সিন্ডিকেট তৈরির খেলা চলছে বৃহত্তর নোয়াখালী আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে

আওয়ার বাংলাদেশ ডেস্ক ২৪
প্রকাশিত মার্চ ১৯, ২০২১
সিন্ডিকেট তৈরির খেলা চলছে বৃহত্তর নোয়াখালী আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে

দলীয় আনুগত্যের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলে নিজস্ব সিন্ডিকেট তৈরির খেলা চলছে বৃহত্তর নোয়াখালী আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে।

যার সিন্ডিকেট যত বেশি শক্তিশালী তার হাতেই টেন্ডার, চাঁদাবাজি, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ। তাই দলীয় নীতি-আদর্শের বাইরে বেরিয়ে দল ভারী করছেন অনেক নেতা। সিন্ডিকেটের আধিপত্য বিস্তারে দলের মধ্যেই সৃষ্টি করছেন বিভেদ, দ্বন্দ্ব-সংঘাত। প্রকাশ্যে অংশ নিচ্ছেন দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে।

এক্ষেত্রে অভিযোগের তির নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর দিকে। তার সঙ্গে আছেন ফেনীর আলোচিত সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী। এ দুজনের নেতৃত্বেই বৃহত্তর নোয়াখালীতে গড়ে উঠেছে ‘একরাম-নিজাম’ সিন্ডিকেট।

এ সিন্ডিকেটে জড়িতরাই এখন বৃহত্তর নোয়াখালীর ত্রাস। তাদের ‘লম্বা হাত’-এর থাবা সর্বত্র। এই বলয়ের বাইরে যারা আছেন, তারা ধোপে টিকছেন না। সরেজমিন অনুসন্ধান ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে মিলেছে এসব তথ্য।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় এক প্রবীণ নেতা বলেন, ‘২০০১ সালে একরামুল করিম চৌধুরীর বিদ্রোহের মুখে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর আমাদের ওবায়দুল কাদের একরামকে এমন ভয় পেয়েছে, সুন্দরবনের বাঘকেও এত ভয় পায় না। আর সে তো আওয়ামী লীগ করে না। সে করে একরাম লীগ। আওয়ামী লীগ পরে, আগে তার (একরামের) দল।’

প্রবীণ নেতার কথার সূত্র ধরে অনুসন্ধানে জানা গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটিতে যাদের নাম আছে তাদের অনেকেই বিতর্কিত।

নিজস্ব বলয় তৈরি করতে বিতর্কিত এ নেতাদের কাছে টেনেছেন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এমপি একরামুল করিম চৌধুরী। তৈরি করেছেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মমিন বিএসসি। এক সময় তিনি সুন্দলপুল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন। করতেন জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগ করেননি কখনো। একরামুল করিম তাকে দলে জায়গা দিয়েছেন। এখন জেলার সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ, বদলি ও টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার নাম-এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

তাদের আরও অভিযোগ, মওলা জিয়াউল হক লিটন মুসলিম লীগের জেলার ক্যাশিয়ার ছিলেন। তাকে যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে। জোট সরকারের আমলে সমান্তরাল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হাওয়া ভবনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখা যুবদল নেতা আতাউর রহমান মানিককে করা হয়েছে সহসভাপতি। কথিত মামা বাহিনীর প্রধান মাহমুদুর রহমান জাবেদ ওরফে মামা জাবেদকে করা হয়েছে সহসভাপতি।

খালেদ মঞ্জু শ্রমবিষয়ক সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে সোনাপুর বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। মঞ্জুর কোনো ব্যবসা বা চাকরি নেই। তারপরও কোটি কোটি টাকার মালিক।

উল্লিখিত অভিযোগ প্রসঙ্গে আব্দুল মমিন বিএসসি  বলেন, ‘আমি কবে বিএনপি করেছি সেটা কোনো কথা নয়। আমি একজন শিক্ষক। আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে প্রতিপক্ষ মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।’ খালেদ মঞ্জু বলেন, ‘আমি কোনো চাঁদাবাজি করি না। আমার ধান-চালের ব্যবসা আছে। পৈতৃক ও শ্বশুরবাড়ি থেকে আমি অনেক সম্পদ পেয়েছি।’

মওলা জিয়াউল হক লিটন বলেন, ‘আমার সম্পর্কে এলাকায় খোঁজখবর নিলেই পাবেন আমি কেমন লোক। আমার বিরুদ্ধে কেউ কোনো অভিযোগ তুলতে পারবে না। তবে মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার জাবেদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হয়। কিন্তু প্রতিবারই তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ছাড়া বৃহস্পতিবার জেহানের মোবাইলে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে নূরুল আমিন বলেন, কবিরহাটে আব্দুল মমিন বিএসসি ও কামাল কোম্পানি ছাড়া কেউ টেন্ডারের কজ করতে পারে না। আমাদেরও কোনো কাজ দেন না এমপি। সেক্ষেত্রে টেন্ডার সিন্ডিকেটে আমার জড়িত থাকার কোনো সুযোগ নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একরামুল হকের টেন্ডার সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা জাবেদ। গত এক যুগে নোয়াখালীতে কয়েক হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের কমিশন ভাগাভাগি করেছেন তারা। নোয়াখালীর ফোর লেন প্রকল্পের কাজ করা একজন ঠিকাদারের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে কমিশন দিতে বাধ্য করেছেন একরাম সিন্ডিকেটের সদস্যরা। পার্টি তহবিলের নামে এই কমিশন নেওয়া হয়। ফেনীর ওই ঠিকাদার কমিশন দিতে না-চাইলে কয়েক দফা কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন সিন্ডিকেট সদস্যরা।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, জাবেদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করেন হাতিয়ার রাহাত। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা পরিষদ নিয়ন্ত্রণ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সামসুদ্দিন জেহান।

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মাওলা জিয়াউল হক লিটন, এমপি একরামুল করিমের চাচাতো ভাই নূরুল আমিন রুমি সিন্ডিকেটে জড়িত। আর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ পিন্টু এমপির আশীর্বাদে নোয়াখালী জেলা ক্রীড়া সংস্থার উন্নয়ন কাজে রীতিমতো লুটপাট করেছেন। এ ছাড়াও জালিয়াতির মাধ্যমে বিআরটিএ অফিস থেকে সিএনজির রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়াসহ এ খাতের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও আছে পিন্টুর বিরুদ্ধে।

ক্রীড়া পরিষদের লুটপাট, টেন্ডার ও চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে পিন্টু বলেন, ‘ক্রীড়া পরিষদের টেন্ডার হয় ঢাকা থেকে। এখানে লুটপাটের কিছু নেই। আর সিএনজি থেকে আমরা কোনো চাঁদাবাজি করি না। উলটো আমি পকেট থেকে চালকদের সহযোগিতা করি।’

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এমপি একরামুলের দাপটের বিষয়টি বেরিয়ে আসে। তিনি বলেন, ‘ঢাকায় যাওয়ার পর নেত্রীর সঙ্গে সব সময় যে থাকে তিনি আমাকে বললেন, আপনি কেন ঢাকায় ঘুরছেন। আমি বললাম, আমাদের কমিটিটা দরকার।

তিনি বললেন, নোয়াখালী চালায় কে? আমি বললাম, নোয়াখালী চালাই আমি। তিনি বলেন, নেত্রী কি আপনাকে না-চালাতে বলছেন। আমি বলি, না। তিনি বলেন, নেত্রী জানেন আপনিই চালান নোয়াখালী। যান, আপনিই চালাতে থাকেন।’

এ ছাড়া আরেক অনুষ্ঠানে দেওয়া একরামুল করিম চৌধুরীর বক্তব্যে দলীয় আনুগত্যের প্রতি তাচ্ছিল্যের বিষয়টি স্পষ্ট করে তোলে। পৌর মেয়র শহিদুল্যাহ খান সোহেলকে ইঙ্গিত করে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি যা বলি স্পষ্ট ভাষায় বলি। সাবেক মেয়রকে মনোনয়ন দেওয়া হলে আমরা ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ কেউই তার ভোট করব না।’

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পৌর মেয়র শহিদুল্যাহ খান সোহেল বলেন, দলীয় জেলা সাধারণ সম্পাদকের কাছে এ ধরনের বক্তব্য কাম্য নয়। কারণ, দলীয় মনোনয়ন বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে কাকে মনোনয়ন দেবে, কাকে দেবে না। আর বোর্ডের প্রধান দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা।

এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে তিনি দলীয় সভানেত্রীকেই চ্যালেঞ্জ করেছেন, যা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল।

তবে সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে নই। দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার পক্ষেই ভোট করব। মেয়রের কিছু কুকর্মের জন্য তাকে সতর্ক করতে এমন বক্তব্য রেখেছিলাম। আর নোয়াখালীর রাজনীতির কন্ট্রোল আমার হাতে বলেই সবকিছুর কন্ট্রোল অটোমেটিক আমার হাতে চলে এসেছে। কারণ, নোয়াখালীতে কোনো গ্রুপিং নেই। নিজাম সাহেব ও আমার এলাকায় যে কেউ টেন্ডার জমা দিতে পারে। ই-টেন্ডারের এই যুগে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ কিংবা টেন্ডার বাণিজ্যের কোনো সুযোগ নেই।’

স্থানীয় পুলিশ, এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বৃহত্তর নোয়াখালীতে চলমান বড় উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার একরাম-নিজাম মিলে নিয়ন্ত্রণ করেন।

নোয়াখালী সদরের বাইরে আছে ‘একরাম-নিজাম’-এর আরেকটি বড় সিন্ডিকেট। ফেনী, নোয়াখালী, সন্দ্বীপ এলাকার অনেক জনপ্রতিনিধি এই সিন্ডিকেটে জড়িত। এদের মধ্যে আছেন দাগনভূঞা উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল করিম রতন, ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, সদ্য গ্রেফতার হওয়া কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, কাদের মির্জার ভাগিনা মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু ও রাহাত।

৫ কোটি থেকে শতকোটি টাকার কাজও নিয়ন্ত্রণ করে এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা। মাঝেমধ্যেই এরা নিজাম হাজারীর মাস্টার পাড়ার নির্মাণাধীন বাগানবাড়িতে বৈঠকে বসেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথের সব টেন্ডার ১৫-২০ শতাংশ কমিশন পান সিন্ডিকেট সদস্যরা।

সিন্ডিকেটের হয়ে এই দুই সেক্টরের সব কাজ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে আছেন ফেনী পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী।

এ প্রসঙ্গে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার কোনো লাইসেন্স নেই। আমি কোনো টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গেও জড়িত নই। ফেনীতে আমি একমাত্র ব্যক্তি যে এই সেক্টরে নেই। এমপি সাহেবের হয়ে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের একটা প্রমাণ দিতে পারলে আমি যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব।’

দাগনভূঞা উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল করিম রতন অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে মির্জা সাহেব যা খুশি বলেন। ইচ্ছা থাকলেও আমরা কিছু বলতে পারি না। আমি কোনো টেন্ডারের আগে-পিছে নেই। আমি রাজনীতি নিয়েই বেশি সময় কাটাই।’

সিন্ডিকেট তৈরি করে বৃহত্তর নোয়াখালী নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অস্বীকার করে সংসদ সদস্য নিজাম হাজারী যুগান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশর রাষ্ট্রনায়কের নিয়ন্ত্রণেই ফেনী চলে। জেলার সাধারণ সম্পাদক হিসাবে রাষ্ট্রনায়ক আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তাই রাজনৈতিক বিষয়গুলো আমি দেখি।

প্রধানমন্ত্রী যদি জেলা সেক্রেটারির পদ থেকে অব্যাহতি দিতে বলেন, তাহলে আজই আমি পদ ছেড়ে দলের কর্মী হিসেবে কাজ করব। আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। এখন যত টেন্ডার হয় সব ই-টেন্ডারিং। এটা নিয়ন্ত্রণের কিছু নেই। দেশ-বিদেশের যে কোনো জায়গায় বসে টেন্ডারে অংশ নেওয়া যায়। এখানে আমি কীভাবে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করব। আমি তো পারবই না। চিফ ইঞ্জিনিয়াররাও পারবেন না।’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে পাল্লা দিতে না-পেরে ‘সত্যবচন’ শুরু করেছেন আবদুল কাদের মির্জা। এই সিন্ডিকেটকে টেক্কা দিয়ে তিনি স্থানীয় উন্নয়ন কাজের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য করতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ আছে।

এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে দু-দফা বৈঠক করেও ৫ শতাংশ কমিশন ছাড়া কাজ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন মির্জা। এ ছাড়া ফেনী পৌরসভার সাবেক মেয়র আলাউদ্দিনকে মনোনয়ন পাইয়ে দিতে মোটা অঙ্কের অর্থের চুক্তি করেছিলেন কাদের মির্জা। এক্ষেত্রে অগ্রিম অর্থও নিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু একরাম-নিজামের তদবির ও দলীয় সাধারণ সম্পাদকের পছন্দের লোক হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পান স্বপন মিয়াজী। এরপর থেকেই একরাম-নিজাম ও স্বপনদের বিরুদ্ধে সত্যবচন শুরু করেন কাদের মির্জা। এ ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনোনয়নকেন্দ্রিক বাণিজ্য নিয়েও বিরোধ রয়েছে দুপক্ষের মধ্যে।

কোম্পানীগঞ্জের চর পার্বতীপুর ইউনিয়নে খোদ কাদের মির্জার ভাগনে মাহবুবুর রশীদ মঞ্জুকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে তাকে বাদ দিয়ে আরেকজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কোম্পানীগঞ্জের ৮টি ইউনিয়নের ক্ষেত্রেই তাই হয়। ফলে বঞ্চিতরা এক হয়ে কাদের মির্জার বিরুদ্ধে অবস্থান দেন। তখন কাদের মির্জা নিজের ভাগিনাদের বিরুদ্ধেও ‘সত্যবচন’ শুরু করেন।

পুলিশি কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বক্তব্য দেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে মির্জার দখল বাণিজ্য। দীর্ঘদিন তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানার সামনে সরকারি প্রায় তিন বিঘা জায়গা দখলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছেন।

এ কারণে তার রোষানলে পড়ে এক দশকে আটজন ওসিকে বদলি হতে হয়েছে। একজন ওসির এক মাস দায়িত্ব পালন করার নজিরও আছে। সরকারি জমি রক্ষা করতে বাধা দিলেই ওসিদের বদলি করে দেওয়া হয়। এ কারণে পুলিশ সুপার ও ওসিদের কাজ প্রশ্নবিদ্ধ করে বক্তব্য দেন কাদের মির্জা।

মনোনয়ন বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘আলাউদ্দিনকে মসজিদে ঢুকিয়ে জিজ্ঞাসা করেন আমার সঙ্গে তার কোনো চুক্তি হয়েছিল কি না। স্ত্রীর আত্মীয়স্বজনের কথায় ওবায়দুল কাদের সব কাজ করেন। আমার কথা তিনি শোনেন না। কাজেই আমি মনোনয়ন দেওয়ার চুক্তি করব কীভাবে। আমি চাকরি ও মনোনয়ন বাণিজ্যের সঙ্গে কোনোদিনও ছিলাম না।’

থানার জায়গা দখলচেষ্টার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘থানার সামনে একটি জায়গা আছে লম্বা। থানা সেখানে ঘর করার অনুমতি নিতে আমার কাছে এসেছিল। আমি দিইনি। তাই তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে।’

 

Sharing is caring!