হাটহাজারী হুজুরের বক্তব্য : ঘটে গেল অদ্ভুত এক কাহিনী

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
হাটহাজারী হুজুরের বক্তব্য : ঘটে গেল অদ্ভুত এক কাহিনী

হাবীবুর রহমান মিছবাহ এর ফেইসবুক টাইমলাইন থেকে।

জুমা পড়ে মাদরাসার দিকে যাচ্ছি, পেছন থেকে জোর গলায় একজন ডাকলেন। তিনি আলেম এবং আমার পূর্বপরিচিত। তিনি আমাকে বাঁকা নজরে দেখেন বলেই জানি।
তার অভিযোগ— গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে আলেমদের বসা নিয়ে আমার করা মন্তব্য “আমি বিস্মিত, লজ্জিত ও হতবাক, ফ্যাক্ট পর্দা” এটা শাহ আহমদ শফীর বিরুদ্ধে বেয়াদবী ছিল! তাই তিনি আমাকে সোজা নজরে দেখেন না। তার কথা হচ্ছে, হাটহাজারী হুজুরের বিরুদ্ধে কিচ্ছু বলা যাবে না। তিনি ভুল করতে পারেন না! ভুল বক্তব্য দিলেও মনে করতে হবে তার মাঝে নিশ্চয়ই কোনো হেকমত আছে! হাটহাজারী হুজুরের বড় ভক্ত বেচারা। বিএনপির শরীক এক ইসলামী দলের নেতা সে।

কিন্তু আজ আমাকে অবাক করে দিয়ে তিনি প্রশ্ন ছুড়লেন— হযরত! আহমদ শফী যা বলবে তাই রাইট? তার সমালোচনা করা যাবে না? তাহলে হযরতজী সাদ ও মুফতী ইজহারের দোষ কোথায়? বয়সের অজুহাতে একজন বৃদ্ধ লোকের ভুলকে আপনারা আর কত ঢাকবেন? এতে ইসলামের কী ফায়দা? ইজহার সাহেবকে তুলোধুনো করেন আর শফী সাহেবকে মাথায় তুলেন কাহিনী কী?

আমি তো বেয়াকূফ বনে গেলাম! এই লোকের মুখে এমন কথা! যেই থু থু ফেলে দিয়েছে, সেই থু থু আবার চেটে খাচ্ছে! এরকম ঘটনা আমার জীবনে নেহায়েত কম ঘটেনি।
যাহোক, লোকটির এলোপাতাড়ি প্রশ্নের জবাবে আমি কিছু বলার আগেই আরেকজন উত্তরের ঝুলি নিয়ে হামলে পড়লেন তার ওপর। তাকে আমি চিনি না। তিনি বললেন— মৌলভী সাদ তো গোমরাহ, আর মুফতী ইজহার হিজবুত তাওহীদের কেনা গোলাম!
এ্যাঁ? কী কয় এসব? দু’জনের মাঝে চরম যুদ্ধ শুরু হলো, শুধু কিলাকিলিটা বাকি ছিল।

দ্বিতীয় ব্যক্তি আমাকে লক্ষ্য করে অভিযোগের সূরে বললেন— শাহীনুর পাশা হাটহাজারী হুজুরের বিরুদ্ধে লিখলো অথচ আপনি একটা প্রতিবাদ করলেন না! আমি বললাম, ভাই এর মাঝে আমাকে টানবেন না। এই পাশা সাহেবদের অনুসারীরাই হাটহাজারীর হুজুরের দরদী সেজে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচারে ফেসবুক গরম করেছিল। সেই পাশা সাহেবরাই যদি আজ হুজুরের বিরুদ্ধে লেখে বা বলে, সেখানে আমার কিছু করার নাই। প্রথম ব্যক্তির দিকে ইশারা করে বললাম— এই লোকও আমাকে দু’চোখে দেখতে পারতো না একই কারণে, আজ সে কতোটা বিদ্বেষী! অথচ আমি সেদিন হুজুরের বিরুদ্ধে বলিনি, কিন্তু এরা গায়ে টেনে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছিল। এরা থু থু ফেলে সেই থু থু আবার চেটে খেতে পারে, আমি পারি না।

এতক্ষণে ডজনখানিক লোক জড়ো হয়ে গেছে। তাদের করা মন্তব্যের কথা না-ই বা বললাম। একজন সাধারণ মুসুল্লী প্রশ্ন করলেন, যতোবড় ব্যক্তিই হোক না কেন, সে ভুল করলে সেটা কি মেনে নিতে হবে?
না ভাই মানবেন কেন? কিন্তু উলঙ্গ সমালোচনারও অধিকার নেই। ভুলের সমালোচনা করতে গিয়ে যেন মিথ্যাচার ও ব্যক্তি আক্রমণ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা অবশ্যকরণীয়।

তবে পৃথীবিতে এখন আর কোনো নবী নেই, নেই সাহাবীও। অতএব কারও ভুল হলে তার ভুল ধরা যাবে না বিষয়টা এমন নয়। কেউ ভুলের উর্ধ্বে নয়।

আর হাটহাজারী হুজুরের বক্তব্যের কথা যদি বলেন, তাহলে আমি বলব— তাঁর বক্তব্য শরীয়তবিরোধী বক্তব্য নয়। এটা তাঁর ব্যক্তি দৃষ্টিকোণ ও সমাজ বা রাষ্ট্র সংক্রান্ত বক্তব্য। এমন বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকতেই পারে, তবে শরিয়ত তাঁকে এই বক্তব্যের জন্য দোষী মনে করে না (যদি তথ্যে অসত্য কিছু না থাকে)।
যারা তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা বা বিরোধিতা করছে, তারাও শরিয়তদরদী হয়ে নয়, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেই বিরোধিতা করছে।

অবশ্য তাঁর বক্তব্য আরও বিচক্ষণতার সঙ্গে হওয়া অপরিহার্য। সে ক্ষমতা না থাকলে সবধরণের আলোচনা থেকে তাঁকে অবসর নেওয়া জরুরী৷ যারা আবেগে তাঁকে দাওয়াত দেন, সেই দাওয়াতদাতারাও এর দায়ভার এড়াতে পারবেন না। একের পর এক সমস্যা ঘটার পরও কেন এবং কী কারণে তাঁকে দাওয়াত দেওয়া হয়? তাঁর আশপাশের লোকজনই বা কেন দাওয়াত গ্রহণ করেন? বিষয়টার মিমাংসা হওয়া অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে।

Sharing is caring!