১৯ বছর ধরে বিনা বেতনে পাঠদান 

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত অক্টোবর ২৬, ২০১৯
১৯ বছর ধরে বিনা বেতনে পাঠদান 

আসাদ আবির

নাটোর প্রতিনিধি:

১৯ বছর ধরে বিনা বেতনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছেন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের আলীপুর দাখিল মাদরাসার সকল শিক্ষক-কর্মচারীগণ। এমপিও ভূক্ত না হওয়ায় তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সর্বশেষ আশায় ছিলো চলতি বছরে হয়তোবা এমপিও ভুক্তি হবে। কিন্তু এমপিও ভুক্তির রেজাল্ট বের হলেও সেই তালিকায় তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম নেই। এখন হতাশায় শিক্ষক-কর্মচারীরা। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৭ সালে উপজেলা সদর হতে ২৪ কি.মি পশ্চিমে আহম্মেদপুর-বড়াইগ্রাম সড়ক সংলগ্ন আলীপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় এ বিদ্যালয়টি। তৎকালীন সময়ের মরহুম আলহাজ্ব আব্দুল কাদের মুন্সি ও তার ছোট ভাই মরহুম ইব্রাহীম আধাম এলাকার অবহেলিত মানুষদের ধর্মীয় শিক্ষার কথা চিন্তা করে সমাজকে সু-শিক্ষিত করে দেশের উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার লক্ষে নিজেদের এক একর জমির ওপর মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের প্রথমে ফোরকানীয়া পাঠদান করানো হতো। প্রতিদিন সকালে এই পাঠদান করানো হয়েছিলো। পরে এবতেদায়ী হওয়ার পর ওয়ান থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান শুরু হয়। খুরিয়ে খুরিয়ে চলতে চলতে ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়। এর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব অধ্যাপক মো. আব্দুল কুদ্দুস এমপির সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি আবার চালু হয়। বর্তমানে ওই মাদরাসায় ১৭ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা, ২৭০ জন শিক্ষার্থীদের সরকারের সকল নিয়মনীতি অনুসারোন করে পাঠদান করাচ্ছেন এবং প্রতি বছরই সন্তোষ জনক ফলাফল লাভ করে আসছে। আলীপুর দাখিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সুপার মো. আশরাফুল আলম বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছর যাবৎ আমরা ১৭ জন শিক্ষক-শিক্ষীকা বিনা বেতনে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছি। আমাদের অনেক আশা ছিলো চলতি বছর সবার সাথে আমাদেরটাও এমপিও ভুক্তি হবে। কিন্তু চলতি বছরেও আমাদের প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভুক্ত হলো না। আর কতদিন এভাবে বিনা বেতনে পাঠদান করাবো। আমাদের সংসার তো আর চলে না। ভেবেই পাচ্ছি না এখন আমরা কি করবো। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়। তারপর স্থানীয় সাংসদ সদস্য আলহাজ্ব অধ্যাপক মো. আব্দুল কুদ্দুস এমপি স্যারের সার্বিক সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি ২০০১ সালে দাখিল পাঠ দানের অনুমোতি পায়। ২০০১ সালে টিআর কর্তৃক একটি অনুদান দিয়ে মাদরাসটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন স্থানীয় সাংসদ এবং আমাদের নিজেদের নিরলস পরিশ্রমে আমরা প্রতিষ্ঠানটিতে বিনা বেতনে পাঠ দান করাচ্ছি। সরকার নন এমপিও প্রতিষ্টান এমপিও ভুক্তির জন্য গত ৫-৮১৮ থেকে ২০-৮-১৮ পর্যন্ত ১৫ দিন সময় নির্ধান করে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন পক্রিয়া শুরু করার পর পরই আমরা আবেদন করেছিলাম। কিন্তু এমপিও ভুক্ত হয়নি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. হাফিজুর রহমান বলেন, দীর্ঘ দিন যাবৎ আলীপুর দাখিল মাদরাসার শিক্ষক ও কর্মচারিগণ বিনা বেতনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সকল নিতিমালা অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের পাঠ দান করে আসছে এবং প্রতিবছরই সন্তোষ জনক ফলাফল লাভ করে। এই প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভুক্ত না হওয়ার কারনে শিক্ষক-কর্মচারীরা এখন হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান ও চাপিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মো. আব্দুল করিম মিয়া বলেন, আমি দীর্ঘ দিন যাবৎ এই মাদরাসার সাথে সম্পৃক্ত আছি। বিগত দিনে আমাদের প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্ত হয়নি। এ বছরেও হলো না।

Sharing is caring!