সু-স্বাস্থ্য ও চিকিৎসায় মহানবী সাঃ পর্ব-৪

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত এপ্রিল ১৭, ২০২০
সু-স্বাস্থ্য ও চিকিৎসায় মহানবী সাঃ পর্ব-৪

মুফতি মুহাম্মদ উল্লাহ রিজওয়ান    

সু-স্বাস্থ্য আল্লাহ তাআলার বড় নিয়ামত। আর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাসূলুল্লাহ সাঃ নানাবিধ উপায়-উপকরণ হাদীসে বর্ণনা করেছেন এবং উম্মতকে তা শিক্ষা দিয়েছেন। তার মধ্য থেকে একটি হল মধু (যার বিস্তারিত আলোচনা ২য় ও ৩য় পর্বে উল্লেখ করা হয়েছে) দ্বিতীয়টি হল…

(২) #কালোজিরা। এটি একটি মাঝারি আকৃতির মৌসুমী গাছ, একবার ফুল ও ফল হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Nigella Sativa Linn। এর স্ত্রী, পুরুষ দুই ধরনের ফুল হয়। তার রং সাধারণত নীলচে সাদা হয়। (জাত বিশেষে ভিন্নও হয়) পাঁচটি পাঁপড়ি বিশিষ্ট হয় এবং কিনারায় একটা বাড়তি অংশ থাকে। তিন-কোনা আকৃতির কালো রং এর বীজ হয় । গোলাকার ফল হয় এবং প্রতিটি ফলে ২০-২৫ টি বীজ থাকে । আয়ুর্বেদীয় , ইউনানী, কবিরাজী ও লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। মশলা হিসাবে ব্যাপক ব্যবহার হয়ে থাকে, এটি পাঁচ ফোড়নের একটি উপাদান। তার বীজ থেকে তেল পাওয়া যায়। দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়া এবং কেউ কেউ বলেন ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে এর উৎপত্তিস্থল।

আমাদের বাংলা ভাষায় তার আরো প্রচলিত নাম রয়েছে।যেমন. কালিজিরা, কালোজিরা, কালো কেওড়া, রোমান ধনে, নিজেলা, কালঞ্জি ইত্যাদি । আসলে যে নামেই ডাকা হোক না কেন এ কালোজিরার গুণাগুণ ও উপকারিতা প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বর্ণনা ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের গবেষণা অনুযায়ী অপরিসীম। যেমন-

১। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
عَلَيْكُمْ بِهَذِهِ الْحَبَّةِ السَّوْدَاءِ فَإِنَّ فِيهَا شِفَاءً مِنْ كُلِّ دَاءٍ إِلاَّ السَّامَ ‏”‏ ‏.‏ وَالسَّامُ الْمَوْتُ
অর্থাৎ : তোমরা এই কালোজিরা ব্যবহার করবে। কেননা, এতে মৃত্যু ছাড়া সব রোগের প্রতিষেধক রয়েছে। [সূনান তিরমিযী ]

২। হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি :
فِي الْحَبَّةِ السَّوْدَاءِ شِفَاءٌ مِنْ كُلِّ دَاءٍ، إِلاَّ السَّامَ
অর্থাৎ : কালোজিরায় মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের আরোগ্য রয়েছে। [বুখারী মুসলিম]

৩। হযরত বুরায়দা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
إِنَّ هَذِهِ الْحَبَّةَ السَّوْدَاءَ فِيهَا شِفَاءٌ ، قَالَ وَفِي لَفْظٍ : قِيلَ وَمَا الْحَبَّةُ السَّوْدَاءُ ؟ قَالَ الشُّونِيزُ قَالَ
وَكَيْفَ أَصْنَعُ بِهَا ؟ قَالَ : تَأْخُذُ إِحْدَى وَعِشْرِينَ حَبَّةً فَتَصُرُّهَا فِي خِرْقَةٍ ، ثُمَّ تَضَعُهَا فِي مَاءٍ لَيْلَةً فَإِذَا أَصْبَحْتَ قَطَرْتَ فِي الْمَنْخِرِ الْأَيْمَنِ وَاحِدَةً وَفِي الْأَيْسَرِ اثْنَتَيْنِ ، فَإِذَا كَانَ مِنَ الْغَدِ قَطَرْتَ فِي الْمَنْخِرِ الْأَيْمَنِ اثْنَتَيْنِ وَفِي الْأَيْسَرِ وَاحِدَةً ، فَإِذَا كَانَ فِي الْيَوْمِ الثَّالِثِ قَطَرْتَ فِي الْأَيْمَنِ وَاحِدَةً وَفِي الْأَيْسَرِ اثْنَتَيْنِ
অর্থাৎ : নিশ্চয় এই কালোজিরায় আরোগ্য রয়েছে। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, কালোজিরা কী ? তিনি বললেন, শুনীয। প্রশ্ন করলেন: কিভাবে তা ব্যবহার করবো ? তিনি বললেন: ২১টি কালোজিরার ১টি পুটলি তৈরি করে রাতে পানিতে ভিজিয়ে রাখবে এবং সকালে (পুটলির পানির ফোঁটা এ নিয়মে নাসারন্দ্রে ব্যবহার করবে) প্রথমবার ডান নাকের ছিদ্রে ১ ফোঁটা এবং বাম নাকের ছিদ্রে ২ ফোঁটা। পরের দিন বাম নাকের ছিদ্রে ১ ফোঁটা এবং ডান নাকের ছিদ্রে ২ফোঁটা। তৃতীয় দিন ডান নাকের ছিদ্রে ১ ফোঁটা ও বাম নাকের ছিদ্রে ২ ফোঁটা। [ তিরমিজি ও ফাতহুল বারী ]

উক্ত হাদীসগুলোর দ্বারা প্রমাণিত যে রাসূলুল্লাহ সাঃ কালোজিরাকে মৃত্যু ছাড়া সব রোগের ঔষুধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এ নিয়ে বর্তমান স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরাও অনেক গবেষণা করেছন।

★ ১৯৬০ সালে মিসরের গবেষকরা কালোজিরা গবেষণা করে নিশ্চিত হন যে, কালো জিরায় বিদ্যমান নাইজেলনের কারণে হাঁপানি রোগ উপশম হয়।
★ জার্মানি গবেষকরা বলেন, কালো জিরার অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-মাইকোটিক প্রভাব রয়েছে। এটি বোনম্যারো ও প্রতিরক্ষা কোষগুলোকে উত্তেজিত করে এবং ইন্টারফেরন তৈরি বাড়িয়ে দেয়।
★ আমেরিকার গবেষকরা প্রথম কালো জিরার টিউমারবিরোধী প্রভাব সম্পর্কে মতামত দেন। শরীরে ক্যান্সার উৎপাদনকারী ফ্রি-রেডিক্যাল অপসারিত করতে পারে কালিজিরা।
★ বর্তমান করোনা ভাইরাসে যেহেতু সর্দি কাশি ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ রয়েছে এবং এখনো এর কোন এন্টিভাইরাস তৈরী হয় নি। তাই বিশ্বের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে নিয়মিত কালোজিরা বা কালোজিরার তৈল ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অনেকে এর ইতিবাচক ফলাফলও পেয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে কালো জিরার আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে। (আগামী পর্বে)

 

লেখক: মুফতি মুহাম্মদ উল্লাহ রিজওয়ান

খতীব, উত্তর আদাবর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ।
মুহাম্মদপুর – ঢাকা।

Sharing is caring!