২০১২ সালের পরে ভারতের বাজারে এই প্রথম বাংলার ইলিশ।

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত অক্টোবর ১, ২০১৯
২০১২ সালের পরে ভারতের বাজারে এই প্রথম বাংলার ইলিশ।

এ এম আতাউল্লাহ বাঙ্গালী

স্টাপ রিপোর্টার:

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে সোমবার রাত ৮টা নাগাদ যশোরের বেনাপোল সীমান্ত পেরিয়ে ইলিশ ভর্তি ৬টি ট্রাক ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে ঢুকেছে। কলকাতার পেট্রাপোলড ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানান, এ দিন সাড়ে ৩০ টন পদ্মার ইলিশ এসেছে। কয়েক দিনের মধ্যে দফায় দফায় মোট ৫০০ টন ইলিশ ঢোকার কথা বাংলাদেশ থেকে। কলকাতা-সহ রাজ্যের বাজারে কয়েক দিনের মধ্যেই পৌঁছে যাবে মাছ। ভোজনরসিক বাঙালিরা এবারের পুজোয় পদ্মার ইলিশের স্বর্গীয় স্বাদ পাবেন।

এত দিন কেন বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের দেখা মিলছিল না কলকাতার বাজারে?

এ ব্যাপারে ইলিশ আমদানিকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের ঘরোয়া বাজারে ইলিশের জোগান বাড়িয়ে দাম আয়ত্তে রাখার যুক্তি দেখিয়ে ২০০৭ সালে ইলিশ রফতানি নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। পরে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় এসে ২০০৯ সালে ইলিশ রফতানির উপরে নিষেধাজ্ঞা আংশিক প্রত্যাহার করে। সাইজ অনুযায়ী ইলিশের রফতানির দর বেঁধে দেয়। কিন্তু বাংলাদেশের বাজারে ইলিশের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে ২০১২ সালের ৩১ জুলাই ইলিশ রফতানির উপরে তিন মাসের জন্য পরীক্ষামূলক ভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বাংলাদেশ সরকার। সেই নিষেধাজ্ঞা আর ওঠেনি। এ বারে পুজোর উপহার হিসেবে এই ৫০০ টন মাছ রফতানির ছাড়পত্র দিয়েছে হাসিনা সরকার। রবিবার ইলিশ সীমান্তে পৌঁছলেও কাগজপত্র নিয়ে জটিলতা হওয়ায় তা সীমান্ত পেরোতে পারেনি। সোমবার সেই জট ছাড়িয়ে ইলিশ অবশেষে ঢুকেছে।

কলকাতার ইলিশ আমদানিকারী সংস্থা ‘ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’ ইলিশ রফতানির উপরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে বহু বার আবেদন করেছে। কেন্দ্রের কাছেও আবেদন করা হয়। কিন্তু সমস্যা মেটেনি। সংগঠনের সভাপতি অতুলচন্দ্র দাস বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হাসিনার কাছে সরাসরি চিঠি দিয়ে ইলিশ রফতানির উপরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আবেদনও করেছিলাম। তারপরেও অগ্রগতি হয়নি।’’ মুখ্যমন্ত্রী এক বার ইলিশ রফতানির নিষেধাজ্ঞা তোলার জন্য শেখ হাসিনার কাছে আর্জি জানালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দু’দেশের মধ্যে বকেয়া তিস্তা চুক্তির বিষয়টি তুলে বলেছিলেন, ‘‘পানি এলেই ইলিশ চলে যাবে।’’

আওয়ার বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপকালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতার এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘বাংলাদেশ সরকার শুধুমাত্র একটা এজেন্সিকে ইলিশ আমদানি করতে অনুমতি দিয়েছেন। আমরা চাই, সব আমদানিকারী প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ সরকার সমান সুযোগ দিক।’’

Sharing is caring!