ইতিকাফ: কী ও কেন?

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ১৫, ২০২০
ইতিকাফ: কী ও কেন?

আহমদ নোমানী

ইতিকাফ শব্দের অর্থ হচ্ছে “অবস্থান করা” , অর্থাৎ আল্লাহ কে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্য তার পবিত্র ঘর মসজিদে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলে, তবে হ্যাঁ মহিলারা যেহেতু মসজিদে আসার শরয়ী অনুমোদন নেই, তাই তারা নিজ গৃহের নামাজ পড়ার স্হানেই অবস্থান করবে।
(ফাতওয়া শামী, ৩/৪৯৩-৪৯৪, মাকতাবায়ে রশীদিয়্যা থেকে ছাপানো)

ইসলামী শরিয়তে ইতিকাফ একটি মহান ফজিলত পুর্ণ আমল, রামাজানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করা সুন্নতে মোয়াক্কাদা আলকিফায়া, যদি কোন মহাল্লার মসজিদে কেউ ইতিকাফ না করে থাকে, তাহলে উক্ত মহাল্লার সকলেই গুনাগার হবে।( ফাতওয়া শামী, ৩/৪৯৫)

নবীজী সাঃ মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি রামাজানে ইতিকাফ করেছন, তবে এক রামাজানে সফরের কারণে ইতিকাফ করতে না পারায় পরের বছর তার কাজা সহ মোট বিশদিন ইতিকাফ করেছন।
عن ابي هريرة رضي الله عنه قال كان النبي صلي الله عليه وسلم يعتكف في كل رمضان عشرة أيام فلما كان العام الذي قبض فيه اعتكف عشرين يوما
.( বোখারী; হাদীস নং: ২০৪৪)

নবীজি সাঃ জীবনের প্রতিটি বছর ইতিকাফ করা এবং এবং তা ছুটে যাওয়ায় পুনরায় ক্বাযা করাটা ইংগিত করে যে ইতিকাফের ফজীলত ও গুরুত্ব এমন অপরিসীম যা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
ইতিকাফ এতো ফজীলতপুর্ণ হওয়ার কারণ হলো শবেকদর, কারণ যে ব্যাক্তিরামাজানের শেষদিন ইতিকাফ করে ইবাদাত-বন্দেগীতে রত থাকিবে অবশ্যই সে ব্যাক্তি শবেকদর লাভকরিবে।

শবেকদর পাওয়া সহজ করণের জন্যই শরিয়ত ইতিকাফকে সুন্নত করেছে, শবেকদরের ফজীলতের একটি ঝলক রয়েছে ইতিকাফের উপর তাইতো নবীজি সাঃ প্রতিটি রামাজানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করতেন কেবল শবেকদর তালাশ করার জন্য এবং এতে উম্মতকে শিক্ষা দিয়েগেলেন যে : যদি তোমরাও শবেকদর সহজে পেতে চাও তাহলে ইতিকাফে বস।

হযরত আবুসাঈদ খুদরী রাঃ বলেন: নবীজি সাঃ রামাজানের প্রথমদশদিন ইতিকাফে বসেন আমরাও তাঁর সাথে বসি, অতঃপর জিবরাঈল আঃ আগমন করে বলেনঃ আপনি যা তালাশ করতেছেন তাহা আরো সামনে, তাই নবীজি সাঃ মাঝের দশদিনও ইতিকাফে বসেন, আমরাও তাঁরসাথে বসি, কিছুক্ষণ পর জিবরাঈল আঃ পুনরায় আগমন করে বললেন যে : আপনি যাহা তালাশ করতেছেন তাহা আরো সামনে, তারপর নবী করীম সাঃ বিশে রামাজানের সকালে সকলকে লক্ষকরে বলেনঃ যে ব্যাক্তি নবীর সাথে ইতিকাফ করতে ইচ্ছুক সে যেন মসজিদে চলে আসে, আমাকে স্বপ্নের মাধ্যমে শবেকদর জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পরে তা ভূলিয়েও দেওয়া হয়েছে, তবে হ্যাঁ শবেকদর রামাজানের শেষ দশদিনের বেজোড় রাতগুলোতে।

اعْتَكَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشْرَ الْأُوَلِ مِنْ رَمَضَانَ، وَاعْتَكَفْنَا مَعَهُ، فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ، فَقَالَ : إِنَّ الَّذِي تَطْلُبُ أَمَامَكَ، فَاعْتَكَفَ الْعَشْرَ الْأَوْسَطَ، فَاعْتَكَفْنَا مَعَهُ، فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ، فَقَالَ : إِنَّ الَّذِي تَطْلُبُ أَمَامَكَ، قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطِيبًا صَبِيحَةَ عِشْرِينَ مِنْ رَمَضَانَ، فَقَالَ : ” مَنْ كَانَ اعْتَكَفَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلْيَرْجِعْ ؛ فَإِنِّي أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ وَإِنِّي نُسِّيتُهَا، وَإِنَّهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ فِي وِتْرٍ
، (সহীহ বোখারী; হাদীসনং: ৮১৩)
( সংক্ষিপ্ত লিখনি)

কয়েকটি মাসআলা:

ক: মসজিদেনববীর এক কোনায় নবীজি সাঃ ইতিকাফ করার জন্য তুরকী কাপড় দিয়ে একটি কক্ষ বানানো হতো যার দরজায় খেজুরের ডাল লটকানো থাককো।
(ইমনে মাজাহ; হাদীস নং:১৭৭৫ , মুসনাদে আহমদ; হাদীস নং : ৫৩৪৯)

সুতরাং যারা মসজিদে ইতিকাফ করবে তারা তাদের ইবাদাত-বন্দেগীতে সুবিধার জন্য মসজিদের এক কোনায় কাপড় ইত্যাদি দিয়ে কামরা বানিয়ে নিবে।

খ: ইতিকাফকারী মসজিদে বসে-বসে কোরআন তেলাওয়াত, জিকির- আজকার ইত্যাদি করিবে, নতুবা চুপ করে বসে থাকবে, কোন অহেতুক কথা-বার্তা বলবেনা, তবে হ্যাঁ ইবাদাত মনেকরে চুপ থাকা মাকরুহে তাহরীমী তথা গুনাহ।
( ফাতওয়া শামী; ৩/৫০৭-৫০৮)

গ: মানবিক স্বভাবগত প্রয়োজন তথা পেশাব, পায়খানা এবং ফরজ গোসল ইত্যাদি ছাড়া মসজিদ থেকে বের হওয়া ইতিকাফকারীর জন্য হারাম, অতএব ইতিকাফকারী যদি সামন্য সময়ের জন্যও উপরোল্লিখিত কারণ ছাড়া মসজিদ থেকে বের হয়, যদিও তা ভূলে হয়, সাথে- সাথে তার ইতিকাফ নস্ট হয়েযাবে, এবং পরবর্তীতে তা রোযা রেখে ক্বাযা করতে হবে।
( ফাতওয়া শামী; ৩/৫০০-৫০৩)

লেখক: আহমদ নোমানী

মোহাদ্দিস: জামেয়াতুর রহমাহ গাজীপুর, ঢাকা।

Sharing is caring!