স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ” বিদ্যনন্দ”র সচেতনতার নামে অবাধ যৌনাচারের ক্যাম্পেইন: অনলাইনে সমালোচনার ঝড়

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত অক্টোবর ২৬, ২০২০
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ” বিদ্যনন্দ”র সচেতনতার নামে অবাধ যৌনাচারের ক্যাম্পেইন: অনলাইনে সমালোচনার ঝড়

তাওহীদ ইসলাম

বরিশাল প্রতিনিধীঃ
বিদ্যানন্দ একটি শিক্ষা সহায়ক সামাজিক সংগঠন, যারা সরাকারী রেজিস্টারভুক্ত, তাদের অনেক কাজ মানুষের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। দেশে লক্ষ লক্ষ মনুষ তাদের ভক্ত, শুভাকাঙ্খি। তাদের কার্যক্রম প্রথমে নিজ উদ্যোগে ক্ষুদ্র পরিসরে শুরু হলেও এটা এখন ব্যাপক ও বৃহৎ পরিসরে তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

গতকাল তাদের ফেইসবুক পেইজ থেকে পুজা উপলক্ষে একটি পোস্ট করা হয় যার শিরনাম ছিল মাতৃত্ব গর্বের হলে, মাসিক কেন লজ্জার”? এই কৌতুহলী প্রশ্ন করে তারা সমাজের মাসিক নিয়ে যে টেবু বা লজ্জা আছে সেটা ভাঙ্গাতে চান, তারা মনে করেন এমন ক্যাম্পিংয়ের মধ্য দিয়েই আমাদের দৃস্টভঙ্গি পাল্টে যাবে। নারীরা নিঃসংকোচে তার প্রয়োজনীয় ন্যাপকিন, বা প্যাড বহন করতে পারবে। ওপেনে হাতে নিয়ে ঘুড়েে বেরাতে পারবে।

কিন্তু এদেশের শিক্ষা-সংস্কৃতি, সভ্যতা, পরিবেশ, আচার, ব্যাবহারের সাথে এগুলো যায় কিনা সে বিষয়টি তারা একবার ও চিন্তা করেন নি। সকল সত্যই যে সামনে বলা যায় না, সব সত্যই যে ঢাক ঢোক পিটিয়ে, উৎসব করা উচিৎ নয়, এটা হয়ত তারা মাথায় নেননি। এদিকে ফেসবুকে এ নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। পাঠক চরমভাবে ক্ষুদ্ধ হয়েছেন তাদের এই লেখা নিয়ে, প্রশ্ন উঠছে পুজার উৎসবে প্যাড বিতারণ বা এমন প্রচারণার উদ্যেশ্য কি? কতজন নারী এটা নিয়ে তাদের কাছে অভিযোগ করেছেন এই টেবু (তাদের ভাষায়) নিয়ে? এর অনেক ক্ষতিকর দিক আছে, এ নিয়ে যে বা যারাই কাজ করছে, এ্যাড দিচ্ছে সবাই মেয়ের প্যাড ক্রয়ে বাবা, ভাইকে বলছে, কেন মা, চাচি, বোন, খালা এরা কোথায়? মেয়ের ব্যাপার মাকে না বলে বাবা ভাইকে কেন? নাকি যৌনতাকে আরো উস্কে দেওয়া? যেই কাজটা নরমালি করা যায় সেটা কেন উৎসব করে করতে হবে? সেখানে উৎসবে অনেক সমস্যা?

কমেন্টবক্সে পাঠক তাদের ক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করছেন, নিচে এমন কয়েজনের প্রতিক্রিয়া হুবহু তুলে ধরছিঃ

১. রাবেয়া খন্দকার নামে এক নারী লিখছেনঃ নারীদের এমন কিছু বিষয় আছে, যেমন, সেক্স, প্রিয়ড, বাচ্চাকে দুধ পান, যা একদিকে গর্ব, আনন্দ ও মমত্বের অন্য দিকে এগুলো ঢাক ঢোল পিটিয়ে, খোলামেলা আলোচনা করার বিষয়ও নয়। এগুলো সত্য কিন্তু গোপনেই করা উচিৎ। একটাকে হাই লাইট করলে অন্যগুলো নস্ট হবে।

২.ফারিহা চৈতী নামে একজন লিখেছেনঃ ব্যাপারটা গর্বের হলেও গোপনীয়, বিষয়টা টয়লেটের মত, কারো টয়লেট না হলে ঝামেলা, হলেই সে ফ্রি। তার মানে এটা জনে জনে বলে বেড়ানোর কিছু না। তাই প্যাড কিনে বুক ফুলিয়ে হাতে ঝুলিয়ে বাজারে ঘোড়ারমত বিষয় না।

৩. হাসিবুল ইসলাম নামে একজন লিখেছেনঃ এগুলো লজ্জার কে বলছে? আমি মাদরাসার ছাত্র, আমাদের এগুলো ক্লাস ৬ষ্ঠ শ্রেনীতেই না বুঝে পড়েছি। এটা নিয়ে একদল খোলামেলা আলোচনার নামে নগ্নতা ছড়াচ্ছে, অন্যদল একেবারে হাইট করতে চাচ্ছে দুই মেরুতে দু দল। এটা প্রকৃতিক এমনিতেই শিখে যাবে, এতো আলোচনার দরকার নেই। হ্যা মাসিক নিয়ে বাজে মন্তব্য যারা করে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে কিন্তু এভাবে মাসিক নিয়ে প্রচারনা, আলোচনা করার কোন মানে নেই, তাতে সমস্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। লজ্জা উঠে যাচ্ছে। সমাজের আরো কত সমস্যা সেটা নিয়ে আলোচনা না করে এটা সামনে আনার কোন মানে নেই।

৪. মোঃ মাজেদ লিখেছেনঃ তাহলে মেয়েরা কি মাইক নিয়ে বলবে আমার মাসিক হয়েছে, প্যাড লাগবে? বরং এটা সাভাবিক বিষয় মেয়েরা এসব জ্ঞান মা, চাচি, খালা, নানু বড় বোন থেকে শিখে নিবে, এভাবে ঢাক ঢোল পিটিয়ো বলার কিছু নেই।

৫. Md. Al Amin নামে একজনে লিখছেনঃ আমাদের অনেক বিষয় আছে যা সত্য, সঠিক, গর্বের কিন্তু তা গোপন রাখতে হয়। প্রকাশ্যে বলার বিষয় নয়। যেমন, আমাদের বাবা মায়ের স্বর্গীয় মিলন সত্য, সুন্দর তাই বলে কি এটা মাইক নিয়ে এনাউন্স করতে হবে? কন্ডোম আমাদের দরকার সত্য, তাই বলে কন্ডম নিয়ে পথে পথে ঘুড়তে হবে? সব সত্যই প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে হবে এই নীতিটা কে বলছে? তিনি প্রশ্ন করেন। তিনি আরো বলেন এটা প্রচার করার দুটো কারণ,হয় তারা মূর্খ, নয়ত তারা ধর্মের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মানুষকে অবাধ যৌনতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

এর বাইরে অনেকে আবার পাল্টা যুক্তিও দিয়োছেন! ছেলেদের মুসলমানী অনুষ্ঠান লজ্জার না হলে এটা কেন লজ্জার? সন্তান হওয়া খুশির হলে এটা কেন লজ্জার?

আসলে লজ্জা বা খুশির কোন বিষয় এখানে নেই। এখানে আছে সামাজিক শিষ্টার, ভদ্রতা, সভ্যতা। অনেক আনন্দের বিষয় আমরা প্রচার করি না যেমনঃ স্বামী স্ত্রীর যৌন মিলন,মায়েদের প্রসব বেদনা, বাচ্চাদের দুধপান করানো।

আবার অনেক দুঃখ বা লজ্জার বিষয়ও আমরা প্রকাশ্যে বলে থাকি,যেমনঃ কারো মৃত্যুর খবর, ধর্ষনের বিচারে আন্দোলন। বলবৎকারের বিচার।

পাঠক, শুভাকঙ্খি ও বক্তবৃন্দরা মনে করেন বিদ্যানান্দ কোন এনজি বা কোন বিদেশি মদদে চালিত অথবা নাস্তিক্যবাদী কোন সংগঠন নয়, বরং তারা একটি গণতান্ত্রীক দেশের স্বেচ্চাসেবী সংগঠন যেখানে ৯০% মানুষ মুসলিম তাই সেই বৃহত্তর জনগোষ্ঠীের ধর্মীও অনুভুতিকে সাসনে রেখেই কথা বলতে হবে। না হয় তারাও ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। এদেশের ইতিহাস, ঐতিয্য,কালচারের সাথে যায না এসন বিষয় প্রচারণা থেকে বিরত থাকা উচিৎ বলে মনে করেন তারা। তারা আরো দাবী করেন যে, উক্ত পোস্ট দ্রুত ডিলেট করে আনুষ্ঠানিক দুঃখ প্রকাশ করবে বলে আমরা আশা করি।

Sharing is caring!