১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ: অর্থনীতিবিদদের প্রতিক্রিয়া

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত জুন ৫, ২০২০
১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ: অর্থনীতিবিদদের প্রতিক্রিয়া

করোনা সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। এর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হবে। এরইমধ্যে বাজেট উত্থাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, অর্থবিভাগ ২০২০-২১ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকার প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে। যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৬ শতাংশ বেশি। এ উন্নয়ন বরাদ্দের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থ ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা ও বিদেশি সাহায্যের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৭০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটের খরচের প্রায় ৬৫ শতাংশ সংস্থান ধরা হয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর বাবদ অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ থেকে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে আভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আয় কমবে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। সে কারণে বাজেটে বেশী উচ্চাকাঙ্ক্ষা না দেখিয়ে বরং কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ব্যয় সংকোচন ও এরকম নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

তবে, বর্তমান করোনা পরিস্থিতে অনেকরকম বৈশ্বিক ও আর্থিক অনিশ্চয়তার কথা বিবেচনা করেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ। অনুরূপ মন্তব্য করেছেন বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হাসান।

এ প্রসঙ্গে পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে একটা উচু মাত্রার রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ একেবারেই অবাস্তব চিন্তা। বরং কম আয়ের কথা মাথায় রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনা কাটছাট করা দরকার।

অর্থনীতিবিদরা পরামর্শ দিয়েছেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে রাখতে  হবে। করোনা ভাইরাসের কারণে হঠাৎ চাকরি হারানো লাখ লাখ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা কিভাবে কম খরচে নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়টিও ভাবতে হবে সরকারকে।

ইতোমধ্যেই করোনা পরিস্থিতিতে কৃষি ও শিল্পখাতে আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি জনগণের অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেটে শারীরিক নিরাপত্তার কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকাও বাজেট থেকে ব্যয় করা হবে।

Sharing is caring!