সু-স্বাস্থ্য ও চিকিৎসায় মহানবী সাঃ পর্ব-৩

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত এপ্রিল ১৪, ২০২০
সু-স্বাস্থ্য ও চিকিৎসায় মহানবী সাঃ পর্ব-৩

মুফতি মুহাম্মদ উল্লাহ রিজওয়ান

স্বাস্থ্য বিজ্ঞানে মধুর উপকারিতা অপরিসীম। উল্লেখ্যযোগ্য কয়েকটি নিম্নে দেয়া হল।

১। শক্তি প্রদায়ী: মধু ভালো শক্তি প্রদায়ী খাদ্য। মধু তাপ ও শক্তির ভালো উৎস। মধু দেহে তাপ ও শক্তি সঞ্চার করে শরীরকে সুস্থ রাখে।

২। হজমে সহায়তা: মধুতে যে শর্করা থাকে তা সহজেই হজমে সহযোগিতা করে়। কারণ এতে যে ডেক্সট্রিন থাকে তা সরাসরি রক্তে প্রবেশ করে এবং তাৎক্ষণিক ভাবে প্রক্রিয়া শুরু করে। তাই পেটরোগা মানুষদের জন্য মধু বিশেষ উপকারি।

৩। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে: মধুতে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, যা ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ১ চা চামচ খাঁটি মধু ভোরবেলা পান করলে কোষ্ঠবদ্ধতা এবং অম্লত্ব দূর হয়ে যায়।

৪। রক্তশূন্যতা পূরণ করে: মধু রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে বলে এটি রক্তশূন্যতায় বেশ ফলদায়ক।কারণ এতে থাকে খুব বেশি পরিমাণে কপার, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ।

৫। ফুসফুস ও শ্বাসকষ্ট নিরাময় করে: বিশেষজ্ঞরা বলেন, মধু ফুসফুসের যাবতীয় রোগ নিরাময়ে খুব উপকারী। যদি একজন অ্যাজমা (শ্বাস কষ্ট) রোগীর নাকের কাছে মধু ধরে শ্বাস টেনে দেয়া হয় তাহলে সে স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস টেনে নিতে পারবে। কেউ কেউ মনে করেন, এক বছরের পুরনো মধু শ্বাস কষ্টের রোগীদের জন্য বেশ ভালো।

৬। অনিদ্রায়: মধু অনিদ্রার ভালো ওষুধ। রাতে শোয়ার আগে এক গ্লাস পানির সঙ্গে দুই চা চামচ মধু মিশিয়ে খেলে এটি গভীর ঘুম ও সম্মোহনের কাজ করে।

৭। পাকস্থলীর সুস্থতায়: মধু পাকস্থলীর কাজকে জোরালো করে এবং হজমের গোলমাল দূর করে। এর ব্যবহার হাইড্রোক্রলিক এসিড ক্ষরণ কমিয়ে দেয় বলে অরুচি, বমিভাব, বুক জ্বালা এগুলো দূর করা সম্ভব হয়।

৮। দেহে তাপ উৎপাদনে: শীতের ঠান্ডায় মধু দেহকে গরম রাখে। এক অথবা দুই চা চামচ মধু এক কাপ ফুটানো পানির সঙ্গে খেলে শরীর ঝরঝরে ও সতেজ থাকে।

৯। পানিশূন্যতায়: ডায়রিয়া হলে এক লিটার পানিতে ৫০ মিলিলিটার মধু মিশিয়ে খেলে দেহে পানিশূন্যতা দূর হয়ে যায়।

১০। দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে: মধু চোখের জন্য ভালোই উপকারী । গাজরের রসের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

১১। রূপচর্চায়: মেয়েদের রূপচর্চার ক্ষেত্রে মাস্ক হিসেবে মধুর ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। মুখের ত্বকের মসৃণতা বৃদ্ধির জন্যও মধু ব্যবহৃত হয়।

১২। ওজন কমায়: মধুতে নেই কোনো চর্বি। মধু পেট পরিষ্কার করে, মধু ফ্যাট কমায়, ফলে নিয়মিত মধু সেবন কারীর ওজন কমে যায়।

১৩। হাড়ের শক্তি বৃদ্ধি করে: দুধের মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম। আর মধুর মধ্যে রয়েছে রোগ নিরাময়কারী উপাদান। তাই দুধ ও মধুর মিশ্রণ হাড়ের জন্যও ভালো। এটি হাড়কে শক্তিশালী করে এবং ক্ষয়রোধে সাহায্য করে।

১৪। তারুণ্য ধরে রাখে: মধু ও দুধের মিশ্রণ খাওয়া বার্ধক্যের আগমনকে ধীর করে দেয় এবং তারুণ্য ধরে রাখার জন্য এই খাবার শতবর্ষ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

১৫। মনোযোগ বাড়ায়: মধু মস্তিষ্কে ভালো প্রভাব ফেলে। আর দুধ মস্তিষ্ককে কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে। দুধ ও মধুর মিশ্রণটি মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

১৬। সর্দি কাশি ও স্বরভঙ্গে: চায়ের সাথে মধু ও আদার রস মিশিয়ে খেলে সর্দি কাশি দূর করে এবং কফ ও শ্লেষ্মা দূরিকরনে সহযোগীতা করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে খাঁটি মধুর সঙ্গে হরীতকী ও বচচূর্ণ মিশিয়ে লেহন করলে (চেটে খেলে) শ্বাসকষ্টের আশু উপকার পাওয়া যায়।

১৭। যক্ষ্মা রোগ দূর করে: বিশেষজ্ঞরা বলেন, আধাতোলা পেঁয়াজের রস, ২৫০ গ্রাম ঘি এবং ২৫০ গ্রাম মধু মিশিয়ে একটা পাত্রে রেখে দিয়ে প্রতিদিন সকাল বিকাল খেলে এবং প্রতি রাতে শোয়ার সময় চিনি দিয়ে অল্প পরিমাণ গরম দুধ খেলে ৪/৫ দিনের মধ্যে যক্ষ্মা ভালো হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ।

১৮। ক্ষতস্থান ভালো হয়: শরীরের বাইরের কোন অংশের ক্ষতস্থানে মধুর প্রলেপ লাগালে অনেক সময় মলমের চেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়।

১৯। শিশুদের দৈহিক গঠন: প্রত্যহ এক চা চামচ মধু গরম দুধ ও গরম পানির সঙ্গে নাশতা ও রাতের খাবারের সঙ্গে খাওয়ালে শিশু বাচ্চাদের দৈহিক গঠন উন্নত হয়।

২০। হৃদরোগ ভালো হয়: জার্মান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. ই কচ বলেছেন, উপযুক্ত ঘাস খেয়ে ঘোড়া যেমন তেজী হয় তেমনি নিয়মিত সকালে এক চা-চামচ করে খাঁটি মধু খেলে হৃদপিন্ড শক্তিশালী হয়। যা হার্ট স্টকের ঝুকি কমায়।

★ এছাড়াও বিশেষজ্ঞদের মতে মধুর হাজারো উপকারিতা রয়েছে, বর্তমান করোনা ভাইসে যেহেতু কাশি সর্দি শ্বাসকষ্টের উপসর্গ রয়েছে তাই নিয়ম নিতী অনুসরণ করে তিব্বে নববীর উপর বিশ্বাস রেখে সর্বদা মধু খেতে পারেন। (আমি খাওয়া শুরু করেছি) এতে করোনা ভাইরাসসহ সকল সংক্রমক ব্যাধি থেকেও মুক্তি পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।

 

চলবে——

মুফতি মুহাম্মদ উল্লাহ রিজওয়ান।
খতীব, উত্তর আদাবর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ
মুহাম্মদপুর – ঢাকা।

Sharing is caring!