷ ইসলামি রেনেসাঁর কবি ফররুখ ৷ তার কবিতায় অত্যাচারিত মজলুম হতাশ মানুষ প্রেরণার মিনার খুঁজে পেয়েছে ৷ জাগ্রত হয়েছে ৷ ঘুরে দাঁড়িয়েছে ৷
বিংশ শতাব্দীর শক্তিশালী কবি ফররুখ আহমদের কবিতা তৎকালীন বাংলার অধঃপতিত মুসলিম সমাজকে পুনর্জাগরণের অনুপ্রেরণা জোগায় ৷ দুর্ভিক্ষ পীড়িত মানুষের হাহাকার,আর্তনাদ,অনাহার কষ্টের করুণ পরিণতি,সমকালের সংকট এবং সাম্প্রদায়িকতার হিংস্রতা দেখে তিনি আঘাত পান ৷ সমাজব্যবস্হার এ সকল অসঙ্গতি তাকে সাহিত্য সাধনায় অনুপ্রেরণা জোগায় ৷
কবি ফররুখ আহমদ ৷ বিংশ শতাব্দীর আধুনিক কবি ৷ সৃজনশীল কবি ৷ সাহিত্যের খ্যাতিমান কবি ৷ এ সত্ত্বেও তিনি কখনো আত্মপরিচয় ভোলেননি ৷ কখনো আত্মবিমুখ হননি ৷ তার কবিতায় বাঙালি মুসলিম পরিচয়টি বরাবর তুলে ধরতেন ৷
 কবি ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০জুন তৎকালীন যশোর জেলার মাগুরা মহকুমার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সৈয়দ হাতেম আলী। তার পিতা খান সাহেব নামে খ্যাত ছিলেন ৷ মাতা বেগম রওশন আখতার।
কবি ফররুখ আহমদ প্রথম শিক্ষাজীবনে গ্রামের পাঠশালাতেই লেখাপড়া শুরু করেন । পরবর্তীতে কলকাতায় এসে তালতলা মডেল এম.ই স্কুলে ভর্তি হন তিনি। তার পর কলকাতার বিখ্যাত বালিগঞ্জ সরকারি হাই স্কুলে ভর্তি হন। ঐ সময় কবি গোলাম মোস্তফা ছিলেন এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক। প্রাথমিক জীবনে কবিত্ব বিকাশে কবি গোলাম মোস্তফা ব্যাপক উৎসাহ প্রদান করেন।
কবি ফররুখ আহমদ ১৯৩৭ সালে খুলনা জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ১৯৩৯ সালে কলকাতার রিপন কলেজ হতে আই.এ পাস করেন। কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ ও সিটি কলেজে, প্রথমে দর্শন ও পরে ইংরেজিতে অনার্সে ভর্তি হন তিনি। কিন্তু পড়াশুনা আর শেষ করতে পারেন নি।
কবি ফররুখ আহমদ ১৯৪৩ সালে আই.জি প্রিজন অফিসে চাকরির মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৪৪ সালে সিভিল সাপ্লাইয়ে এবং ১৯৪৬সালে জলপাইগুড়িতে একটি ফার্মে চাকরি করেন। ১৯৪৫সালে তিনি মাসিক ‘মোহাম্মদী’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৮সালে কলকাতা থেকে ঢাকায় এসে ঢাকা বেতারে যোগ দেন। ঢাকা বেতারে নিয়মিত স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন তিনি। ঢাকা বেতারে তিনি ‘ছোটদের খেলাঘর’ অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন।
কবি ফররুখ আহমদ ছাত্রাবস্হায় ভারতবর্ষের কমরেড এম.এন রায়ের র‌্যাডিক্যাল মানবতাবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বামপন্হী রাজনীতিতে অংশ গ্রহণ করেন । কিন্তু জন্মসূত্রে ইসলামি আদর্শ ও ঐতিহ্যের অধিকারী কবি একসময় ধর্মীয় চিন্তায় নিমগ্ন হয়ে পড়েন। তার কবিতায় ইসলামি সমাজব্যবস্হা মূর্ত হয়ে ওঠে।
কবি ফররুখ আহমদ ইংরেজ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে গনজাগরণ মূলক কবিতা লিখে জনপ্রিয়তা পান। তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণে বিশ্বাসী। ইসলামী আদর্শ ও আরব ইরানের ঐতিহ্য তার কবিতায় ব্যাঙময় হয়ে উঠে। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা কবিতায় আররি, ফারসি শব্দের যে স্বার্থক প্রয়োগ শুরু করেন, মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদ তা আরও বেগবান করেন।
কবি ফররুখ আহমদ ছিলেন একজন ভাষা সৈনিক। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন নিয়ে তার “মধুর চেয়েও মধুর যে ভাই আমার দেশের ভাষা” গানটি বেশ জনপ্রিয় হয়। পাকিস্তান আন্দোলন চলাকালীন ভাষা বিতর্কের সময় থেকেই তিনি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে জোরদার ছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই তিনি মাসিক সওগাত (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর,১৯৪৭) সংখ্যায় ‘পাকিস্তান: রাষ্ট্রভাষা ও সাহিত্য’ নিবন্ধে লেখেন: “গণতান্ত্রিক বিচারে যেখানে সমগ্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা হওয়া উচিত, সেখানে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্র্রভাষাকে পর্যন্ত যারা অন্য একটি প্রাদেশিক ভাষায় রুপান্তরিত করতে চান তাঁদের উদ্দেশ্য অসৎ। পূর্ব পাকিস্তানের সকল অধিবাসীদের সাথে আমিও এই প্রকার অসাধু প্রতারকদের বিরুদ্ধে আমার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি”। বায়ান্নর রক্তাক্ত ঘটনার পর রেডিওতে কর্মরত শিল্পী আলতাফ মাহমুদ, আব্দুল আহাদ, আব্দুল হালিম চৌধুরীদেরকে নিয়ে তিনি ধমঘটে যোগদেন। তিনি তদানিন্তন পাকিস্তানী শাসকদের ব্যাঙ্গ করে ‘রাজ-রাজরা’ নামে একটি নাটক লেখেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটকটি মঞ্চায়িত হয়। প্রখ্যাত নাট্যকার মুনীর চৌধুরী এতে অভিনয় করেন।
কবি ফররুখ আহমদ সৃষ্ট সাহিত্যসম্ভার বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। দর্শনগতভাবে তিনি ছিলেন মানবতাবাদী কবি। নীতি আদর্শের প্রশ্নে ছিলেন আপসহীন। ‘কে আসে কে আসে সাড়া পড়ে যায়- কে আসে কে আসে নতুন সাড়া/জাগে সুষুপ্ত মৃত জনপদ জাগে শতাব্দী ঘুমের পাড়া, কিংবা রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?/এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?/সেতারা হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?/তুমি মাস্তুলে আমি দাঁড় টানি ভুলে;/ অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা হেরি…. এমন অসংখ্য কালজয়ী কাব্য পঙ্ক্তির রচয়িতা কবি ফররুখ আহমদ।
তিনি লিখেছেন ‘আজকে ওমরপন্থী পথির দিকে দিকে প্রয়োজন/পিঠে বোঝা নিয়ে পাড়ি দেবে যারা প্রান্তর প্রাণপণ/ ঊষর রাতের অনাবাদি মাঠে ফলাবে ফসল যারা/ দিগদিগন্তে তাদের খুঁজিয়া ফিরিছে সর্বহারা।’
কবি ফররুখ আহমদ ১৯৪৩ সালে বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষ নিয়ে অসংখ্য কবিতা রচনা করেন। তার ১৯ টি কবিতায় তখন বাংলার চিত্র ফুটে ওঠে। ১৯৪৩ সালে কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ‘আকাল’ নামে একটি সংকলন প্রকাশ করেন। তাতে কবি ফররুখ আহমদের বিখ্যাত ‘লাশ’ কবিতাটি স্থান পায়। দুর্ভিক্ষ নিয়ে অদ্যবধি বাংলা সাহিত্যে ‘লাশ’ এর মত কবিতা আর কেউ লিখতে পারেন নি। দুর্ভিক্ষ নিয়ে ব্যাথিত কবির উচ্চারণ-
“যেখানে পথের পাশে মুখ গুঁজে প’ড়ে আছে জমিনের ’পর;
সন্ধ্যার জনতা জানি কোনদিন রাখে না সে মৃতের খবর”।
রেনেসাঁর কবি, জাগরণের কবি, ঐতিহ্যের কবি, জাতিসত্তার কবি ফররুখ আহমদ জাতির আগামী স্বপ্নের জাল বুনতে পথ দেখিয়েছেন। তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্য গ্রন্থের জন্য তিনি অমর হয়ে আছেন। এটি কবির প্রথম প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থ। প্রকাশক ছিলেন কবি বেনজীর আহমদ। প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন। মুসলিম ঐতিহ্যের পুনর্জ্জীবন কামনা করে রোমান্টিকতার আবহে কবি জাতিকে জেগে ওঠার আহবান করেছেন।
 অন্যরা যখন জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিল্প সাহিত্যে এগিয়ে যাচ্ছে কবি তখন পিছিয়ে পড়া তার নিজ জাতিকে জেগে ওঠার ডাক দেন। কবির আহবান-
“কত যে আঁধার পর্দা পারায়ে ভোর হল জানি না তা
নারঙ্গী বনে কাঁপছে সবুজ পাতা।
দুয়ারে তোমার সাত সাগরের জোয়ার এনেছে ফেনা
তবু জাগলে না? তবু তুমি জাগলে না?
সাত সাগরের মাঝি চেয়ে দেখো দুয়ারে
ডাকে জাহাজ
অচল ছবি সে, তসবীর যেন দাঁড়ায়ে
রয়েছে আজ।”
‘সাত সাগরের মাঝি’ বিস্ময়কর এক কবিতা গ্রন্থ। ফররুখ আহমদের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ এটি। প্রকাশের এত বছর পরও এ গ্রন্থ সমানভাবে জাগ্রত ও প্রাণবন্ত। এ কাব্যগ্রন্থের অন্যতম একটি জনপ্রিয় ও বিখ্যাত কবিতা হলো ‘পাঞ্জেরী’। মুসলিম জাতির পিছিয়ে পড়ার, অন্ধকার থেকে পরিত্রাণের কত দেরী তা জানতে কবি উৎসুক।
“রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি মাস্তুলে আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শুন্যতা ঘেরী।”
কবি ফররুখ আহমদকে চরম দারিদ্রের সাথে জীবন যাপন করতে হয়েছে। কিন্তু অর্থের প্রতি, ক্ষমতার প্রতি তার কোন মোহ ছিল না। দারিদ্রতাকে তিনি সাদরে গ্রহণ করেছিলেন। ভোগ বিলাসিতা তিনি ঘৃণা করতেন। তার কবিতার মতই ছিল কবির দৈনিক জীবন।
“তোরা চাসনে কিছু কারো কাছে খোদার মদদ ছাড়া
তোরা পরের উপর ভরসা ছেড়ে নিজের পায়ে দাঁড়া।”
কবি ফররুখ আহমদের কাব্যগ্রন্থগুলো হলো- ‘সাত সাগরের মাঝি’ (১৯৪৪), ‘সিরাজাম মুনিরা’ (১৯৫২), ‘নৌফেল ও হাতেম’ (১৯৬১), ‘মুহুর্তের কবিতা’ (১৯৬৩), ‘ধোলাই কাব্য’ (১৯৬৩), ‘হাতেম তায়ী’ (১৯৬৬), ‘নতুন লেখা’ (১৯৬৯), ‘কাফেলা’ (১৯৮০), ‘হাবিদা মরুর কাহিনী’ (১৯৮১), ‘সিন্দাবাদ’ (১৯৮৩), ‘দিলরুবা’ (১৯৮৪)।
শিশু সাহিত্যেও তিনি অতুলনীয় ছিলেন। তার রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ হলো- ‘পাখির বাসা’ (১৯৬৫), ‘হরফের ছড়া’ (১৯৭০), ‘চাঁদের আসর’ (১৯৭০), ‘ছড়ার আসর’ (১৯৭০), ‘ফুলের জলসা’ (১৯৮৫)।
বাংলা সাহিত্যে মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত মহাকাব্য ‘মেঘনাদ বধ’ এর পরে অন্যতম সফল মহাকাব্য ফররুখ আহমদ রচিত ‘হাতেম তায়ী’। মুসলিম কবিদের মধ্যে কাব্যনাটক রচনার পথিকৃত তিনি। তার ‘নৌফেল ও হাতেম’ একটি সফল ও জনপ্রিয় কাব্যনাটক। সনেট রচনায়ও সফল তিনি। বাংলা সাহিত্যে মাইকেলের পরে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে আর কোন কবি এত বেশি সফল সনেট রচনা করতে পারেন নি। তার সনেট গ্রন্থের মধ্যে- ‘মুহুর্তের কবিতা’, ‘দিলরুবা’, ‘অনুস্বার’ প্রধান।
 গদ্য কবিতা রচনায় সিদ্ধহস্ত কবি ফররুখ আহমদ। তার গদ্য কবিতার সংকলন-‘হাবেদা মরুর কাহিনী’ লিখে সফল তিনি। গীতিনাট্য ‘আনার কলি’ (১৯৬৬)।
কবি ফররুখ আহমদ কবি স্বীকৃতি স্বরুপ অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। অন্যতম হলো- বাংলা একাডেমী (১৯৬০), প্রেসিডেন্ট পদক ‘প্রাইড অব পারফরমেন্স’ (১৯৬৫), আদমজী পুরস্কার (১৯৬৬), ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৭৭-মরনোত্তর), স্বাধীনতা পদক (১৯৮০-মরনোত্তর)।
কবি ফররুখ আহমদ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসস্বীকৃত একজন অসাধারণ জননন্দিত কবি। স্বপ্নরাজ্যের সিন্দাবাদ, ঐতিহ্যের কবি ফররুখ আহমদ বাংলা সাহিত্যাকাশে এক উজ্জ্বল তারকা। অফুরান সৌন্দর্য, উধাও কল্পনা, রূঢ় বাস্তবতা, প্রদীপ্ত আদর্শ, সমুদ্রবিহার, রোমান্টিকতা, প্রেম প্রভৃতি তার কবিতার এক মৌলিক চরিত্র নির্মাণ করেছে। গানের ভুবনেও তার পদচারণা ছিল সর্বত্র। সর্বোপরি শিশুসাহিত্য, নাটক, অনুবাদ সাহিত্যেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য।
কবি ফররুখ আহমদ ১৯৭৪ সালের ১৯শে অক্টোবর ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। তিনি তার কবিতায় সমাজের অবহেলিত মানুষের কথা লিখে গেলেও তার জীবনে তাকে বহু দুঃখ কষ্ঠের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করতে হয়েছে। মূলত ইসলামী আদর্শ লালন করার কারনেই তাকে এত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। ঢাকা বেতার থেকে তার চাকুরি চলে যায়। তার এক ছেলে ডাক্তারি পড়ছিল, টাকার অভাবে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়। চিকিৎসার অভাবে এক মেয়ে মারা যায়। তখন রমজান মাস ছিল। টাকার অভাবে ও শারীরিক অসুস্থতার কারনে না খেয়েই রোজা রাখতেন তিনি। ২৭শে রমজান ইন্তেকাল করেন কবি। তাকে কোথায় দাফন করা হবে তা নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। প্রখ্যাত সাংবাদিক আসাফউদ্দৌলা রেজাসহ অনেকেই সরকারিভাবে কোন জায়গা পাওয়া কি না চেষ্টা করলেন। কিন্তু সরকারিভাবে কোন জায়গা পাওয়া যায়নি। অবশেষে কবি বেনজীর আহমদ তার শাহজাহানপুরের পারিবারিক গোরস্থানে কবিকে দাফন করার জায়গা দান করেন।
অতীতে ফিরে না গিয়ে ঐতিহ্য ধারণের নামই জাগরণ ৷ মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদ বাংলা সাহিত্যের মাধ্যমে মুসলিম জাগরণের আহ্বান করেছেন  ৷ ইতিহাসে কবি তার অমর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে বেঁচে থাকবেন ৷

Sharing is caring!