সুস্বাস্থ্য ও চিকিৎসায় মহানবী (সাঃ)

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত এপ্রিল ১১, ২০২০
সুস্বাস্থ্য ও চিকিৎসায় মহানবী (সাঃ)

মুফতি মুহাম্মদ উল্লাহ রিজওয়ান:
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে অত্যন্ত মুহব্বত করে সৃষ্টি করেছেন এবং ইহকাল ও পরকালের পূর্নসফলতা অর্জন করার জন্য অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন।

যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনঃ
وان تعدوا نعمة الله لا تحصوها ان الله غفور رحيم
অর্থাৎ “এবং তোমরা যদি আল্লাহ তাআলার নিয়ামত গণনা কর, শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু। (সুরা নাহল, ১৮)

আর আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামত সমূহের মধ্যে অন্যতম ও সেরা নিয়ামত হল সুস্থতা। মানুষ অসুস্থ হলেই সুস্থতার মূল্য বুঝতে পারে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ সুস্থ অবস্থায় তার যথাযথ মূল্যায়ন করে না। তাই তো হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছেঃ

১। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ
ﻧِﻌْﻤَﺘَﺎﻥِ ﻣَﻐْﺒُﻮﻥٌ ﻓِﻴﻬِﻤَﺎ ﻛَﺜِﻴﺮٌ ﻣِﻦالناسﺍﻟﺼِّﺤَّﺔُ ﻭَﺍﻟْﻔَﺮَﺍﻍ .
অর্থাৎ দুটি নেয়ামত এমন যে ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ উদাসীন। তা হল, সুস্থতা ও অবসর সময়। (বুখারী শরীফ)

২।  হযরত উবাইদুল্লাহ ইবনে মিহসান খাত্বমী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ
مَنْ أَصْبَحَ مِنْكُمْ آمِنًا فِي سِرْبِهِ مُعَافًى فِي جَسَدِهِ عَندَهُ قُوتُ يَوْمِهِ فَكَأَنَّمَا حِيزَتْ لَهُ الدُّنْيَا
অর্থাৎ তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি তার ঘরে (অথবা গোত্রের লোকদের মাঝে) নিরাপদে ও সুস্থ শরীরে সকাল করে এবং তার কাছে সে দিনের খাদ্য সঞ্চিত থাকে তবে সে যেন পুরো দুনিয়াই লাভ করল। (সুনানে তিরমিযী )

৩। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে আরো একটি হাদীস বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ
اغْتَنِمْ خَمْسًا قَبْلَ خَمْسٍ : شَبَابَكَ قَبْلَ هَرَمِكَ ، وَصِحَّتَكَ قَبْلَ سَقَمِكَ ، وَغِنَاكَ قَبْلَ فَقْرِكَ ، وَفَرَاغَكَ قَبْلَ شُغْلِكَ ، وَحَيَاتَكَ قَبْلَ مَوْتِكَ ” .
অর্থাৎ তোমরা পাঁচটি জিনিসকে পাঁচটি জিনিস আসার পুর্বে গনিমতের অমূল্য সম্পদ মনে করো:
(১) যৌবনকে বার্ধক্য আসার পুর্বে।
(২) সুস্থতাকে অসুস্থ হওয়ার পুর্বে।
(৩) সচ্ছলতাকে দারিদ্র আসার পুর্বে।
(৪) অবসর সময়কে ব্যস্ততা আসার পুর্বে।
(৫) জীবনকে মৃত্যু আসার পুর্বে ।
(মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা)

৪। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে সুস্থতার জন্য দুআ করেছেন এবং তার উম্মতকে দুআ শিক্ষা দিয়েছেন। এ মর্মে অনেকগুলো হাদিস রয়েছে। তন্মধ্যে একটি হল:
اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَدَنِي ، اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي سَمْعِي ، اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَصَرِي ، لا إِلَهَ إِلا أَنْتَ
অর্থাৎ হে আল্লাহ, তুমি আমার শরীর সুস্থ ও নিরাপদ রাখো। হে আল্লাহ, তুমি আমার কান সুস্থ ও নিরাপদ রাখো। হে আল্লাহ, তুমি আমার চোখ সুস্থ ও নিরাপদ রাখো। তুমি ছাড়া কোন উপাস্য নাই। (আল-আদাবুল মুফরাদ)

৫।  তাছাড়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোগ-ব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভের জন্য  মধু, কালোজিরা, খেজুর, সুরমা, যাইতুন, তীন, মেহেদী, তালবিনা ও শিঙ্গা লাগানোসহ নানাবিধ চিকিৎসা  উপায়-উপকরণের দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

(বাকিটা ২য় পর্বে)

লেখক:
মুফতি মুহাম্মদ উল্লাহ রিজওয়ান
খতীবঃ উত্তর আদাবর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ
মুহাম্মদপুর – ঢাকা

Sharing is caring!