হাটহাজারী কলেজের স্বর্ণ যুগের স্বপ্নদ্রষ্টা মীর কফিল উদ্দিন

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ৯, ২০২০
হাটহাজারী কলেজের স্বর্ণ যুগের স্বপ্নদ্রষ্টা  মীর কফিল উদ্দিন

মাস্টার সেলিম উদ্দিন রেজা    

মীর কফিল উদ্দীন। আমার পরম শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক।
দু’টি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে স্যারকে জানার সুযোগ আমার হয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে তিনি আমার শিক্ষক।আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে আমি তাঁর এলাকারই সন্তান।

১৯৬৮ সাল হতে ২০২০। হাটহাজারী কলেজের দীর্ঘ ৫২ বছরের ইতিহাস। মীর কফিল উদ্দীন সেই পরম সৌভাগ্যবানের নাম ৫২ বছরের ইতিহাসে ৩৪টি বছরের সাথে তিনি সম্পৃক্ত। বিশেষ করে শেষ ১২ টি বছর। যে সময়টিতে তিনি পালন করেছেন এ কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব। অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত তিনি ছিলেন হাটহাজারী কলেজের ১৮ নম্বর শিক্ষক। মেধা, যোগ্যতা, কলেজের প্রতি আন্তরিকতা তাঁকে ১৮ নম্বর থেকে টেনে নিয়ে গেছে ১ নম্বরে। দিয়েছে অধ্যক্ষের মর্যাদা।

স্যারের যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে সেটি হচ্ছে তাঁর শৃংখলাবোধ। দায়িত্ব গ্রহণ করেই কলেজের সার্বিক ব্যাবস্থাপনায় সুশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টিকে তিনি চ্যালেন্জ হিসেবে গ্রহণ করেন। এ কাজে তাঁকে ডিঙিয়ে যেতে হয় বাঁধার পাহাড়। অসীম সাহস, দৃঢ় মনোবল, সৎ উদ্দেশ্য, সহকর্মীদের সহযোগিতায় কলেজের সুশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টিতে তিনি লাভ করেন নজিরবিহীন সফলতা।

একজন কর্মবীরের নাম মীর কফিল উদ্দীন। কলেজ কর্তৃক তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব যথার্থ ও স্বার্থকভাবে পালনের জন্য তিনি নিয়োগ করেছেন তাঁর সর্বশক্তি।সরলতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, উদ্যমশীলতা, আন্তরিকতা, সহকর্মী, ছাত্র, অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর প্রতি যথার্থ ভালোবাসা ও সহমর্মিতার গুণে অতি অল্প সময়ে হাটহাজারী কলেজের অবকাঠামো এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সফল হয়েছেন তিনি।

একজন সুবক্তা মীর কফিল উদ্দীন।তাঁর বক্তব্যের আমি অনুরাগী। কোন জড়তা নেই। নেই দুর্বোধ্যতা। সহজ সরল ভাষা। বক্তব্যের প্রতিটি শব্দ যেন শিউলি, মালতি, মাধবী, বকুল থেকে ঝরে পড়া এক একটি হৃদয়গ্রাহী সতেজ ফুল। পুরো বক্তব্যটা যেন নিপুণ শব্দের এক গাঁথুনি মালা। বহুবার তাঁর বক্তব্য শোনার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। যতবার শুনেছি উৎকীর্ণ হয়ে শুনেছি, নতুন কিছু শিখেছি।

আজ জাতীয় শিক্ষাঙ্গণে হাটহাজারী কলেজ একটি উজ্জ্বল আলোকস্তম্ভ।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতিত্বের তালিকায় ৭ম স্থান অধিকারী ঐতিহ্যবাহী কলেজ। হাটহাজারী কলেজকে এ অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবার ক্ষেত্রে যাঁর প্রতিভা, মেধা, শ্রম, আন্তরিকতা সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে তিনিই মীর কফিল উদ্দীন।

তাঁর ১২ বছরের অধ্যক্ষের দায়িত্বপালনকালীন সময়টিকে হাটহাজারী কলেজের বিস্ময়কর বৈপ্লবিক পরিবর্তনের যুগ বলা যায় নি: সন্দেহে।মূলত: একলেজের স্বর্ণ যুগের স্রষ্টা মীর কফিল উদ্দীন।

আজকের বর্তমান আগামীকালের অতীত। সময়ের প্রবহমানতায় নিয়মের অনিবার্যতায় গত ৫ মে ২০২০ তারিখে অধ্যক্ষের পদ থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি।এখন তিনি হাটহাজারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ। তাঁর স্বর্ণ যুগটি আজ অতীত।

” হে অতীত তুমি ভুবনে ভুবনে
কাজ করে যাও গোপনে গোপনে
মুখর দিনের চপলতা মাঝে স্থির হয়ে তুমি রও
হে অতীত,তুমি গোপনে হৃদয়ে কথা কও, কথা কও।”

Sharing is caring!