হিজাব পরলে ভূতের মত লাগে; অধ্যক্ষের মন্তব্য

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মার্চ ২০, ২০২২

আওয়ার বাংলাদেশ ডেস্ক: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর নাছির উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে হিজাব পরায় এক এসএসসি(২০২২) পরিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত ও ধর্মীয় পোশাক নিয়ে কটুক্তি মূলক কথা বলার অভিযোগ ওঠেছে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) সুনীল চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় এলাকায় জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিন্দার ঝড় বইছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত বিষয় উদঘাটন করে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

জানাযায়, গত (১৫ মার্চ) মঙ্গলবার দশম শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার পর অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) সুনীল চন্দ্র দাস ক্লাসে এসে বিজ্ঞান সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন করেন প্রশ্নের উত্তর দেন হিজাব পরিহিত এক ছাত্রী। এসময় অধ্যক্ষ তাকে হিজাব খুলে কথা বলতে বলেন কিন্তু ঐ ছাত্রী হিজাব খুলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে সুনীল চন্দ্র বলেন হিজাবের ভিতরে খারাপ মানুষ থাকে, হিজাব পরলে ভূতের মত লাগে ইত্যাদি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর সহপাঠীরা।

এ ঘটনার ভিকটিম ছাত্রীর বক্তব্য না পাওয়া গেলেও তার সহপাঠীরা এবিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা অধ্যক্ষের বিচার দাবি করছেন। এমন ঘটনা যাতে প্রতিষ্ঠানে পুনরায় না ঘটে তার জন্য প্রতিষ্ঠানের প্রধানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

নাম না প্রকাশের অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক শিক্ষার্থী বলেন এ ঘটনাকে একটি প্রভাবশালী মহল ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা ভিকটিম ছাত্রীর অভিভাবককে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাটি গোপনে রফাদফা করার চেষ্টা করছেন। এমন হলে এরকম ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটবে কিন্তু এটির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীকে আইনের আওতায় আনলে এমন ঘটনা আর ঘটবে না।

অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) সুনীল চন্দ্র দাসের সাথে থেকে যোগাযোগ করা হলে, গণমাধ্যমের পরিচয় শুনে ফোনকলটি কেটে দেন। পরবর্তীর রিসিভ করেন নি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে গোলাপগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার পাল বলেন বিষয়টি আমি কিছুক্ষণ পূর্বে শুনেছি। যেহেতু আমরা বিষয়টি অবগত হয়েছি সুতরাং এখন আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) স্যারের সাথে কথা বলে বিষয়টি বড় হওয়ার আগেই দ্রুত ব্যবস্থা নিব।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ গোলাম কবির বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। ইতোমধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Sharing is caring!